
ডুমুরিয়ায় উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা
বাংলাদেশী আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক ডুমুরিয়া উপজেলার প্রত্যেকটা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন কমিটি গঠন, সংগঠনের গতিশীল বৃদ্ধি, জামাত বিএনপি’র নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকার আহবানে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা যুবলীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভা দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষের সভাপতিত্বে ও এ্যাড: আশরাফুল আলম রাজু ও শেখ ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান জামাল। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার লক্ষ্যে যে সকল অপশক্তি নৈরাজ্যের সৃষ্টি করবে, তাদের সকল কর্মকান্ডকে অতিতের ন্যায় যুবলীগ রাজপথে থেকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবে। এছাড়া আওয়ামী যুবলীগ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে তরাণি¦ত কারার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করে যাবে। অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জামিল খান, জেলা যুবলীগ নেতা সরদার জাকির হোসেন, জলিল তালুকদার, মোল্যা সোহেল রানা। আরো বক্তব্য দেন, অরিন্দম মল্লিক, অভিজিৎ কুন্ডু টুটুল, মাহমুদ খান, মেহেদী মাসুদ, বিকাশ মন্ডল, আরজান সানা, আবু দাউদ মোড়ল, বিশ্বনাথ দে, রাজিউল বারী সৈকত, ব্রজেন সরকার, প্রসূন বিশ্বাস পম্পি, আব্দুল হালিম সরদার ও তুষার কান্তি মন্ডল। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারন সম্পাদক এম এম সুলতান আহমেদ প্রমুখ।
মোংলায় খালে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, ফাঁটল ধরেছে আশপাশের জমি ও বাড়িঘরে
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলায় সরকারী খালে আত্মঘাতী ড্রেজার বসিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করায় ফাঁটল ধরে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে আশপাশের জমি ও বসত ঘরবাড়ী।এনিয়ে সেখানে মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। এদিকে সরকারী খালে আত্মঘাতী ড্রেজার বসানো ও আশপাশের লোকজনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা বাজার সংলগ্ন সরকারী পুটিমারী খালে (এক সময়ের নদী) আত্মঘাতী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর জোছনা বেগমের ভাগ্নে মানিক। আর মানিককে সরকারী খাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান একরাম ইজারদার।
বেআইনিভাবে বালু উত্তোলণের বিষয়ে ড্রেজার মালিক মানিক বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান একরাম ইজারদার খাল থেকে বালু উত্তোলন করে রাস্তায় দেয়ার জন্য বলেছেন, তার কথা মতই কাজ করছি।
সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান একরাম ইজারদার বলেন, সরকারী খাল থেকে বালু উত্তোলনও করা যাবে, আর উত্তোলিত বালু রাস্তায়ও দেয়া যাবে।
রাস্তায় মুলত কেনা ধুলা বালু (শুকনো ঝরঝরে বালু) দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে খালের কাঁদা মাটি। এনিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মাঝেও।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো: জাফর রানা বলেন, উত্তর বাঁশতলায় ২৭শ ফুট (১ কিলোমিটার) ইটের সোলিং রাস্তা সংস্কারের জন্য ৯/১০ মেট্টিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ওই রাস্তায় কেনা বালু দিতে হবে, আত্মঘাতী ড্রেজারের মাটি দেয়ার কথা না। এমন করছে আমার জানা নেই, এমন কাজ করা হলে খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাস্তার ঠিকাদার শহিদুল ফকির বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান একরাম ইজারদার ও পিআইও জাফর রানা যেভাবে বলেছেন আমি সেভাবেই কাজ করাচ্ছি।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসী আলমগীর শেখ, মালেকা বেগম, মাহিরা বেগমসহ আরো নারী-পুরুষ অভিযোগ করে বলেন, আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় খালের পাড়ের জমি ও বাড়ীঘরের মধ্যে ফাঁটল ধরেছে। এর প্রতিবাদে গ্রামবাসী মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিন্তু তারপরও প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় বহাল তবিয়তে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজ। মুলত চেয়ারম্যানের দাপটের কাছে অনেকটা অসহায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা বলেও অভিযোগ গ্রামবাসীর। প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়ার বক্তব্য শুধু মুখে মুখেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারী খালে আত্মঘাতী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন যা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখে অতিসত্বর ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর দাশ বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।
বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা মহানগর নেতা কামাল ও কাশেমের রোগ মুক্তি কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি
বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল ও অর্থ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের উভয়ের আশু রোগ মুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা মহানগর নেতৃবৃন্দ। বিবৃতি প্রদানকারী নেতৃবৃন্দ হলেন সংগঠনের খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এম আসাদুজ্জামান মুন্না, সহ সভাপতি মোঃ মহিদুল ইসলাম নান্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লিয়াকত আলী, মোঃ মনিরুজ্জামান মিন্টু, মোঃ সালাম মোড়ল, হুমায়ুন কবীর নিয়াজী, মোঃ জাহিদুল ইসলাম হিরু, এম আলমগীর হোসেন (ভি ডি এল এম এফ পি), মোঃ সুমন সেলিম, সঞ্চিতা রায়, মোঃ ফিরোজ মিয়া, শ্রীমান ননী বাবু, এ্যাডঃ কাইফা জামান সুমনা, শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মশিউর রহমান মিলন, মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ গোলাম মোস্তফা কবীর,মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি, ফরহাদ হোসেন, কাজী দাউদুল হক, মোঃ রকিবুল ইসলাম, সোনিয়া নাজনীন লাজ, নিভা বিশ্বাস, কমান্ডার কাজী আলী আজম, নিরুপমা রায়, শিউলি আক্তার, আনোয়ারুল ইসলাম, ডাঃ সেলিম রেজা, মোঃ ইমতিয়াজ আহম্মেদ, মোঃ ইজাজ আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম, লিটন মোল্যা, ৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি আলহাজ্ব ইব্রাহীম হোসেন টুকু, সাধারন সম্পাদক শেখ সেনু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন, মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদ আলী, মোঃ ইসমাইল, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ সেকেন্দার আলী, প্রবীর বাবু, মাহাবুবুর রহমান, মোঃ সুমন, ইঞ্জিঃ শান্তুনু বৈরাগী, মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মোঃ মাছুম বিল্লাহ, মোঃ ইফতিখার হোসেন দিপু, মোঃ নুর ইসলাম, বিশ্বজীত কুমার মন্ডলসহ সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।
যশোরে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টায় সরোয়ার পুলিশের খাচায়
শহিদুল ইসলাম দইচ যশোর।।
যশোর, যশোরে সরোয়ার হোসেন(৪৫) নামে ব্যাক্ত এক শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করতে যেয়ে গণপিটুনির স্বীকার হয়েছে।গড়নপিটুনিতে আহত সরোয়ার এখন যশোর জেনারেল হাসপাতালে সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সরোয়ার সদর উপজেলার লেবুতলা দক্ষিণ পাড়ার জহির বিশ্বাসের ছেলে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে লেবুতলা জহির চেয়ারম্যানের কাঠাল বাগানে এঘটনাটি ঘটেছে
। প্রতাক্ষদর্শি ও পুলিশ জানায় লেবুতলা দক্ষিন পাড়ায় একটি শিশু মেয়েকে ফশলিয়ে কাঠাল বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে । এসময় মেয়েটির ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে সরোয়ারকে গনপিটুনি দেয়। পরে আবার স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
জানতে চাইলে সার্জারী ও অর্থোডেস্ক বিভাগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বজলুর রশিদ টুলু বলেন ২৪ ঘন্টা পার না হওয়া পযন্ত রুগির অবস্থা বলা যাবে না। জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক ( অপারেশন) আলঙ্গীর হোসেন বলেন। এঘটনায় সরোয়ারকে আটক করে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রামপালের বাঁশতলী ইউপি’র কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা বয়স্ক ভাতার কার্ড বিতরণ
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়া ৭০ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় ১৬৯ জন বয়স্ক ও বিধবাদের মাঝে ভাতার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ১০ নং বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা প্রদান ও বয়স্ক, বিধবা ভাতার কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম। মো. শেখ আল আমিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মো. আবু সাইদ, আবুল কালাম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার হাফিজুর রহমান, ভোজপাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তরফদার মাহাফুজুল হক টুকু, ইসলামাবাদ ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান খান, গিলাতলা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার পাল, গিলাতলা হাজী আরিফ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্রনাথ পাল, বাঁশতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজারাদার ফিরোজ আহমেদ, চন্ডিতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র পাল, ফাতিমাতুজ্জোহরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. গোলাম ফারুক, উপজেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদি, অভিভাবক সালাউদ্দিন সোহাগ, শিক্ষার্থী শ্রাবন্ত পাল, জান্নাতুন ফেরদৌস মুমু প্রমুখ। আয়োজক সভাপতি ও বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, আমরা পরিষদের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে এ ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছি। আমরা জঙ্গিবাদ মুক্ত, মাদক মুক্ত একটি ইউনিয়ন পরিষদ উপহার দিতে কাজ করছি। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও যারা এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সাথে আমরা একটি যোগসূত্র তৈরি করতে এমন মহতি কাজ হাতে নিয়েছি। মেধা বিকাশে আমরা সকলকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবো। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া যাতে থেমে না যায় এজন্য আমি দায়িত্ব পালন করে যাবো। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
রামপাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো আবু সাইদ বলেন অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। আপনার সন্তান কি করে, কোথায় যায়, কার সাথে মেলামেশা করে ? এগুলো দেখতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে দয়া করে মোবাইল ফোন তুলে দিবেন না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন ভালো রেজাল্ট করেছে এজন্য বাবা-মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অবদান রেখেছেন। এ জন্য সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। এমন মহতী অনুষ্ঠান আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে। এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ বলেন সরকার পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগীতা করা হবে।
জালিয়াতির মামলার আসামি টেরা মোস্ত গ্রেফতার
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বটিয়াঘাটা উপজেলার কেএম,পির লবনচরা থানার শীর্ষসন্ত্রাসী, হত্যা, নারী নির্যাতন,অস্ত্র, অপহরণ,ভূমি জালিয়াতি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি গোলাম মোস্তফা ওরফে টেরা মোস্ত (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে মহানগরীর লবনচরা থানা পুলিশ। সে ওই এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র। গত ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় কেএমপির লবনচরা থানার একটি বিশেষ টিম ১৪/১২ নং মামলায় গ্রেফতার করলে তারই স্বীকোরক্তি মোতাবেক লবনচরা থানা পুলিশ বান্ধাবাজার এলাকা থেকে মাদক ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার করে তাকে। এব্যাপারে লবনচরা থানার ১৫ নং মামলা দায়ের হয়েছে । উল্লেখ্য উক্ত মোস্তর এ বিরুদ্ধে বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির কিছু নেতাদের সহযোগিতায় জাল-জালিয়াতি দলিল তৈরী সহ একাধিক ২৩ টির মতো মামলা রয়েছে।
বাগেরহাটে ৩১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৮৬ কি.মি. সড়ক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের ৮৬ কিলোমিটার সড়ক উদ্বোধন করবেন প্রাধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সারাদেশে ২ হাজার কিলোমিটার সড়ক উদ্বোধনের সাথে ভার্চুয়ালি বাগেরহাটের এই সড়কগুলোও উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
বাগেরহাটের সড়কগুলো হচ্ছে নওয়াপাড়া-বাগেরহাট-পিরোজপুর সড়কের ৩৯ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, বাগেরহাট-চিতলমারী ২৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, চিতলমারী-পাটগাতী(টুঙ্গিপাড়া) সড়কের ১৩ দশমিক ৮০ কিলোমিটার এবং পিঙ্গুরিয়া-তেলিগাতী-হেরমা-রামপাল-মোংলা সড়কের ৮ কিলোমিটার। এসব সড়ক নির্মানে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩‘শ ১৫ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে নওয়াপাড়া-বাগেরহাট-পিরোজপুর সড়কের জন্য ১৩৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা, বাগেরহাট-চিতলমারী সড়কের জন্য ১২৮ কোটি ২১ লক্ষ টাকা এবং পিঙ্গুরিয়া-হেরমা সড়কে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা।দীর্ঘদিন পরে হলেও নতুন সড়ক নির্মান, সড়ক প্রসস্তকরণ ও সড়ক সংস্কারে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা, গাড়ি চালক ও যাত্রীরা।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতি ইউনিয়নের ঢুলিগাতি গ্রামের সেরাজ উদ্দিন ফকির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের আশাছিল তেলিগাতী থেকে হেরমা পর্যন্ত বড় পাকা (পিচ ঢালাই) রাস্তা হবে। অনেকবার অনেকের মুখে শুনেছি রাস্তা পাশ হয়েছে। কিন্তু রাস্তা আর হয়না। আমাদের ৫০ বছরের অবসান শেষ হয়েছে। এখন বাড়ির সামনেই বড় পাকা রাস্তা, ইচ্ছেমত সব জায়গায় যাওয়া যায়। খুবই ভাল লাগে।
সেরাজ উদ্দিন ফকিরের সুরে সুর মিলিয়ে রহিমা বেগম নামের এক নারী বলেন, এই তো দুই বছর আগেও বছরের অন্তত ৬ মাস অন্তত দুই-তিন কিলোমিটার কাঁদা মাড়িয়ে অথবা নৌকা করে যেয়ে তারপর বড় রাস্তায় উঠতে হত। এখন বাড়ির সামনেই ভ্যান, অটো, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পন্য পরিবহনের জন্য ট্রাক সবকিছু পাওয়া যায়। শুনেছি বাসও চালু হবে। তখন আরও ভাল হবে।
বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের যাত্রীবাহী বাস চালক আকিব মোল্লা রাসেল বলেন, একটা সময় ছিল নওয়াপাড়া থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত খুব ভাঙ্গা ছিল। গাড়ি চালাতে অতিরিক্ত কষ্ট হত, আবার বাসের চাকাসহ অন্যান্য পার্সও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। রাস্তা সংস্কার করার পর এখন গাড়ি চালিয়ে যেমন ভাল লাগে, তেমনি গাড়ির তেলও সাশ্রয় হয়।
বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকি বলেন, বাগেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার ও নতুন করে নির্মান করায় সবার সুবিধা হয়েছে। তবে মহাসড়কে বাকগুলো সোজা করতে পারলে আরও সুবিধা হত বলে মন্তব্য করেন মালিক সমিতির এই নেতা।
সড়ক বিভাগ, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, বাগেরহাটের অনেক সড়কের কাজ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার সড়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। এসব সড়ক নির্মানের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এসব এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার পিঙ্গুরিয়া-হেরমা সড়কটি এলাকার মানুষের স্বপ্নের সড়ক ছিল। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে এই সড়কের নির্মান কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছি। এই সড়ক নির্মান হওয়ায় এলাকার মানুষ অনেক খুশি হয়েছে। সর্বোপরি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে। এই সড়কসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এই সংসদ সদস্য।
বাণিজ্যিক উৎপাদনে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যু কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হওয়া শুরু করেছে। শনিবার ( ১৭ ডিসেম্বর) রাত থেকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়েছে।জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা। তবে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত নীতিবাচক প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত পরিবেশকর্মী ও সচেতন মহল।
রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুফল রামপাল ও বাগেরহাটবাসী পেতে শুরু করেছে। এই কেন্দ্রের ফলে এলাকার মানুষ নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পাবে। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি ও বিপুল পরিমাণ বেকার জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান হবে বলে দাবি করেন তিনি।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম বলেন, প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৬০ মেগাওয়াট গোপালগঞ্জের আমিন বাজার হয়ে ঢাকার জাতীয় গ্রিডে এবং ২০০ মেগাওয়াট খুলনা-বাগেরহাটে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের ৭৯.৩৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে । সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্বিতীয় ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াটের কাজ সম্পন্ন হবে। ২০২৩ সালের জুন মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার বলেন, ধীরে ধীরে মেশিনের কার্যক্রম বাড়াচ্ছি, আমাদের দ্বীতিয় ইউনিট চালু হলে স্থানীয় বিদ্যুতের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ একরাম উল্লাহ বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছি । পরিবেশ গত দিক বিবেচনা করে সবধরণের কারিগরি কাজ করা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপশি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি লিঃ এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীনে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান শুরু হয় । রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী কৈ-গর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়।
বাগেরহাটে রিকের উদ্যোগে শীত বস্ত্র বিতরন
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
বাগেরহাটে বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) উদ্যোগে ও প্রবীণ কল্যান কর্মসূচির আওতায় প্রবীণদের মাঝে শতাধিক শীত বস্ত্র (কম্বল) বিতরন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে (২০ ডিসেম্বর ) রিকের বাগেরহাট এরিয়া অফিসের হলরুমে প্রবীণ ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি শেখ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিতে ও রিকের এরিয়া ম্যানেজার মোঃ ইনছান আলীর পরিচালনায় শীত বস্ত্র বিতরনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তর, বাগেরহাট এর সহকারী পরিচালক মোঃ মমিনুর রহমান। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রিকের জেড,এম (খুলনা জোন) মোঃ এমদাদুল হক, প্রবীণ সংঙ্গের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ ফারুক রহমান। বস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বাগেরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শওকত হোসেন রিকের বাগেরহাট সদর শাখার ম্যানেজার শেখ সোহেল রানা প্রবীণ ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রমুখ। উক্ত অনুষ্ঠানে বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) প্রবীণ কল্যান কর্মসূচির আওতায় প্রবীণদের বিভিন্ন ইউনিয়নের সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকের মাঝে শতাধিক শীত বস্ত্র (কম্বল) বিতরন করেন।
রামপালে প্রাথমিকে ৩৬ প্রধান শিক্ষক পদে কেউ নেই
রামপাল প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ১২৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৬৯ টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ টিতে প্রধান শিক্ষক, ৬৫ টিতে সহকারী শিক্ষক ও প্রাক প্রাথমিকের সৃজনকৃত ৬৭ টি পদের বিপরীতে এই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এ ছাড়াও সুমা রানী পাল নামের এক সহকারী শিক্ষিকা অননুমোদিত ছুটি ছাড়া গত ইংরেজি ০৪-০৭-২০১৮ সাল থেকে নিরুদ্দেশ রয়েছেন।
রামপাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অবসর জনিত কারণে ৩৬ জন প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। প্রতি মাসেই ২/১ জন শিক্ষক অবসর নিচ্ছেন। এ ছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক মৃত্যুবরণও করেছেন।
উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মোট ৪৯ টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দপ্তরে চালাচালি হলেও দীর্ঘ ৮/১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হচ্ছে না। শতকরা ৬৫ ভাগ প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেয়ার কথা থাকলেও সেটি ঝুলে রয়েছে। এ ছাড়াও সরাসরি শতকরা ৩৫ ভাগ সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দানের বিষয়টিও ঝুলে আছে দীর্ঘ দিন।
উপজেলার প্রাক প্রাথমিকে ৬৭ টি পদ সৃজন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রদান করেননি। এ উপজেলায় ৬৭ টি বেসরকারি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকের কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। কোন কোন বিদ্যালয়ে বদলি হওয়া কিছু শিক্ষক প্রাক প্রাথমিকের শিশুদের পাঠ দান করে আসছেন। অন্য বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দ্বারা পাঠদান করানো হচ্ছে। সরকারের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা একটি শুভ উদ্যোগ। এটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শুধুমাত্র প্রাকের উপযোগী শিক্ষক না থাকায়।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ বলেন, শিশুদের পাঠদান বা মানসিক বিকাশ শুরু হয় প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা থেকে। এটাকে যুগোপযোগী করতে হলে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দিতে হবে প্রাক প্রাথমিকে। এছাড়াও অনেকগুলো প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ বন্ধ থাকায় সহকারী শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এতে শিক্ষার মানে ত্রুটি থেকেই যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানের দাবি করেন এই নেতা।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, নতুন করে সরকার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। সকল শূন্য পদের বিপরীতে জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রাক প্রাথমিকের শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ খুবই জরুরী। কারণ এখন থেকে মূলত শিশুদের মেধা বিকাশ শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এ জন্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
রামপালের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড বিতরণ
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা:বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এসএসসিতে এ প¬াস পাওয়া ৭০ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় ১৬৯ জন বয়স্ক ও বিধবাদের মাঝে ভাতার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা প্রদান ও বয়স্ক, বিধবা ভাতার কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম। মো. শেখ আল আমিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মো. আবু সাইদ, আবুল কালাম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার হাফিজুর রহমান, ভোজপাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তরফদার মাহাফুজুল হক টুকু, ইসলামাবাদ ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান খান, গিলাতলা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার পাল, গিলাতলা হাজী আরিফ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্রনাথ পাল, বাঁশতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজারাদার ফিরোজ আহমেদ, চন্ডিতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র পাল, ফাতিমাতুজ্জোহরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. গোলাম ফারুক, উপজেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদি, অভিভাবক সালাউদ্দিন সোহাগ, শিক্ষার্থী শ্রাবন্ত পাল, জান্নাতুন ফেরদৌস মুমু প্রমুখ।
আয়োজক সভাপতি ও বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, আমরা পরিষদের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে এ ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছি। আমরা জঙ্গিবাদ মুক্ত, মাদক মুক্ত একটি ইউনিয়ন পরিষদ উপহার দিতে কাজ করছি। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও যারা এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সাথে আমরা একটি যোগসূত্র তৈরি করতে এমন মহতি কাজ হাতে নিয়েছি। মেধা বিকাশে আমরা সকলকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবো। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া যাতে থেমে না যায় এজন্য আমি দায়িত্ব পালন করে যাবো। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
রামপাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো আবু সাইদ বলেন অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। আপনার সন্তান কি করে, কোথায় যায়, কার সাথে মেলামেশা করে ? এগুলো দেখতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে দয়া করে মোবাইল ফোন তুলে দিবেন না।
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিবুল আলম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন ভালো রেজাল্ট করেছে এজন্য বাবা-মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অবদান রেখেছেন। এ জন্য সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। এমন মহতী অনুষ্ঠান আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে। এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ বলেন সরকার পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগীতা করা হবে।
পলিথিনমুক্ত গ্রাম গড়তে চার যুবকের উদ্যোগ
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
গ্রামের প্রতিটি বাড়ি আঙিনায় পলিথিনের স্তুপ। নোংরা আর আবর্জনায় ভরা। এ আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। খালে-বিলে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। এ দুষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ফসল এবং ফসলি জমি। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিবেককে। বিবেক মজুমদার (৩৮) পেশায় একজন সবজি ও মৎস্য চাষী। বাস করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খড়মখালী গ্রামে।
বিবেক মজুমদার বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় দেখি অব্যবহৃত পলিথিন মাটিতে পড়ে ময়লা-আবর্জনায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। যা খালে-বিলে ও ফসলের জমিতে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল।
ঘটনাটি আমাকে খুব ব্যথিত করে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের গ্রামের দেবাশিষ রানা, প্রভাষ মন্ডল ও প্রসাদ মজুমদারের সাথে আলাপ করি। দীর্ঘ আলাচনা শেষে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহন করি যে গ্রামের প্রতিটি ঘরে, রাস্তার মোড়ে, দোকানের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে প¬াস্টিকের বস্তা ঝুলিয়ে দিব। সেই বস্তায় মানুষেরা ব্যবহার শেষে তাঁদের পলিথিন গুলো ফেলেবে এবং প্রতি সপ্তাহে সেগুলো আমরা একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলব।
কথানুযায়ী আমরা পৌঁছে দিয়েছি প¬াস্টিকের বস্তা। গ্রামের মানুষ সচেতন হয়েছেন। তাঁরা সাচ্ছন্দে বিভিন্ন ধরনের পলিথিনের প্যাকেট ব্যবহার শেষে বস্তায় ভরে রাখছে। এখন আগের চেয়ে অনেকটাই পলিথিন মুক্ত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আশাকরি আমাদের এ কার্যক্রম সফল হলে আগামীতে আমার উপজেলা ব্যাপী এ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। ভবিষ্যতে আমাদের উপজেলা পলিথিন ও দূষণমুক্ত হবে।’
খড়মখালী গ্রামের বৃদ্ধা কল্যানী বাড়ই বলেন, ‘চার যুবকের এ উদ্যোগ প্রসংশনীয়। গ্রামের গৃহবধুরাও পলিথিনের কুফল সম্পর্কে জেনেছে।বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরাও সচেতন হচ্ছে। এ ভাবে চললে একদিন অবশ্যই চার যুবকের চেষ্টা সার্থক হবে।’
মোরেলগঞ্জে প্রতারণার অভিযোগে নারী আটক
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আসমা আক্তার মনিরা(২৮) নামে এক নারীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। রবিবার বেলা ১২টার দিকে পৌরসভার আদর্শপাড়ার থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। আটক মনিরা বেগম ওই এলাকার বহু লোককে বিদেশ পাঠানো, চাকুরি দেওয়া, ঘর, পানির ট্যাংক ও গরু দেওয়ার কথা বলে ২০-২৫ জনের নিকট থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ৬ মাস ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। পাওনাদাররা রবিবার তাকে ওই মহল্লায় পেয়ে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। সে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামের রুস্তুম আলী মোল্লার মেয়ে।
জানা গেছে, আসমা আক্তার আদর্শপাড়া এলাকায় জনৈক আব্দুল আলিমের বাড়িতে ১৩ বছর ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন। এই সুবাদে ওই এলাকার লোকদেরকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে সে টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়াও আসমা আক্তার ২০১৭ সাল থেকে বাগেরহাট পিসি কলেজের মহিলা হোস্টেলের কাছে জাহানারা মঞ্জিলে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সেখানে তার স্বামী মামুন জেমাদ্দার আসা যাওয়া করেন বলে বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জাহানারা বেগম জানিয়েছেন।
জাহানারা বেগম বলেন, আসমা বাগেরহাটেও অনেকের নিকট থেকে প্রতারণার আশ্রয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এসব বিষয়ে আটক আসমা আক্তার বলেন, যে কোন কারণে টাকা নিয়েছি, আবার ফেরত দিয়ে দেব। মামুনের কাছে সব টাকা দিয়েছি। আমি নিজেও প্রতারিত হয়েছি। মামুন জোমাদ্দার বারইখালী গ্রামের ইউসুব আলী জোমাদ্দারের ছেলে বলে আসমা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান বলেন, আসমা আক্তারকে জনরোষ থেকে রক্ষা করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপসায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির ইন্তেকাল
রূপসা প্রতিনিধি
রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, নারিকেলী চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব শেখ নজরুল ইসলাম (৭২) স্ট্রোক জনিত কারনে ইন্তেকাল করেছেন ইন্নালিল্লাহি…….রাজিউন। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে তিনি ২০ ডিসেম্বর বিকেলে বাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। শিক্ষক নজরুল ইসলাম আজীবন চিরকুমার ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যুতে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ডাবলুসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।
ফকিরহাটে চতুর্থ ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে চতুর্থ ডোজ/২য় বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম মঙ্গলবার (২০শে ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্বোধন করেন
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ্ মো. মহিবুল্লাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাহিদ সুজা। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দেবরাজ মিত্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ। এসময় সিনিয়র নার্স কমলা বসু, এমটিইপিআই মো, কামাল হোসেন সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মি, গনমাধ্যমকর্মি ও ৪র্থ ডোজ টিকা নিতে আসা লোকজন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ্ মো. মহিবুল্লাহ বলেন, এই কার্যক্রমের আওতায় যারা থাকবেন অর্থাৎ যারা ২য় বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহন করতে পারবেন তারা হলেন-৬০ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগ আক্রান্ত ১৮বছর এবং তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, স্বল্প রোগে প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জনগোষ্ঠী, গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মা এবং সম্মূসারির যোদ্ধা। সকলকে ফাইজারের টিকা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।
