ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহ সদরের নগরবাথান এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন এক ব্যক্তি। অসংলগ্ন আচরণ দেখে স্থানীয় কয়েকজন তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। উত্তর না দিয়ে জিভ বের করে ভেংচি কাটতে থাকেন তিনি। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান উপপরিদর্শক (এসআই) ইউনুস আলী গাজী। পরে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি কথাই বলতে পারেন না। পরিচয় জানাবেন কী করে! একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় জেলহাজতে।
সেখানেই কেটে গেছে দীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস। মেলেনি ওই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা। কেউ আসেননি তার খোঁজেও। তবে মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ইয়াছিন আলী এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তির চেহারা ও আচার-আচরণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মেলে।
বিষয়টি জানতে পেরে স্বপ্রণোদিত হয়ে তার পরিচয় শনাক্তে নির্দেশ দিয়েছেন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাস। তিন কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে যথাযথভাবে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় বের করতে গত রোববার নির্দেশ দেন তিনি।
সেই সঙ্গে আদেশপ্রাপ্তির ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ছবি যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া এবং নোয়াখালীর ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি)। তাদের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
আদেশে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাস উল্লেখ করেন, নাম-ঠিকানাহীন পুরুষ ব্যক্তি একজন বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিনা বিচারে কাউকে জেলহাজতে আটক করে রাখা ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত নীতিমালার পরিপন্থি। যে কারণে ওই ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে তার নাম-ঠিকানা উদ্ঘাটন প্রয়োজন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, নির্দেশের চিঠি পাওয়ার পর নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। ওই ব্যক্তি কারাগারে সুস্থ আছেন জানিয়ে ঝিনাইদহের জেল সুপার অনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তারা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুস ছালেকের হাতে সোমবার পর্যন্ত আদালতের নতুন নির্দেশনা পৌঁছেনি। তিনি বলেন, লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন ঝিনাইদহ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান। তিনি মনে করেন, বিনা অপরাধে কারও কারাগারে বন্দি থাকা সভ্য সমাজে অমানবিক।
এ ঘটনাকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন মানবাধিকারকর্মী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমিনুর রহমান টুকু। তিনি দ্রুত ওই ব্যক্তির মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট আদালতের নির্দেশে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পরিচয় জানতে তার আঙুলের ছাপ নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগে চিঠি দেওয়া হয়।
ওই বছরের ১৯ নভেম্বর তারা আদালতকে জানায়, সাধারণ কাগজে সংগৃহীত আঙুলের ছাপ দিয়ে পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত সম্ভব নয়। যে কারণে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ডব্লিউএসকিউ ফরমেটে ছাপ নেওয়া প্রয়োজন।









































