কয়রা প্রতিনিধি।।
সুন্দরবনের জেলেদের মারধর ও ঘুষ আদায়ের অভিযোগে পশ্চিম সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) শ্যামা প্রসাদ রায় ও কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মামলার আরজিতে ছয়জন সাক্ষীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদার টাকা না দিলে বাদীকে বন্য প্রাণী হত্যা ও পাচার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন স্টেশন কর্মকর্তা—এ অভিযোগ করা হয়েছে আরজিতে।
গত বুধবার কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বনজীবী জেলে মো. কালাম গাজী বাদী হয়ে কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করলেও কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসেন আজ শনিবার বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা (এসও) শ্যামা প্রসাদ রায় ও কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বনজীবী জেলে–বাওয়ালিদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ২৫ মণ ধারণক্ষমতার একটি নৌকার জন্য ১৫ টাকা হারে রাজস্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তাঁরা দুজন মিলে একেকটি নৌকার অনুমতিপত্র (বিএলসি) নবায়নে ২ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করছেন। এ রকম ৯ শতাধিক নৌকা অনুমতিপত্র নবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কয়রা উপজেলার ৪ নম্বর কয়রা গ্রামের মুছানুর গাজীকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছেন শ্যামা প্রসাদ রায়।
————————————————————————————————
চাঁদার টাকা না দিলে বাদীকে বন্য প্রাণী হত্যা ও পাচার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন স্টেশন কর্মকর্তা—এ অভিযোগ করা হয়েছে আরজিতে।
————————————————————————————————
আরজিতে বাদী আরও উল্লেখ করেন, তাঁর নিজেরও একটি নৌকার অনুমতিপত্র রয়েছে। তিনি কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনে গিয়ে কর্মকর্তাকে অনুমতিপত্র নবায়নের অনুরোধ করলে একটি ভুয়া নাম-ঠিকানা দেখিয়ে তাঁর নামে বন আইনে মামলা আছে বলে নবায়ন করবেন না বলে জানান। গত ২৫ জুলাই ছিল নৌকাটির সুন্দরবনে প্রবেশের বার্ষিক অনুমতিপত্র নবায়নের শেষ দিন। ওই দিন সিপিজি সদস্য বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে নৌকার অনুমতিপত্র দেওয়ার কথা বলে তাঁকে এবং কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বনজীবী জেলে মিজানুর রহমানকে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনে ডেকে নিয়ে জানানো হয়, তাঁদের বিরুদ্ধে হরিণ শিকারের মামলা রয়েছে। এ জন্য দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন স্টেশন কর্মকর্তা। এ সময় টাকা দিতে না চাওয়ায় স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় ও সিপিজি সদস্য বিল্লাল হোসেন তাঁদের বেদম প্রহার করেন। এতে তাঁরা মারাত্মক আহত হন। মামলার সাক্ষীরা ফরেস্ট স্টেশন থেকে তাঁদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় আজ বলেন, ‘গত বছর আমার স্টেশনের আওতায় ৯৭৫টি বনজীবী নৌকার অনুমতিপত্র ছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় সুন্দরবনকেন্দ্রিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় ৪৪টি অনুমতিপত্র এ বছর নবায়ন না করে বাতিল করেছি। এই বাদপড়া অপরাধীরা ষড়যন্ত্র করে আমাকে হয়রানি করতে মিথ্যা একটি গল্প সাজিয়ে মামলা করেছে। ভালো কাজ করতে গেলে যদি এভাবে বাধা আসে, তাহলে অনেক সময় কাজের আগ্রহ হারিয়ে যায়। তবে শুনেছি, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্ত করবেন। আমি আশাবাদী, এতে সঠিক বিষয়টি উঠে আসবে। আমরা আইনগতভাবেই সবকিছু মোকাবিলা করব।’











