ফকিরহাটে বড়দিন উপলক্ষ্যে কেককাটা ও কম্বল বিতরণ
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটের মুলঘর ইউনিয়নের কলকলিয়া আশীর্বাদ এ.জি স্কুল ও হোপ সেন্টারের উদ্যোগে প্রাক বড়দিন উদযাপন উপলক্ষ্যে কেককাটা ও শিক্ষার্থীদের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০শে ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় কেকাকাটা ও কম্বল বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা পালক শ্যামূয়েল সরকার (তরুন) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ হীটলার গোলদার। অনুষ্ঠানে আর্ োউপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য মহাদেব বিশ্বাস, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা আল্লাদী রানী বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাধুরী মন্ডল, শিক্ষিকা মমতা মন্ডল, তমাল সরকার ও প্রনব বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে ৯০জন শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র স্বরুপ কম্বল বিতরণ করা হয়। এবং শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফকিরহাটে সংঘাত নিরসনে যুব নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের সমাপণী
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার (২০শে ডিসেম্বর) সংঘাত নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক তিনদিন ব্যাপি প্রশিক্ষণের সমাপনি ও সনদ প্রদান করা হয়েছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্টের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ২৩জন ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডরদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষক ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ট্রেইনার তুহিন আফরোজ। সমাপনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিএফজির ফকিরহাট উপজেলা সমন্বয়কারী খান মাহমুদ আরিফুল হক। এসময় অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ প্রদান করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু, সহকারী ব্যবস্থাপক সুকমল মন্ডল, ইউথ মবিলাইজার মোস্তাহিদুল ইসলাম, পিএফজি অ্যাম্বাসেডর শেখ আব্দুস ছালাম প্রমূখ।
দাকোপে ব্র্যাকের উদ্যোগে পৃথক দু’টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপে বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচীর আওতায় পৃথক দু’টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে ১২-১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের মাঝে তথ্য কার্ড বিতরন করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য বিজলী বৈরাগী উপস্থিত থেকে কিশোরীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন। এ সময় ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সহায়তা কর্মকর্তা সালমা আকতারসহ এলাকার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। তথ্য কার্ডে সকল কিশোরীর ১৮ বছর বয়স পূর্ন হওয়ার তারিখ উল্লেখসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দাকোপ থানা এবং ব্র্যাকের হেল্প লাইন নাম্বার দেওয়া হয়। অপরদিকে একই কর্মসূচীর আওতায় সোমবার উপজেলার লক্ষিখোলা পল্লী সমাজ কেন্দ্রে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কিশোর কিশোরীদের ইতিবাচক আচারনে উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। ১২-১৭ বয়সী ২০ জন কিশোর কিশোরী প্রশিক্ষনে অংশ নেন। ব্র্যাকের মোঃ তরিকুল ইসলাম প্রশিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সহায়তা কর্মকর্তা সালমা আকতারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দাকোপে শীতবস্ত্র এবং সেলাই মেশিন বিতরন
মোঃ শামীম হোসেন – বাজুয়া ( দাকোপ)
খুলনার দাকোপের খাটাইলে শুকতারা মৎস্য চাষি সমবায় সমিতির উদ্যোগে শীতবস্ত্র কম্বল এবং সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠনের কার্যালয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে সমিতির সদস্য এবং এলাকার হতদরিদ্রদের হাতে কম্বল ও সেলাই মেশিন তুলে দেন। শুকতারা মৎস্য চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি আজগর হোসেন ছাব্বিরের সভাপতিত্বে বিতরন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ৭১ টিভির খুলনা বিভাগীয় প্রধান রকিব উদ্দিন পান্নু, পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ, দাকোপ থানার এস আই সুশান্ত কুমার দাস, ইউপি সদস্য হানজালা শেখ, শহীদুল ইসলাম এবং বাবু।
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বাস্তবায়ন বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সংলাপ
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় বে-সরকারি উন্নয়ন সং¯’া ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং আইনি সুরক্ষা কর্মসূচীর আওতায় ‘অধিকার এখানে, এখনই-২’ প্রকল্পের আয়োজনে যৌন ও প্রজনন স্বা¯’্য সেবা অধিকার বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ডুমুরিয়া অফিসার্স ক্লাবে যুব জনগোষ্ঠী ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে আয়োজিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ জিল্লুর রহমান। সার্বিক আয়োজনে ছিলেন ব্র্যাকের ডি ওয়াই এম শিখা রানী। সংলাপে উপ¯ি’ত ছিলেন শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, তপতি গাইন, সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়ল, এস রফিকুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান, সুজিত মল্লিক, গাজী আব্দুল কুদ্দুস, সুব্রত কুমার ফৌজদার, শেখ আব্দুস সালাম, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খুররম হোসেন, ইয়ুথ আফজাল হোসেন শেখ, ইশতিয়াক মাহমুদ, ছাত্র রাব্বি ইসলাম, বিপুল বিশ্বাস, চরিতা বিশ্বাস, তনুশ্রী বিশ্বাস প্রমুখ। সংলাপে কিশোর কিশোরীদের বয়োঃসন্ধি কালে বিভিন্ন সমস্যা ও সমস্যা উত্তরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সংলাপ শেষে ৫ জন ইয়ুথ কে চ্যাম্পিয়ন ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের চেক প্রদান
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের চলন্ত ট্রেনে সকল শ্রেণির মানুষ এখন যাত্রী। আওয়ামী লীগের গন্তব্য সুষ্ঠু সুন্দর জীবন মানে পৌঁছান। আর এই চলন্ত ট্রেনে অদ্বিতীয় চালক মানবতার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় অসুস্থ নেতা-কর্মীদের জন্য তাঁর মন কাঁদে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের অসহায়, দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের প্রতি সর্বদা আন্তরিক। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে খুলনা দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে প্রদত্ত ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু’র সহযোগিতায় দলীয় অসুস্থ নেতা-কর্মীদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন অসুস্থ মানুষদের সুস্থ করার জন্য চিকিৎসা বাবদ অনুদান প্রদান করা মহতি উদ্যোগ। বর্তমান সরকারের আমলে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য যেভাবে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ব্যতিত কোন সরকার তা দিতে পারেনি। তিনি সকলের নিকট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনার জন্য দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন খুলনা জেলা যুবলীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগ। খুলনা জেলা কৃষক লীগের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুলের সভাপতিত্বে ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ পারভেজ হাওলাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান রিপন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিকুজ্জামান অশোক, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জামিল খান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন, উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগ নেতা সরদার জাকির হোসেন, এবিএম কামরুজ্জামান, খান আবু সাঈদ, শামীম সরকার, হারুন আর রশীদ, মাহফুজুর রহমান সোহাগ, জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আবু সাঈদ খান, তানভীর রহমান আকাশ, মৃণাল কান্তি বাছাড়, আশিকুজ্জামান তানভীর, কাজী নাজিব, চিশতী নাজমুল বাসার সম্রাট, শিমুল দেবনাথ, মফিজুর রহমান মুন্না, রুবেল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম বাপ্পি, শেখ শাকিল, রবিউল ইসলাম টিটু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৩জন উপকারভোগী দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের মোট ৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ।
রামপালে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সভা
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
রামপাল স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের উপর সহিংসতা বন্ধে ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় উপজেলা সদর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা ও এ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় অ্যাক্টিভিস্টা রামপালের উদ্যোগ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইয়ুথ লিডার স্বপ্নচূড়া’র শুক্লা মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা শেফা। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা, বাঁধণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী খোন্দকার মুসফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মল্লিক, সুজন মজুমদার, প্রকল্প কর্মকর্তা সানি যুবায়ের, স্বপ্নচূড়া ইয়ুথ গ্রুপের সভাপতি তমা ইসলাম, জয়িতা রানী, নাজমা আক্তার, প্রদ্যুত মন্ডল, শিক্ষক সমীর অধিকারী, ওসমান, শরিফুল প্রমুখ। বক্তারা জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।
মোংলা বন্দর হাসপাতালে দন্ত ইউনিটের উদ্বোধন
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব হাসপাতালে দন্ত ইউনিট চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বন্দর হাসপাতালে এ দন্ত ইউনিটের উদ্বোধন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মুসা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ শাহিনুর আলম ও বন্দর হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল হামিদসহ অন্যান্যরা।
