Home জাতীয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন বুধবার

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন বুধবার

1018

মিলি রহমান ।।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমান বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তাঁর ডাকনাম ছিল কমল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার চাকরির কারণে জিয়াউর রহমান কলকাতা হেয়ার স্কুলে লেখাপড়া করেন। ভারতবর্ষ ভাগের পর তাঁর বাবা সপরিবারে পাকিস্তানের করাচিতে চলে গেলে তখন জিয়াউর রহমান করাচি একাডেমি স্কুলে ভর্তি হন। করাচি একাডেমি থেকে তিনি ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডি. জে. কলেজে ভর্তি হন। একই বছর তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপার কমান্ডো হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। করাচিতে দুই বছর চাকরির পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত কবে। ১৯৬৯ সালে মেজর পদে উন্নীত হয়ে জিয়াউর রহমান জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। অ্যাডভান্সড মিলিটারি অ্যান্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান এবং কয়েক মাস ব্রিটিশ আর্মির সঙ্গেও কাজ করেন।

১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রথমে তিনি নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙামাটি, মিরসরাই, রামগড়, ফেনী প্রভৃতি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।

জুন হতে অক্টোবর পর্যন্ত যুগপৎ ১১ নম্বর সেক্টরের জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাঁকে বীরউত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

খুলনায় কর্মসুচি:

স্বাধীনতার মহান ঘোষক, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনাকারী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৮৬তম জন্মবার্ষিকী পালনের জন্য খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির যৌথভাবে কর্মসুচি গ্রহন করেছে। কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে সকালে সকল দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বিকেল ৩টায় খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, খ্যাতনামা কবি, লেখক, সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ও সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবীদ শামীমুর রহমান শামীম। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. গাজী আব্দুল বারী, বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মালেক, বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলু, সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, সাবেক সভাপতি অ্যাড. এস আর ফারুক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের সাবেক সহ সভাপতি ড. অ্যাড. জাকির হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেখ দিদারুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি মো: রাশিদুল ইসলাম ও বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা। মহানগর ও জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহবান জানিয়েছেন আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ।