Home আঞ্চলিক খুলনায় বেকারত্বের অভিশাপের মুক্তিতে ফুডপান্ডা

খুলনায় বেকারত্বের অভিশাপের মুক্তিতে ফুডপান্ডা

12

শাহ তানভীর আহমেদ

শহুরে জীবনে পুরো দিনটাই কোনো না কোনো কাজের মধ্য দিয়ে পার হয়ে যায়।এর মাঝে আবার অফিসের কাজ বাকি আছে ভেবে বাহিরেও যেতে পারছেন না কিংবা বন্ধুদের সাথে আছেন কিন্তু আপনার পছন্দের রেস্টুরেন্টের দূরত্ব বেশী। তাতে কি! আপনি চাইলে এখন আপনার খুলনা শহরে বাসায় বসে, নিজ পছন্দের খাবারটি পেতে পারেন। আর এ সবকিছু সম্ভব হয়েছে ফুডপান্ডার মাধ্যমে।

ফুডপান্ডা হলো অনলাইনে খাবার অর্ডার করার এক ধরনের ব্র্যান্ড বা কোম্পানি। এটির প্রধান সদর দপ্তর জার্মানির বার্লিন শহরে অবস্থিত, যা বাংলাদেশসহ আরো ১০টি দেশে অনলাইনে খাবারের অর্ডার গ্রহণ ও ডেলিভারির কাজ করে থাকে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জার্মানির ডেলিভারি হিরো নামক প্রতিষ্ঠানটি ফুডপান্ডা গ্রুপকে কিনে নেয় এবং বর্তমানে এটি তাদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে। ফুডপান্ডা বাংলাদেশের প্রায় ১৮টি শহরে সেবা দিচ্ছে, গেল ২০১৯ সালের ৩০ জুন শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনায় ৬২টা অর্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফুডপান্ডা। বর্তমানে জনপ্রিয়তায় ৪ হাজারের উপর অর্ডার রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ফলে একদিকে যেমন নিজেদের টার্গেট পুরণে সক্ষম হয়েছে ঠিক অন্যদিকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলেছে হাজারের কাছাকাছি যুবকের। শুধু যে শিক্ষিত বেকাররাই এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে তা কিন্তু নয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীরা ফুডপান্ডার সহযোগিতায় খুঁজে পেয়েছে স্বনির্ভর হওয়ার ঠিকানা। পড়াশোনার পাশাপাশি রাইডারের কাজের মাধ্যমে মাসে তারা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজারের উপরে আয় করছেন।

কথা হয় ফুডপান্ডার রাইডার রাযহান কবিরের সাথে। কেমন আছেন; ফুডপান্ডায় প্রশ্ন করলে, তিনি বলেন বর্তমানে চাকুরি যেন সোনার হরিন। বিভিন্ন দপ্তরে ছুটতে ছুটতে যখন কান্ত হয়ে পড়েছিলাম। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তখন মুক্তির পথ দেখিয়েছে ফুডপান্ডা। এখন বেশ ভালোই আছি। মাসিক আয়ের টাকায় ভালোভাবেই জীবন চলছে। শুধু কবির নয় একই জবাব দিয়েছেন হৃদয় হাসান, রোকনুজ্জামান রনি, নাইম রহমানও।

রাইডারদের মাধ্যমে জানতে পারলাম সোনাডাঙ্গার স্বপ্নের ঠিকানা বাড়ির গৃহিনী শারমিন আফরোজ তাদের নিয়মিত একজন গ্রাহক। মোবাইলে যোগাযোগ করলে মিসেস শারমিন বলেন, আসলে ফুডপান্ডা আমাদের ব্যস্ত জীবনে অনেকটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। হোটেলে যাবার প্রয়োজন হয় না- অর্ডার দিলেই খাবার বাসায় পৌছে যায়। বাসায় মেহমান আসলে আর রান্নাঘরে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না। গল্পের মাঝেই ওরা খাবার পৌছে দেয়। বলতে পারেন লাইফ এখন অনেকটা সহজ হয়েছে।

খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত ফুডপান্ডার কার্যালয়ে মুল দায়িত্বে রয়েছেন তামিম সরকার। কথা হয় তার সাথে; রাইডার এখন কতজন আছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রায় ৬শ’র বেশি রাইডার রয়েছে। কিভাবে তারা খাবার সরবরাহ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাইডারদের অর্ধেক বাইসাইকেল আর বাকিরা মোটরবাইকের মাধ্যমে গ্রহকদের চাহিদা অনুযারি খাবার সরবরাহ করেন। এছাড়া অফিসে ১১জন কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন। তামিম সরকার নিজে সিটি ম্যানেজার, তৌফিক রাসেল এ্যরিয়া ম্যানেজার, মোহাম্মাদ সালমান রাইডার রিক্রটার,খালিদ আদনান সিয়াম এ্যকাউন্ট ম্যানেজার এবং তামজিদ হাসান ফিলিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।

অপর এক প্রশ্নে  মুলতঃ খুলনা নগরবাসির খাদ্যাবাস সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, সকালের খাবার থেকে শুরু করে রাতের খাবারের সামগ্রি পৌছে দেয়া হয়। এছাড়া দুপুরের খাবার আর সন্ধ্যার নাস্তা তো আছেই। যদি কোন কাইড সুন্দবনের খাঁটি মধু বা বাসার রান্নার মসলার চাহিদা থাকে তবে ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ তাও সরবরাহ করেন।