ডাঃ মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, মোংলা বন্দর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলেও এ পর্যন্ত কোন দন্ত ইউনিট না থাকায় বন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ হাসপাতালে দন্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে এখন হাসপাতালে দন্ত ইউনিট চালু হওয়ায় মোংলা বন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ তাদের পোষ্যরা এই বন্দর হাসপাতালেই দন্ত রোগের সকল চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ডেন্টাল ইউনিটে বিজ্ঞ সার্জন দিয়ে ছুটির দিন বাদে বাকী সকল দিনই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে পারবেন এ হাসপাতালে।
খুলনায় হামলা-মামলা ও গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মাঝে বকুলের সহায়তা প্রদান
স্টাফ রিপোর্টার
গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে সফল করাকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরী ও জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এবং পুলিশের স্মরণকালের ন্যাক্কারজনক হামলা-মামলা এবং গ্রেফতারকৃত প্রায় দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে ধারাবাহিক ভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সম্মানিত সদস্য আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল।
উল্লেখ্য, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর পাঁচ থানায় অসংখ্য মিথ্যা, বানোয়াট, গায়েবী মামলা দায়ের করে বিএনপির খুলনা মহানগর ও জেলার অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে এবং এখনো গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। হামলা-মামলা এবং গ্রেফতারে পর্যুদস্ত এসব নেতাকর্মীদের সিংহভাগই হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য। খুলনা মহানগরী ও জেলা বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মী এবং এসকল পরিবারের সদস্যদের এমন দুঃসময়ে তাদের পাশে দাড়িয়েছেন তরুণ উদীয়মান মানবিক বিএনপি নেতা আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল।
গ্রেফতারকৃত সকল নেতাদের জন্য জেলখানায় পিসিতে (প্রিজনারস ক্যান্টিন) এপর্যন্ত কয়েক দফায় তিনি নগদ অর্থ প্রেরণ করেছেন। সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ন্যাক্কার জনক হামলায় আহত দলীয় নেতাকর্মীদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যেই খুলনা নগরীর পাঁচ থানায় পুলিশের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় খুলনা মহানগরী ও জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের ঢাকা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বতীকালীন জামিনের জন্য পুরো আইনি ব্যবস্থা তিনি নিশ্চিত করেছেন। দলের যেসকল নেতাকর্মী আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত এবং যারা শাসকগোষ্ঠী ও পুলিশি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের সার্বিক খোজখবর নেওয়া এবং তাদের বাড়িতে নগদ অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সামগ্রী তিনি পৌছে দিচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার ২০ ডিসেম্বর কারাবন্দী খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার অন্তর্গত ১০নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের নয়াবাটি ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সুমন, ১৫নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ইউনিটের সভাপতি ফারুক, দৌলতপুর থানার ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের বাসায় নগদ অর্থ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, আটা, তেল, লবণ প্রভৃতি উপহার হিসেবে প্রেরণ করেন।
এসময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক স ম আব্দুর রহমান, শেখ সাদী, আহবায়ক কমিটির সদস্য মুরশিদ কামাল, শেখ ইমাম হোসেন, হাবিব বিশ্বাস, আনসার আলী, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মতলুবুর রহমান মিতুল, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বিল্লাল হোসেন, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেন, ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী একরাম মিন্টু, বাবুল মুন্সী, নগর যুবদলের সহ সভাপতি ইঞ্জিঃ শাহিনউদ্দীন, নগর সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাসির আল মামুন, খালিশপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম বাচ্চু, সদস্য সচিব আলাউদ্দিন তালুকদার, বোরহানউদ্দীন সেতু, খালিশপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সদস্য তুহিনুল ইসলাম, এম এম আর জয়, দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের আহবায়ক আল আমিন লিটন প্রমুখ।
শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচি
তথ্য বিবরণী
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী ২১ ডিসেম্বর সকাল নয়টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রান্ত থেকে যুক্ত হয়ে দেশের ৫১টি জেলার বিভিন্ন স্থানের দুই হাজার কিলোমিটার উন্নয়নকৃত মহাসড়কের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। প্রতিমন্ত্রী দুপুরে ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করবেন।
খুলনায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা
তথ্য বিবরণী
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বানিয়াখালী বাজারে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পণ্যের মোড়কে বিক্রয় মূল্য লেখা না থাকায় জয় মা এন্টারপ্রাইজকে তিন হাজার টাকা, আর কে স্টোরকে দুই হাজার টাকা, মূল্য তালিকা না থাকায় রিপা মিষ্টান্ন ভান্ডারকে দুই হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ন ঔষধ রাখায় জনতা ফার্মেসীকে পাঁচ হাজার টাকা এবং ফ্রিজে ময়াদোত্তীর্ন কোমল পানীয় রাখায় মোজাফ্ফর স্টোরকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন দোকানে তদারকি করা হয়।
এ অভিযানকালে সকলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণের জন্য নিদের্শনা প্রদান করা হয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে লিফলেট ও প্যামপ্লেট বিতরণ করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মহেশপুরে ৬দিন ব্যাপী আবৃত্তি কর্মশালার উদ্বোধন
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৬দিন ব্যাপী প্রযোজনা ভিত্তিক আবৃত্তি কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মহেশপুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত ৬দিন ব্যাপী প্রযোজনা ভিত্তিক আবৃত্তি কর্মশালার উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ শফিকুল আজম খান চঞ্চল।
বনলতা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক পথিক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬দিন ব্যাপী প্রযোজনা ভিত্তিক আবৃত্তি কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী, পৌর ল্যাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম খাইরুল আনাম,পৌর মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোজাফর হোসেন, নিউ চিলন্ডেন গ্রেস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুকুমার চ্যাটারজি,প্রভাষক নিখিল কুমার পাল, কবি মিঠু হাফিজ প্রমুখ।
নড়াইলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি
মোঃ তাহের, নড়াইল
নড়াইলে হঠাৎ করে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্স। এ হাসপাতালে শিশু শয্যা সংখ্যা ২২ টি। তবে এখন পর্যন্ত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। গত ২ মাস ধরে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের নিউমোনিয়া রোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এত বেশি সংখ্যক রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রোগীর স্বজনেরা জানিয়েছেন, বেড না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় আমাদের ঠাঁই হয়েছে। সুস্থ হতে এসে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছি। হাসপাতালে শিশু শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। নড়াইল সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আলিমুজ্জামান সেতু জানান, শিশুদের নিউমোনিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসক-নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে নিউমোনিয়ার রোগী অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে শীত পড়তে শুরু করায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
নলতা মাঠে আ’লীগের লাখো জনতার সমাবেশ উপলক্ষে ব্যপক প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিনিধি
ঐতিহাসিক গনতন্ত্রের বিজয় দিবস উৎযাপন উপলক্ষে আগামী ৭ই জানুয়ারি নলতা কলেজ মাঠে লাখো জনতার সমাবেশে উপলক্ষে ব্যপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। এ উপলক্ষে নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৭ই জানুয়ারি শনিবার নলতা আহ্ছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজ মাঠে এক জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষে কয়েক দফায় প্রস্তুত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সমন্বয়কারী নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম জানান, গনতন্ত্রের বিজয় দিবস উৎযাপন উপলক্ষে নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করি। এখানে লক্ষাধীক মানুষের অংশ গ্রহন থাকবে বলে আশা করছি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির সাথে দাওয়াতের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্মরণকালের শ্রেষ্ট সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রচার দরকার সেজন্য লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার প্রস্তুত হচ্ছে। সকলের সহযোগীতায় একটি সুন্দর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। যেহেতু বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে সে জন্য সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথা রেখে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা দরকার। আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করব। তিনি আরো জানান, উক্ত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মাননীয় কৃষি মন্ত্রী, ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সাতক্ষীরার উন্নয়নের রুপকার, সাবেক সফল স্বাস্থ্য মন্ত্রী, আলহাজ্ব অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম রুহুর হক এমপি।
এদিকে, ঐতিহাসিক গনতন্ত্রের বিজয় দিবস উৎযাপন উপলক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সে সাথে কাজের ব্যস্থতা বাড়তে শুরু করেছে।
প্রয়াত ডা. মো: সওকাত আলী লস্কর এর স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাক্টিশনার্স এসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ), খুলনা জেলা শাখা ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ), খুলনা জেলা ও বিভাগীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বায়ো গ্রুপের চেয়ারম্যান, সিটি ইমেজিং সেন্টার, কিওর হোম জেনারেল হাসপাতালের গরীবের চিকিৎসক খ্যাতনামা প্রয়াত ডা. মো: সওকাত আলী লস্কর এর স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয় বিপিএমপিএ ও বিপিএইচসিডিওএ, নিজস্ব কার্য়ালয়, জে. এইচ. শান্তা টাওয়ার ১৭/২, কেডিএ এভিনিউ, ময়লাপোতা, খুলনায়।
