Home জাতীয় মৌসুমি বায়ু সক্রিয়: খুলনাসহ সারাদেশে বৃষ্টি

মৌসুমি বায়ু সক্রিয়: খুলনাসহ সারাদেশে বৃষ্টি

26

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

বর্ষার বৃষ্টিতে সিক্ত খুলনাসহ সারাদেশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে পড়ায় বুধবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। এদিন সকাল থেকেই খুলনায় রিমঝিমধারা চলছে। দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু অধিক সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ভারি থেকে অধিক ভারি বৃষ্টির আভাসও দেয়া হয়েছে আবহাওয়া অফিস থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগে অতিভারি বর্ষণের প্রভাবে পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সাগর প্রবল উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে তারা জানিয়েছে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আমাদের ঢাকা অফিস প্রধান আসাদুজ্জামান ইমন জানিয়েছেন, রাজধানীতে বুধবার সকালে থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। কখনও ভারি ববার কখনও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা রয়েছে। এদিকে সকাল থেকে রাজধানীতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভ্যাপসা গরম অনেক কমেছে। ফলে জনমনে বেশ স্বস্তি ফিরেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে মৌসুমি বায়ুর কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে গত কয়েক দিনধরেই একধরনের ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি ছিল। আবহাওয়াবিদ মোঃ বজলুর রশিদ জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটা আরও বাড়বে। ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। ঢাকাতেও বর্ষণ বাড়বে। তবে থেমে বৃষ্টিপাত হবে। এই প্রবণতা থাকবে আগামী দুই থেকে তিনদিন। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম সিলেট ও বরিশাল বিভাগের ওপর অতি ভারি বর্ষণের আভাস দেয়া হয়েছে। এছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংলগ্ন মেঘালয় ও বরাক এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। ফলে এ সময়ে আপার মেঘনা অববাহিকার এবং দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার নদীসমূহের পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা এবং মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আর গঙ্গা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে আমাদের মোংলা প্রতিনিধি আবু হোসাইন সুমন জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালণশীল মেঘমালার কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত বুধবার বিকেল পর্যন্তও অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত সার, কয়লা, কিংকার, পাথর, গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ১৫টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের মালামাল ওঠানামার কাজ বিঘিœত হচ্ছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার ফখরউদ্দিন বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে বৃষ্টি কমলে পুনরায় কাজ শুরু হবে। কারণ বৃষ্টিতে সার ও কিংকার পণ্য খালাস করা যায় না। পানি লাগলে এ সকল পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে একটানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মোংলা পৌর শহরের পূর্ব কবরস্থানের কাজী সামছুল হক সড়ক, মিয়াপাড়া, মুন্সীপাড়াসহ শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি আটকে ঢুকে পড়ছে ঘর-বাড়ীতে। পৌরসভার তিন ওয়ার্ডের কাউন্সিল মো: ইউনুস আলী বলেন, বুধবার সকাল থেকেই পৌর মেয়র মো: জুলফিকার আলী ফোন করে বিভিন্ন এলাকার খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগও নিয়েছেন। এছাড়া বৃষ্টিতে এখানকার বেশ সংখ্যক চিংড়ি ঘেরও তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: তৌহিদুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ের প্রায় ৩শ চিংড়ি ঘের তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন চাষীরা।