স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার সকল উপজেলা-থানার সকল বাজারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে গ্যাস সিলিন্ডারের রমরমা ব্যবসা। রূপসাসহ আশপাশের সকল উপজেলার ছোট-বড় বিভিন্ন বাজারের দোকানে লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে এ ব্যবসা।
সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রতিটি বাজারেই চলছে এ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা দোকানগুলোয় খোলামেলাভাবে সিলিন্ডারের গ্যাস বিক্রি করায় চরম ঝুঁকিতে চলা ফেরা করতে হচ্ছে ক্রেতা, পথচারী ও জনসাধারণসহ শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন পানের দোকান, চায়ের দোকান, মুদি দোকান, মনোহরি, ওষুধ, রড-সিমেন্ট ও ইলেকট্রনিক্সসহ প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলার কোলাবাজার,সেনের বাজার,যুগী হাটি,বারো পূর্ণ্যের মোড়,রাজাপুর বাজার,বৌ বাজার,আইচ গাতী,আব্দুলের মোড়,বাঁধাল, পালের বাজার,আলাইপুর বাজার,কাজদিয়া বাজার,নতুন হাট,হাতিম তলা,তিলক গাছতলা মোড়,ইলাইপুর মোড়,সামন্ত সেনা,নৈহাটি মোড়,গোডাউন মোড়,খোঁড়ার বটতলা,রূপসা বাজার,বাগমারা,রহিমনগর বাজার,নৈহাটি কালীবাড়ি বাজার,রামনগর মুজিবর মোড়,রামনগর আকবরের মোড়, রূপসা ঘাটের বটতলা,জাবুসা স্কুলের সামনে,নারায়ন খালী,বাইন তলা বাজার,তেরখাদা সকল ছোট বড় বাজার, সুইতলা, মল্লিকপুর, বলরামপুর,ডুমুরিয়া সকল বাজার,বটিয়াঘাটা, ফুলতলার সকল ছোট বড় বাজার,কয়রা র সকল বাজার,পাইকগাছা র সকল ছোটবড় বাজারে, চাঁপরাইল,, বগেরগাছি, কুল্ল্যাপাড়া, রঘুনাথপুর, কিয়া বাগান, ভাতঘাড়া, দুলাল মুন্দিয়া, বালিয়াডাঙ্গা, লাউতলা, সিংগীর বাজারসহ আরও কিছু বাজারে অনুমোদন ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসা চলছে অহরহ। এ দোকান গুলোয় নেই প্রাথমিক বিপর্যয় রক্ষায় ড্রাই পাউডার ও সিও ২ সরঞ্জামসহ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। এতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ বৈধ গ্যাসের ব্যবসায়ীরা। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ফলে পথচারীদের জীবণের ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা যেকোন সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আমাদেরকে জিম্মিকরে গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। ফলে ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি মূল্যে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। অতিসম্প্রতি রাজধানী ঢাকার রূপপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্যা এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া কোনভাবেই (গ্যাস) এলপিজি মজুদ করা যাবেনা।
বিধি অনুযায়ী ৮টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধির ৭১ নং ধারায় বলা হয়েছে, আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ থাকতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার ব এক শিক্ষক বলেন, উপজেলার ছোট বড় হাটবাজারে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। পান, চা, মুদি, মনোহরি, ইলেকট্রিক দোকানে চলছে এব্যবসা। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করছে।
দোকানের সামনে রাস্তার পাশে এসব গ্যাস রাখায় হুমকির মুখে পড়েছে সাধারণ ক্রেতা, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। এব্যাপারে রূপসার একজন ব্যবসায়ী বলেন, সিলিন্ডার গ্যাস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। যারা এ ব্যবসা করছে তারা সমিতির নিকট থেকে অনুমতি নেননা।
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভ করতে গিয়ে বিস্ফোরক অধিদফতরের নাম ক্ষুণ্ন করছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখার বিধান থাকলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এই নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই সাধারণ ব্যবসার মতই চালিয়ে যাচ্ছে গ্যাসের ব্যবসা।
জনসমাগম স্থলে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই বিপজ্জনকভাবে এ ধরনের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা যেমন দন্ডনীয় অপরাধ তেমনি অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসার কারণে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।











