প্রয়াত ডা. মো: সওকাত আলী লস্কর এর আত্মার প্রতি মাগফিরাত ও তাঁর স্মৃতি চারণ করেন বিপিএমপিএ ও বিপিএইচসিডিওএ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. গাজী মিজানুর রহমান। সহ-সভাপতিবৃন্দরা ডা. আর. কে নাথ, ডা. মো: বোরহান উদ্দিন আহমেদ, ডা. এম. আর. খান, ডা. মো: মোস্তফা কামাল, কোষাধ্যক্ষ ডা. এম. এ. হান্নান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বঙ্গ কমল বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. গৌতম রায়, দপ্তর-সম্পাদক ডা. এম. বি. জামান, শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ডা. কাজি হাফিজুর রহমান, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মো: মাহমুদ হাসান লেনিন, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক ডা. বিশ^জিৎ সরকার, সমাজ কল্যান সম্পাদক ডা. মো. আব্দুস সবুর, চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহীন নওরোজী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. অপু লরেন্স বিশ^াস, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ডা. আবু মো: মঈনউদ্দিন-আল-আমিন, এছাড়া কার্যকরী পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দরা হলেন ডা. সৈয়েদা জাহানারা মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. মনোজ কুমার বোস, ডা. কানিজ ফাহমিদা, ডা. মোল্লা হারুন-অর-রশীদ, ডা. চন্দন কুমার সাহা, ডা. অনুপ কুমার দে, ডা. নুরসেরাত আহমেদ, ডা. আরিফা রহমান, ডা. মো: রকিবুল ইসলাম ও প্রয়াত ডা. মো: সওকাত আলী লস্কর এর সহধর্মনী মিসেস ফারজানা বেগম, বড় মেয়ে ডা. নাজদান লস্কর, মেজ মেয়ে ডা. নাস্তারান লস্কর, ছোট মেয়ে ডা. নাদমিন লস্কর, মেজ ভাই জনাব মো: সুজাত আলী লস্কর, মেজ ভাই জনাব মো: শমশের আলী লস্কর ২৪নং ওর্য়াড কাউন্সিলর খুলনা সিটি কর্পোরেশন, ছোট ভাই মো: সাহাবুদ্দিন লস্কর ধীরা ম্যানেজিং ডিরেক্টর জি.ও. প্রোপারটিজ লিমিটেড ঢাকা ও সহ সরকারি-বেসরকারি বিপুল সংখ্যক সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দ। অনরুপ স্মরণ সভায় স্মৃতি চারণ ও উপস্থিত ছিলেন বিপিএইচসিডিওএ, খুলনা জেলা শাখার দপ্তর-সম্পাদক মো: রুহুল আমিন, মিডিয়া ও জনসংযোগ সম্পাদক সাংবাদিক ফারুক আহমেদ, সমাজ কল্যান সম্পাদক ডা. বিশ^জিৎ সরকার, চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সৈয়েদা জাহানারা মাহমুদ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব কুমার বিশ^াস, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড: মো: রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কার্যকরী পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ডা. এ.টি.এম মঞ্জুর মোর্শেদ, ডা. জগবন্ধু দাশ, অসিত বরণ বিশ^াস, শামিম আরা নীলা, পাপিয়া সরোয়ার শিউলি, বিধান চন্দ্র বিশ^াস, খন্দকার আহসান উল্লাহ, মীর মনিরুজ্জামান এবং সহ খুলনা জেলার শাখার সম্মানিত সদস্য প্রতিষ্ঠানের সদস্যবৃন্দ।
খুলনা জেলা কৃষক লীগ নেতা শিশিরের মায়ের স্মরণে দোয়া
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলা কৃষক লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিশিরের মাতা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আলহাজ্ব ফজলুর রহমানের স্ত্রী মোসাঃ সাহিদা বেগম (৮৫) এর স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাদ আছর নগরীর হাজী ইসমাইল ২নং ক্রস রোডস্থ শেখপাড়া এলাকার বাসভবনে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শেখেরগা জামে মসজিদ খতীব মুফতি মাওলানা মারুফ বিল¬াহ।
দোয়া অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে এমদাদুল হক সুমন, মোঃ হাতেম আলী, দপ্তর সম্পাদক আল মাহমুদ প্রিন্স, ১৯নং ওয়ার্ড মহিলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক লাকি আক্তার, জেলা কৃষক লীগের সদস্য গাজী আব্দুর রাজ্জাক সোহেল, ওয়ার্ড মহিলা আ’লীগ নেত্রী মেহজাবিন, মাকছুদা খানম রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উলে¬খ্য, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ১৯ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৪টয় নগরীর একটি বে-সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
রাস্তার পাশেই ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী-এলাকাবাসী
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট সদর উপজেলার মাঝিডাঙ্গা এলাকায় সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা এনে ফেলা হয় সেখানে। রাস্তার পাশের এ ময়লার স্তূপ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধে চরম বিপাকে পথচারীসহ পৌরবাসী।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ জুন ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাগেরহাট পৌরসভার আবর্জনা অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ডাম্পিং প্লেস নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে সাড়ে তিন বছরে জমি অধিগ্রহণ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। খোলা জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, শিগগির পরিবেশবান্ধব গারবেজ সেন্টারের কাজ শুরু করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ পোলঘাট সড়কের পাশে মাঝিডাঙ্গা এলাকাজুড়ে ময়লার স্তূপ। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা এনে সেখানে ফেলা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে দিনের পর দিন পৌরসভা থেকে এসব ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নাকে কাপড় ছাড়া কিংবা নিশ্বাস বন্ধ না করে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল একেবারে অসম্ভব। ময়লার স্তূপ প্রতিনিয়ত যে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাতে দূষিত হচ্ছে আশেপাশের পরিবেশ। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি পথচারীরা নাক ঢেকে চলাচল করতে পারলেও মাঝিডাঙ্গা এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে যারা বসবাস করেন তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রচণ্ড দুর্গন্ধে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ওই পথ দিয়ে নিমমিত চলাচল করা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কাজের জন্য এই পথ দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। এখানে ময়লা ফেলায় পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। কারও পক্ষে নিশ্বাস নিয়ে এ রাস্তা পার হওয়া সম্ভব নয়। আমরা নাক বন্ধ করেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করি।
মাঝিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা কামরুন্নাহার বলেন, এই এলাকা এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধে খুবই কষ্ট হয় আমাদের। বৃষ্টির সময় ময়লাযুক্ত পানি রাস্তায় চলে আসে। ওই সময় আমাদের বাড়িঘরেও ময়লা প্রবেশ করে। তখন বাড়িতে থাকা দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়।
শেফালি বেগম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। তাতেও গন্ধ যায় না। খুবই অসহায় লাগে। মনে হয় ঘরবাড়ি বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যাই।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা জামিলা খাতুন বলেন, আমাকে এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। বাগেরহাট শহরে এর চেয়ে আর নোংরা ও দুর্গন্ধ যুক্ত যায়গা কোথাও নেই। রাস্তার পাশে খোলা স্থানে ময়লা-আবর্জনা রাখার জন্য এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের শরীরে নানা ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, পৌরসভা নিজস্ব আইনে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। তারাই এর ব্যবস্থা নেবে। তবে কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা পৌরসভাকে চিঠি দেব।
বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান বলেন, পৌরসভার আবর্জনা অপসারণ এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা পাঁছ একর জমি কিনেছি। ওই জমির চারদিকে উঁচু দেওয়াল দিয়ে পৌরসভার বর্জ্যকে আধুনিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে। এখানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, কম্পোস্ট সার প্ল্যান্ট, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। দুই মাসের মধ্যে এসব কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার আবর্জনার দুর্গন্ধ যাতে না ছড়ায় সেজন্য নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়। এছাড়া রাস্তার ওপর ময়লা এলে তা ভেতরে নিয়ে ফেলা হয়। সব মিলিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতে কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করা হচ্ছে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট চালু হলে এসব সমস্যা থাকবে না।
কারিগরি শিক্ষা// অভিভাবকদের অনীহায় আগ্রহ হারাচ্ছে সাতক্ষীরার মেধাবীরা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সময়ের সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থারও পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে চাহিদা থাকায় সরকারও এখন দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে কারিগরি শিক্ষার প্রতি এখনো আগ্রহী নন সাতক্ষীরার বেশিরভাগ অভিভাবক। যে কারণে জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের বড় অংশই কারিগরি শিক্ষায় আসছে না। সাতক্ষীরা ভোকেশনাল স্কুল, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিটিসিসহ কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রের ছাত্র, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, জেলার কারিগরি শিক্ষা নিয়ে এখনো রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এছাড়া সরকারি পলিটেকনিক, টেকনিক্যাল স্কুলে আসন সংকট, জনবল, প্রয়োজনীয় উপকরণ, মেশিনারিজসহ অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার কারিগরি শিক্ষার্থীরা। সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম, ২০২০ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। এরপর সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে থেমে যাচ্ছেন বারবার। কিন্তু থেমে নেই তার বয়স। লেখাপড়ার বাইরে অন্য কোনো কাজও শেখা নেই তার। দরিদ্র বাবার সংসারে বেকার রাকিবুল হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজেকে পরিবারে বোঝা ভাবতে শুরু করেছেন। রাকিবুলের মতো এমন অনেকেই আছেন যারা অনার্স- মাস্টার্স শেষ করে বেকার বসে আছেন। তবে উল্টো গল্প দেশের একটি স্বনামধন্য মোবাইলফোন কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুলের কম্পিউটার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবিদ হাসানের। কথা হলে তিনি বলেন, মা-বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু নিয়তিতে হয়তো সেটা লেখা ছিল না। স্কুলে আমি দুর্বল ছাত্র ছিলাম। দুইবার পরীক্ষা দিলেও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হয়নি। পরে পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি কারিগরি স্কুলে ভর্তি হই। এসএসসি পাসের পর একই বিষয়ে ডিপ্লোমা ও বিএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। তবে সেখান থেকে পাস করার পর আমাকে বসে থাকতে হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই একটি কোম্পানিতে চাকরি হয় আমার। সেখানে কিছুদিন চাকরি করার পর ভালো বেতনে মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি করছি।
