বাগেরহাট প্রতিনিধি
মাদক নির্মূলে চলতি বছর ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেবে সরকার। তবে একসঙ্গে এতসংখ্যক সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো পুলিশের নেই। এ জন্য নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
আজ রবিবার সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বললেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। মাদক নির্মূল করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে গিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা প্রভাবশালীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আইজিপির স্পষ্ট বক্তব্য, গত দুই মাসে মাদকের কারণে তিনি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপর আপনারা পরিষ্কার হবেন।’ মাদক ব্যবসা ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে পুলিশ সদস্যদের দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আইজিপি উল্লেখ করেন, বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার থাকলেও সেখানকার অধিকাংশ মানুষই ভালো। অল্প কিছু মানুষ মাদক ব্যবসা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কিছু ‘হোয়াইট-কলার’ অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র মানুষকে মাদকে আসক্ত করছে। প্রথমে বিনা মূল্যে মাদক সেবন করিয়ে তাদের আসক্ত করা হয়। পরে মাদক পরিবহন ও ব্যবসার কাজে তাদের ব্যবহার করা হয়। এভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে।
দেশের উন্নয়নে কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নেই উল্লেখ করে মো. আলী হোসেন ফকির বললেন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কে সরকারে আসবে, তা প্রশাসন বা কমিউনিটি পুলিশের ভাবনার বিষয় নয়। পুলিশের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ (আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে) বললেও সেই পরিকল্পনার মধ্যে ষড়যন্ত্র খোঁজার প্রবণতা রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ ও চাকরি নিয়ে ছড়ানো গুজব প্রসঙ্গে আইজিপি স্পষ্ট করেন, ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করলে চাকরি হারানোর ভয় নেই। তবে কেউ মাদক ব্যবসা বা অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাদক নির্মূলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের আগে নিজেদের অপরাধমুক্ত হতে হবে।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে শুধু শাসিত হওয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বললেন, দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।








































