Home খেলাধুলা বাবার স্বপ্ন পূরণ করে কমনওয়েলথে সোনা জয় বাঙালি অস্মিতার

বাবার স্বপ্ন পূরণ করে কমনওয়েলথে সোনা জয় বাঙালি অস্মিতার

0

স্পোর্টস ডেস্ক।।

সাইকেল সারাই করে সংসার চালানো বাবার স্বপ্ন বিশ্বমঞ্চে সত্যি প্রমাণিত করল মেয়ে। সব অভাব-অনটন, সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করলেন ভারতের ত্রিপুরার ২৩ বছর বয়সী অস্মিতা দে।

গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো ইভেন্টের ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে হারিয়ে ভারতের জন্য সোনা ছিনিয়ে আনলেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে জুডোতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনা জেতার এক ঐতিহাসিক অধ্যায় লিপিবদ্ধ করলেন এই তরুণী।

নিউজ আঠেরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলা সদর বেলোনিয়ার এক নিম্নবিত্ত পরিবারে ২০০৩ সালে জন্ম অস্মিতার। বাবা সামান্য একটি সাইকেল মেরামতের দোকান চালান।

আর্থিক অনটন প্রতিদিনের সঙ্গী হলেও অস্মিতার অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসাকে আটকে রাখা যায়নি। শুরুতে ৮০০ মিটার দৌড়বিদ হিসেবে অ্যাথলেটিক্সে হাতেখড়ি হলেও পরবর্তীতে জুডোকাকে চিনে নেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষক বিনা দেবনাথ ও মানিক লাল দেবের অধীনে জুডোর পাঠ শুরু করেন।

স্কুল গেমস এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রজেক্টে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজরে আসার পর ভোপালের ‘সাই’ আঞ্চলিক কেন্দ্রে জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষণের সুযোগ পান অস্মিতা।

২০২২ সালে ব্যাংককে এশিয়ান ক্যাডেট অ্যান্ড জুনিয়র জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে আন্তর্জাতিক দরবারে নিজের উপস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিদের হারিয়ে ত্রিপুরার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক জুডো পদক জেতার রেকর্ডও গড়ার পর কুয়েত, ম্যাকাউ এবং মরক্কোর আফ্রিকান ওপেনে সোনা জিতে অলিম্পিকের স্বপ্ন চোখে এগিয়ে চলেন অস্মিতা।

গ্লাসগোর ফাইনালে অস্মিতার সোনা জয়ের সফরটি মোটেও সহজ ছিল না। চার মিনিটের টানটান লড়াইয়ের শুরুতে প্রতিপক্ষের থেকে একটি ‘যুকো’ পয়েন্ট ও পেনাল্টি খেয়ে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যান তিনি। তবে অদম্য আত্মবিশ্বাসে ভর করে দ্রুত আক্রমণাত্মক মেজাজে ফিরে দুর্দান্ত এক থ্রোয়ের মাধ্যমে পয়েন্ট তুলে নিয়ে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনেন।

নির্ধারিত সময়ে জয়-পরাজয় না হওয়ায় খেলা গড়ায় ‘গোল্ডেন স্কোর’ বা এক্সট্রা টাইম পর্বে।

সাডেন-ডেথ এই ওভারটাইমে লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজের নিখুঁত টাইমিং ও ঠাণ্ডা মাথার পরিচয় দেন ভারতের এই কন্যা। একটি বিদ্যুৎগতির নিখুঁত আক্রমণে দ্বিতীয় ‘যুকো’ পয়েন্ট অর্জন করে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করেন তিনি। রেফারি অস্মিতাকে বিজয়ী ঘোষণা করতেই আনন্দাশ্রু আর গর্বে ভেসে যায় ভারতীয় দল। যে গেমসে জুডোতে এতদিন সোনা ছিল অধরা, সেখানে এক লহমায় দেশের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে দেন সাইকেল মিস্ত্রির এই অকুতোভয় কন্যা।

অস্মিতা দের এই অবিস্মরণীয় জয় কেবল একটি সোনার পদক বা পরিসংখ্যানের গল্প নয়; এটি কঠোর পরিশ্রম, অটল সংগ্রাম এবং অদম্য স্বপ্নের এক জয়গাথা। ত্রিপুরা বেলোনিয়ার এক ছোট্ট গলি থেকে উঠে এসে বিশ্বজয়ের এই বার্তা প্রমাণ করে যে, সুযোগ ও সঠিক মানসিকতা থাকলে কোনো বাঁধাই দেশের জন্য ইতিহাস রচনায় বাধা হতে পারে না। এই সোনা ভারতের উঠতি জুডোকাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।