তিনি বলেন, দক্ষ কর্মীদের বিদেশে চাকরির অনেক সুযোগ রয়েছে। আমি চেষ্টা করছি, সুযোগ পেলেই চলে যাব। কিন্তু কষ্টের বিষয় হচ্ছে, অনার্স-মাস্টার্স পাস করা আমার অনেক বন্ধু এখনো বেকার। কারিগরি শিক্ষা নিয়েছিলাম বলেই আমি অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি।
আবিদ আরও বলেন, কারিগরি খাতে দেশে-বিদেশে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আগ্রহী করাটা এই বেকারত্ব থেকে নতুন প্রজন্মকে মুক্তির পথ হতে পারে। তেমনি বাড়তে পারে দক্ষ জনশক্তিও। কিন্তু সাতক্ষীরায় অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকার কারণে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সাজেদুর রহমান বলেন, কারিগরি শিক্ষায় অভিভাবকরা মোটেও আগ্রহী নন। এর প্রধান কারণ এর সামাজিক মান নিয়ে। চার বছরের কোর্স শেষে ডিপ্লোমা পাস করার পর এ ডিগ্রিকে এইচএসসির সমমান ধরা হয়। যে কারণে অনেকের ধারণা, এ যোগ্যতা দিয়ে বেশিদূর আগানো যাবে না। যার ফলে উৎসাহের জায়গাটা কমে আসে। এছাড়া সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দেওয়া হয়। যোগ্যতা ও পদমর্যাদার তারতম্য এই শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অনীহার একটা বড় কারণ।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় সম্ভাবনা থাকলেও এখনো কোনো বড় শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। এজন্য কারিগরি শিক্ষা নেওয়া বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ হচ্ছে না। এছাড়া যারা খণ্ডকালীন কোর্স করেন, আর্থিক সংকটের কারণে তারাও সেটি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না। এসব কারণে অনেকে কারিগরি শিক্ষা নিতে চান না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্লে গ্রামের বাসিন্দা ও সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান বললো, আমি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামের মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার পর কারিগরি শিক্ষা নিতে সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুলে ভর্তি হই। এখান থেকে আমি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় নিজেকে একজন দক্ষ মানুষ হিসেবে তৈরি করতে পারব।
সে আরও বলে, গ্রাম থেকে অনেকে শহরে এসে পড়াশোনা করতে পারে না। তাছাড়া অভিভাবকরাও কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী নয়। সাতক্ষীরার একটি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হৃদয় মণ্ডল বলেন, এখনো দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় কারিগরি শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। শহরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব, সিট স্বল্পতা, যথাযথ ইনস্ট্রুমেন্ট না থাকাসহ রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। তবে সাতক্ষীরার বিনেরপোতা এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আবাসিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখান থেকে অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা নিতে পারছেন। তবে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরও বলেন, বেকারদের কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি কলেজের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মাজেদ বলেন, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আত্ম-কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। তবে এখনো অভিভাবকদের মাঝে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে অনীহা আছে।
তিনি বলেন, সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে অধিকাংশ অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রশাসনের উচ্চ পদে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখতে চান। সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত সাতক্ষীরার অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থী। এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিলে আমরা উন্নত জাতি গঠন করতে পারব।
সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুলের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি ভোকেশনাল স্কুলে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। মোট শিক্ষার্থী ৮০০ জন। এখানে কম্পিউটার, ফার্ম মেশিনারিজ, ইলেকট্রনিকস ও আরএসি ট্রেড চালু আছে। এছাড়া খণ্ডকালীন ৯০ দিনের ড্রাইভিং কোর্স করানো হয়।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার মান বাড়াতে সাতক্ষীরা জেলার দুই উপজেলা আরও দুটি টেকনিক্যাল স্কুল চালু হয়েছে। একটি শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ অপরটি কালিগঞ্জে।
সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আবদুল কুদ্দুস সরদার বলেন, কারিগরি খাতে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। দিন দিন কারিগরি শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজার বড় হচ্ছে। তবে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ-সুবিধার তেমন কোনো প্রচার -প্রচারণা হয় না।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী হচ্ছে। প্রথম দিকে আমরা ছাত্রছাত্রী খুঁজে পেতাম না, অথচ সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বর্তমানে ১ হাজার ৪০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এখানে চাহিদার চেয়ে সিট সংখ্যা কম। অনেকে ভর্তি হতে আগ্রহী, আমরা তাদের সুযোগ দিতে পারছি না। এছাড়া দক্ষ জনবল ও শিক্ষকের সংকট রয়েছে।
অধ্যক্ষ আবদুল কুদ্দুস জানান, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বর্তমানে সিভিল, ইলেকট্রনিক, কম্পিউটার, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (আরএসি), এনভায়রনমেন্টাল এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগ চালু আছে।
সাতক্ষীরায় বেড়েছে শিশুরোগ, সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৪ শতাধিক
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
শীতের প্রকোপ বাড়ায় হঠাৎ করেই দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। কনকনে শীতে শিশুরা ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, সদর হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে চার শতাধিক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে পাঁচ শতাধিক শিশু। জেলার বাকি ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে ৯৫ শিশু। আর ওই হাসপাতালগুলোতে গত এক সপ্তাহে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে তিন শতাধিক শিশু।
হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও বেড সংকট থাকায় সেবা পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীর অভিভাবকদের। বেডের অভাবে বারান্দায় ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর বাবা মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে গত রোববার জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। ওইদিন বিকেলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। এখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়েছেন। তবে সকালে মাত্র একবার করে ডাক্তার আসেন। এছাড়া হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। সব বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
অপর এক শিশুর মা রমেছা বেগম বলেন, আমার মেয়ে সোমবার রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। রাতেই তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। আমার মেয়ে এখন আগের চেয়ে সুস্থ।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলার সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে মোট ১০৭টি বেড রয়েছে। এসব হাসপাতালে চারজন শিশু বিশেষজ্ঞ ও আটজন অভিজ্ঞ শিশু চিকিৎসক রয়েছেন।
সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আবুল বাসার বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এই অঞ্চলে প্রায় প্রতিবছরই শীতে ডায়রিয়া বাড়ে।
তিনি বলেন, শিশুদের ঠান্ডা থেকে দূরে রাখতে হবে। এসময় শিশুদের বিশুদ্ধ খাবার পানি ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে। অসুস্থ হলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আহমেদ হোসাইন বলেন, শীতে রোটাভাইরাস জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে এই ডায়রিয়া হচ্ছে। এছাড়া সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশু রোগীও বৃদ্ধি পাছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের কোনো ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। শিশু অসুস্থ হয়েছে বুঝতে পারলেই দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. মো. সবিজুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সদর ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত আছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের এ বিষয়ে বাড়তি খেয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে।
স্কুলশিক্ষকের দুই শতাধিক ফলের গাছ কেটে দিলো দুর্বৃত্ত
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুরে গাছ থেকে বরই ছেড়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলশিক্ষকের দুই শতাধিক ফলন্ত বরই (আপেল কুল) এবং পেয়ারা গাছ রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে বাগানে গিয়ে এ অবস্থা দেখতে পান মহম্মদপুর উপজেলার খর্দ্দফুলবাড়ি গ্রামের স্কুলশিক্ষক সরাফত মোল্ল্যা। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকের ভাষ্যমতে, বাগান থেকে বরই ছেড়াকে কেন্দ্র করে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে শিক্ষক সরাফত মোল্ল্যার ছেলে তানিম আহমেদের সঙ্গে স্থানীয় বখাটে তানজিদ, হাসিব ও আরজুর কথা-কাটাকাটি হয়। এসময় তারা বাগান নষ্ট করার হুমকি দিয়ে চলে যান। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক সরাফত মোল্ল্যা বাগানে গিয়ে দেখতে পান তার দুই শতাধিক ফলন্ত বরই ও পেয়ারা গাছ রাতের আঁধারে কে বা কারা কেটে ফেলেছে।
এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান সরাফত মোল্ল্যা। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্ধকি সম্পত্তি ৫০ কোটির, ৩৩৮ কোটি আদায়ে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার।।
