স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ক্লাস ও হাসপাতালে ফিরতে পারছেন না ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিকস কোর্সের শিক্ষার্থী ডা. জিল্লুর রহমান তর্নণ। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
ডা. জিল্লুর রহমান তর্নণ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) খুলনা জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক। তিনি খুলনা বিএমএর সর্বশেষ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আদেশে গত ১ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজে ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিকস কোর্সে ভর্তি হন ডা. তর্নণ। কোর্সের অংশ হিসেবে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। গত ২৬ জুলাই হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ডা. তর্নণের অভিযোগ, ওই দিন দায়িত্ব পালনকালে বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)–এর নেতা ডা. আবু জাফর সালেহ পলাশ, ডা. ডেভিড এবং কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মচারী তার ওপর হামলা করেন। তাকে মাথা, চোখ-মুখে মারধর করা হয় এবং আগে ভেঙে যাওয়া ডান পায়ে লাথি মারা হয়। পরে মারধর করতে করতে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, হামলার পরও তার ডান চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, ডান কানে কম শুনছেন এবং আগের ভাঙা পায়ে ঠিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে কলেজ ও হাসপাতালে ফিরতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
ডা. তর্নণ বলেন, তিনি কোর্সটি সম্পন্ন করতে চান। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হবে। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেন।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড্যাব নেতা ও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু জাফর সালেহ পলাশ। তিনি দাবি করেন, ওই দিন তিনি ডা. তর্নণকে রক্ষা করেছেন। তার ভাষ্য, তিনি না থাকলে অন্যরা আরও মারধর করতেন।
পাল্টা অভিযোগ করে ডা. পলাশ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডা. তর্নণের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে অনেকের মধ্যে তার প্রতি ক্ষোভ রয়েছে। তাদের সঙ্গে বিষয়টি মিটিয়ে এরপর হাসপাতালে আসতে বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ডা. তর্নণ। তিনি বলেন, ২০১২ সালে চিকিৎসক হিসেবে পাস করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মাত্র তিন বছর মেডিকেল কলেজে ছিলেন। তার দাবি, কাউকে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি স্বেচ্ছায় শহর ছেড়ে চলে যাবেন।
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলাম বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনগত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, ডা. তর্নণের আবেদন পেয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।











































