Home জাতীয় চট্টগ্রামের রাজনীতিতে উত্তাপ : বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে উত্তাপ : বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা

15

ঢাকা অফিস।।
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই এখানকার রাজনীতির মাঠ হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ বুধবার বিকালে দুই দলের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি কার্যালয় ভাঙচুর যেন এই উত্তাপে ঘি ঢেলেছে। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামীও এখানে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। যদিও তাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। কেন্দ্র ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি নিয়ে ফেরার পথে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে নগরের লালখান বাজার এলাকায় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর চালায়। পরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নগরের কাজীর দেউড়িতে অবস্থিত বিএনপি’র মহানগর কার্যালয়ে হামলা চালায়। বিএনপি-আওয়ামী লীগের এই সংঘর্ষে মোট ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১২ জন বিএনপি’র নেতাকর্মী।

আর তিন জন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পাল্টাপাল্টি এই ঘটনায় বেশ কয়েকটা যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়। আর সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের এই ঘটনায় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা  বলেন, লালখানবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আরিফুর রহমান নামে একজন বাদী হয়ে বিএনপি’র অজ্ঞাতনামা আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আর পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। এরমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে বুধবারের এই সংঘর্ষের ঘটনায় শহরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে নগরের লালদীঘি পাড় সংলগ্ন জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ-সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া বুধবার রাতে চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন বাচ্চু বিএনপি’র হামলায় তার ১৯ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে এই সংঘাতের পেছনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দায়ী বলে অভিযোগ করেন।
মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘বিএনপি’র কর্মসূচি শেষে আমীর খসরু তার গাড়িতে করে আমার এই নির্বাচন অফিস দেখিয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে হেসে হেসে চলে যাচ্ছিলেন। তিনি চেনা মুখ, তাই এখানকার নিরাপত্তা প্রহরীরা তাকে দেখেছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই বিএনপি’র নেতাকর্মীরা হামলা করেন। তার নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে কি, হয়নি আমরা জানি না। আমাদের সন্দেহ তার নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে।’

বুধবারের সংঘাতের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী। নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা গেছেন ঢাকায়। আটক করা হয়েছে ২০ জন নেতাকর্মীকে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে কেন্দ্র ঘোষিত শোক র‍্যালি পুলিশের বাধায় করতে পারেনি তারা।

এই বিষয়ে নগর বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমাদের নেতাকর্মীরা অফিসের সামনে এসেছিল। তবে পুলিশ আমাদেরকে র‍্যালি করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে সংঘাত এড়াতে আমরা শোক র‍্যালি করিনি। তবে কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছি। এতে নগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক এম আজিজ, ইয়াসিন চৌধুরী লিটনসহ কয়েকজন নেতা বক্তব্য রাখেন। আর শুক্রবার বিকাল ৩টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

বুধবারের সংঘাতের বিষয়ে নগর বিএনপি’র আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) বুধবার পরিকল্পিতভাবেই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে। তাদের হামলায় আমাদের ৮-১০ জন নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। অনেক গাড়ি ভাঙচুর করেছে, লুটপাট করেছে। পুলিশের সামনেই এসব হয়েছে। সবকিছুর সিসিটিভি ফুটেজ আছে, ভিডিও আছে। এরপরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি। অথচ এখন আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। গতকালকেই আমাদের ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।’ বিএনপি’র সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চসিক’র সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন  বলেন, বিএনপি’র লোকজন সংঘাত তৈরির উদ্দেশ্যেই গত বুধবার ন্যক্কারজনকভাবে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা আজ বিকাল ৩টায় জেলা পরিষদের সামনে সমাবেশ ডেকেছি। আমরা তো সহনশীলতায় বিশ্বাসী। আমরা চাই তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করুক।