৩৩৮ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খুলনার রূপসায় ৮ দশমিক ১৪ একর, বটিয়াঘাটা থানার জিরোপয়েন্ট ৯ দশমিক ২৮ একর জলাভূমি এবং বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৩ দশমিক ৩৩ একর জমি বন্ধক দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ভূমি অফিস এবং সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সরকারি দর অনুযায়ী এসব জমির দাম ৫০ কোটি টাকার বেশি হবে না। অথচ সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও লকপুর গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে ৩৩৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলা করেছে জনতা ব্যাংক। শতাধিক কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি ও ৪০ কোটি টাকা জরিমানা দাবি করে বন্ড লাইসেন্স বাতিলের পর এই মামলা করা হলো। ব্যাংকে জালিয়াতি করে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলাও আছে গোপনে বিদেশে চলে যাওয়া আমজাদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। খুলনার অর্থ ঋণ আদালতে গত ৩০ নভেম্বর জনতা ব্যাংকের খুলনা করপোরেট শাখা থেকে মামলা তিনটি করা হয়। এতে আমজাদ ছাড়াও তার স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ এবং লকপুর গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে। মামলা তিনটি আদালত নথিভুক্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আগামী মার্চে আসামিদের বিষয়ে আদেশ দেয়ার কথা জানিয়েছেন বিচারক।
ইস্টার্ন পলিমারের খেলাপি ঋণ ১৫১ কোটি: মোংলা ইপিজেডে অবস্থিত এই কোম্পানিটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে জনতা ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে চলত আমদানি ও রপ্তানি। গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানিটির খেলাপি ঋণ ১৫১ কোটি ৮৪ লাখ ৫ হাজার ৬১৬ টাকা। বিদেশি পণ্য আমদানির জন্য এলসি মার্জিন ঋণসহ বিভিন্ন প্রকার ঋণ পরিশোধ না করায় এ মামলা করা হয়। আসামিরা হলেন এমডি এস এম আমজাদ হোসেন এবং পরিচালক তার স্ত্রী বেগম সুফিয়া আমজাদ। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি এবং ৭ এপ্রিল টাকা পরিশোধের তাগাদাপত্র দেয়া হয় আসামিদের। তারা সাড়া না দেয়ায় ব্যাংকের আইনজীবী ২০২২ সালের ১ অক্টোবর আইনি নোটিশ পাঠান। এরপর ঋণ আদায়ে সম্পত্তি ও কারখানা নিলামের জন্য ২০ অক্টোবর একটি জাতীয় ও একটি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। কিন্তু কোনো বিডার নিলামে অংশ না নেয়ায় জমি ও কারখানা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এই ১৫১ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে খুলনার রুপসার জাবুসা মৌজায় ৯ একর জলাভূমি বন্ধন দেখানো আছে। খুলনা সাব রেজিস্ট্রার দপ্তরে এই জলাভূমির দর দেখানো হয়েছে একর ৭৫ হাজার টাকা করে। এই হিসাবে ৯ একরের দাম আসে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
মুনস্টার পলিমারে খেলাপি ৯০ কোটি: মোংলা ইপিজেড অবস্থিত এই কোম্পানিটিও রপ্তানিমুখি। ২০১৭ সালে জনতা ব্যাংকের দিলখুশা শাখা থেকে তারা প্রথম ঋণ নেয়, পরে তা স্থানান্তর করা হয় খুলনা করপোরেট শাখায়। গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৯০ কোটি ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩৩ টাকা। এই মামলাতেও আসামি আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ। মামলায় বলা হয়, ব্যাংক টাকা আদায়ের গত ৬ জুন চূড়ান্ত তাগাদাপত্র এবং ১ অক্টোবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রিতে ২০ অক্টোবর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সে নিলামেও কেউ অংশ নেয়নি।
বাংলাদেশ পলি প্রিন্টিং ইন্টারন্যাশনালের খেলাপি ঋণ ৯৫ কোটি টাকা: বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার নওয়াপাড়ার শ্যামবাগায় এই কারখানাটিও আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সাল থেকে তাদের লেনদেন জনতা ব্যাংকের সঙ্গে। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের কাছে খেলাপি ঋণ ৯৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৫৩ টাকা। এই মামলার আসামি হিসেবে আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী ছাড়াও নাম আছে তাদের মালিকানাধীন বাগেরহাট সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, মেট্রো ব্রিক্স লিমিটেড, রুপসা ফিস অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও সাউদার্ন ফুডস লিমিটেডকেও। ২০২২ সালের ৬ জুন চূড়ান্ত পত্র এবং ১ অক্টোবর আইনি নোটিশ দেয়া হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর নিলামের দিন ঠিক করে দুটি পত্রিকায় দেয়া হয় নিলাম বিজ্ঞপ্তি। কিন্তু তাতে কেউ অংশ নেয়নি।
অস্বাভাবিক ঋণে তদন্ত কমিটি: ৩৩৮ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খুলনার রূপসায় ৮ দশমিক ১৪ একর, বটিয়াঘাটা থানার জিরোপয়েন্ট ৯ দশমিক ২৮ একর জলাভূমি এবং বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৩ দশমিক ৩৩ একর জমি বন্ধক দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ভূমি অফিস এবং সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সরকারি দর অনুযায়ী এসব জমির দাম ৫০ কোটি টাকার বেশি হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে দেয়া মঞ্জুরির অতিরিক্ত ঋণ দেয়ার ঘটনায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের খুলনা করপোরেট শাখার ডিজিএমকে ১১টি বিষয়ে অভিযুক্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। সে সময় ডিজিএম অরুণ প্রকাশ বিশ্বাস জবাব দেন, ‘এই জমি ছাড়া ফ্যাক্টরি যন্ত্রাংশ, উৎপাদিত পণ্যের প্লেজের ঋণ এবং এলসি মার্জিন ঋণসহ নানাবিধ ঋণ রয়েছে। এছাড়া জমির মূল্য আগামীতে বৃদ্ধি পেতে পারে।’
আরও অনিয়ম: লকপুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই। চারটি প্রতিষ্ঠানের ১০৪ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দাবি করে আরও ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করে বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আমজাদ হোসেনের সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন আমজাদ হোসেনসহ অভিযুক্তরা। পরে ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয়। দুদকের মামলার পরে নভেম্বর মাসে গোপনে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান আমজাদ হোসেন। সঙ্গে যান স্ত্রী সুফিয়া আমজাদও। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে লকপুর গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমান পরিচালকের দায়িত্বে) খান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মামলা বা ঋণ খেলাপির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
শিশুশ্রমিকে আগ্রহ দালালদের// ইটের ভাটায় পুড়ছে শৈশব
স্টাফ রিপোর্টার
৯ বছর বয়সী সিয়ামের দিন কাটে ইটের ভাটায়। প্রতিদিন সকালে ইটের সারি ঢেকে রাখা পলিথিনগুলো সরাতে হয় তাকে। দুপুরে ওই ইট উল্টে দিতে হয়। বিকেলে আবারও সেই ইটের সারি পলিথিনে ঢেকে দেয়। এতে তার দৈনিক আয় হয় ৮০ টাকা। মা জেসমিনের সঙ্গে সিয়াম কাজ করে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের সেতু ব্রিকস নামের একটি ভাটাতে। বাবা না থাকায় মায়ের সঙ্গে তাকেও কাজ করতে হয়। সিয়াম জানায়, বছরের ছয় মাস তার মা এখানে কাজ করেন। তার সঙ্গে কাজ করে সিয়ামও। কাজ তেমন কষ্টের না হলেও দ্রুত কাজ করার তাড়া থাকে, বকা শুনতে হয়। মা ভাটায় কাজ করায় তার স্কুলেও যাওয়া হয় না, সেখানেই কাজ করতে হয়। সিয়ামের মতো আরেক শিশু তাফসির ইট পরিবহনে সহায়তা করে। ভ্যানে ইট তোলা, ভ্যান ঠেলা ও ইট নামানোর কাজ তার। প্রতিদিন বিকেলে শুকানো ইট ভ্যানে তুলে দেয় সে। পরে প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তা করে ইটের ভ্যান চালানোর কাজে। গন্তব্যে পৌঁছালে ভ্যান থেকে ইট নামিয়ে দেয়। এতে তার দৈনিক আয় হয় ৯০ টাকা। শুধু শিশু সিয়াম বা তাফসির নয়, খুলনার প্রায় প্রতিটি ইটের ভাটায় এমন শিশুশ্রমিকের সংখ্যা অগণিত। তাদের অভিভাবকরাও ওই ভাটাতে কাজ করেন। যেসব ভাটার শ্রমিকদের পরিবারে ছোট সন্তান থাকে, দালালরা তাদের ভাটাতে কাজ করাতে উৎসাহ দেয়। কারণ শিশুদের কম টাকায় বেশি কাজ করানো যায়। ভাটার একাধিক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাটার মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো চুক্তি থাকে না। মূলত দালালরা মালিকদের সঙ্গে চুক্তিতে ইট তৈরির যাবতীয় কাজ করেন। মাটি কাটা, ইট তৈরি, পরিবহন ও পোড়ানোর জন্য আলাদা আলাদা শ্রমিকের দরকার পড়ে। লোকালয় থেকে বিভিন্ন চুক্তিতে তারা এসব কাজের শ্রমিক জোগাড় করে দেন। এর মধ্যে ইট শুকানো ও পরিবহনের কাজে সহায়তার জন্য দালালরা শিশুদের বেশি পছন্দ করেন। লুৎফুর নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘সাধারণত ইট গুনে তারা দালালদের কাছ থেকে টাকা নেন। তবে শিশুরা টাকা নেয় দিনভিত্তিক। তাই ছোট ছোট কাজ শিশুদের দিয়ে করালে কম টাকায় করানো সম্ভব হয়। এ জন্য দালালরা শিশুশ্রমিকদের ভাটার কাজে উৎসাহিত করেন। এক শিশুশ্রমিকের বাবা জানান, ‘তার দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে চারজনের সংসার। মৌসুমের শুরুতে তিনি ও তার স্ত্রী ইট তৈরির চুক্তিতে ভাটাতে এসেছেন। এখানে আসার পর তার ৯ বছরের ছেলে ও ১১ বছরের মেয়েও ভাটাতে কাজ করছে। এতে ছেলে-মেয়েদের মাধ্যমে দৈনিক আয় হচ্ছে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে তার ও স্ত্রীর দৈনিক প্রায় ৮০০ টাকা আয় হয়। ওই শিশু শ্রমিকের বাবা বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের ভাটার কাজে লাগাতে চাইনি। তবে সারা দিন এখানে খেলাধুলা করে বেড়ায়। তাই ওদের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। এতে দালালও খুশি, আমাদের উপার্জন বেড়েছে।’ বাংলাদেশ শ্রম আইনে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে কাজে নিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ২০১১ সালে ইউনিসেফ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ বছরের নিছে বাংলাদেশের প্রায় ৪৭ লাখ শিশুশ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ শিশুকে জোর করে কাজে নিযুক্ত করা হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুশ্রম নিয়ে খুলনায় কয়েকটি প্রকল্প চলছে। এর মাধ্যমে অনেক শ্রমিক শিশুকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে ইটের ভাটার শিশুশ্রম বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর দেখাশোনা করে। এটি আমাদের অধীন নয়।’ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক ডা. নবীন কুমার হাওলাদার বলেন, ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধে আমাদের একটি সমন্বিত কমিটি আছে। অনেক শিশুকে আমরা শ্রম থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। তবে ইটের ভাটাতে যে শিশুশ্রমিক আছে, এটি আমাদের জানা ছিল না। এ বিষয়ে খোঁজ নেব।’ খুলনা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, ‘ভাটাতে শ্রমিক আমরা নিয়োগ দিই না। দলালের মাধ্যমে শ্রমিকরা এসে কাজ করেন। আমরা সব সময় শিশুদের কাজ করাতে নিরুৎসাহিত করি।’










































