Home আঞ্চলিক গোপালগঞ্জে সমন্বিত কৃষির নতুন সংযোজন: সাড়া জাগিয়েছে ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ

গোপালগঞ্জে সমন্বিত কৃষির নতুন সংযোজন: সাড়া জাগিয়েছে ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ

39

 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।

গোপালগঞ্জে অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমিতে সমন্বিত কৃষির আওতায় ডালি পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে সাড়া জাগিয়েছে কৃষি বিভাগ। পতিত ও জলাবদ্ধ জমি পরিষ্কার করে পানির ওপর ডালি স্থাপন করে চাষাবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। কৃষি বিভাগের এই নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এলাকার কৃষক।

কৃষি বিভাগ বলছে ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষে সফলতা মিলেছে। তাই আগামীতে ডালি পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রয়েছে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি বিল। এর মধ্যে পুবের বিলের অধিকাংশ জমি জলাবদ্ধ, পতিত ও অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকত। বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকা জমি আর শুকনা মৌসুমে হাঁটু বা কোমর সমান পানি থাকায় সেখানে কোনো ফসল উৎপাদন হতো না।

বিগত ৫০ বছর ধরে চাষাবাদ না হওয়ায় জমিগুলো পতিত বা অনাবাদি হয়ে ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার অতিমারির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশের কৃষি ও কৃষি বিভাগকে পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার ঘোষণা দেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচানী এলাকা টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার উন্নয়ন প্রতিনিধি খন্দকার শহীদ উল্লা খন্দকার ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা গ্রামের পুবের বিলে প্রধামন্ত্রীর পৈতৃক জমিতে বাঁশের তৈরি বানা দিয়ে ঘিরে মাছ চাষ শুরু হয়। একটি অংশে ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তার খাদে গোড়া পদ্ধতিতে ও ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, পানির ওপর বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ঝুলানো হয়েছে বাঁশ আর নেট দিয়ে তৈরি ডালি। তার ওপরে তৈরি করা হয়েছে নেটের তৈরি মাচা। সেখানে থরে থরে ঝুলছে লাউ, কুমড়া, ঝিঙে, ধুন্দলসহ নানা ধরনের সবজি। নতুন এই পদ্ধতিতে চাষ দেখতে প্রতিনিয়ত আসছেন এলাকার কৃষক। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রামের প্রসেনজিৎ দাস, তপন বিশ্বাস, পাথরঘাটা গ্রামের মধুমঙ্গল দাস, সামিউল ফকির বলেন, ‘আগামী বর্ষা মৌসুমে এই ডালি পদ্বতিতে তারা তাদের জলাবদ্ধ জমিতে চাষাবাদ করবেন। এই পদ্ধতি দেখে তারা অভিভূত হয়েছেন। তারা যদি তাদের অনাবাদি জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল ফলাতে পারেন তাহলে তারা লাভবান হতে পারবেন।’

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পতিত জমিতে যখন চাষাবাদ শুরু করি তখন এলাকার মানুষ আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করতেন। সেখানে আমরা ফসল ফলিয়ে সফল হয়েছি। আগামীতে ব্যাপক আকারে শুরু করব।’

গোপালগঞ্জ খামারবাড়ীর উপপরিচালক মো. আব্দুল কাদের সরদার বলেন, ‘ডালি পদ্ধতিটা গোপালগঞ্জে মডেল হিসেবে শুরু করা হয়েছে। শুধু টুঙ্গিপাড়া নয়, জেলার অন্য উপজেলায়ও শুরু করব।’

ভাসমান বেডে মসলা জাতীয় ফসল চাষ ও ডালি পদ্ধতির উদ্ভাবক ও প্রকল্প পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘ডালি পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না। কচুরি-পচা মাটিতে গাছ লাগানোর ফলে অর্গানিক সার পাওয়া যায়। আর এটা ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদন হয়। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রতিনিধি মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘এক ইঞ্চি জায়গাও ফাঁকা থাকবে না- প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আমি কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার পতিত ও জলাবদ্ধ জমি চাষের আওতায় আনতে কাজ শুরু করি। সবার সহযোগিতায় আশা করি আমরা সফল হয়েছি।’

জেলার জলাবদ্ধ পতিত জমিতে এমনিভাবে ডালি পদ্ধতি, গোড়া পদ্ধতি ও ভাসমান বেড়ে সবজি উৎপাদন করে এই অঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হবেন, এমনটি প্রত্যাশা কৃষি সংশ্লিষ্টদের।