Home Lead সংরক্ষিত আসনে খুলনার অনুপস্থিতি, হতাশা-ক্ষোভে নেত্রীরা

সংরক্ষিত আসনে খুলনার অনুপস্থিতি, হতাশা-ক্ষোভে নেত্রীরা

25


স্টাফ রিপোর্টার।।


১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ, প্রতিটি সংসদেই সংরক্ষিত আসনে খুলনার নারীদের অংশগ্রহণ ছিল। সংসদে উপকূলের নারীদের সংগ্রাম, দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরতে রাজনৈতিক দলগুলো খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলের বেড়ে ওঠা তাদের নেত্রীদের মনোনয়ন দিয়েছেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে জাতীয় সংসদে তারা কথা বলেছেন।

৪৭ বছর পর ত্রয়োদশ সংসদে এসে সেই ধারাবাহিকতার ছেদ পড়েছে। এই অঞ্চলে বেশি আসনে জিতলেও সংরক্ষিত আসনে খুলনা থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি ও জামায়াত। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ খুলনার নেত্রীরা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনে মাত্র ১১টিতে জয় পায় বিএনপি। এর মধ্যে ৪টি আসনই ছিল খুলনা জেলার। সবচেয়ে বেশি আসনে জয় উপহার দেওয়ার দাবি থেকে খুলনা অঞ্চলের ১২ জন নেত্রী বিএনপির সংরক্ষিত আসনের মনোনয়নপত্র কিনেছিল। এর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্যসহ যোগ্য অনেকেই ছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি।

একই অবস্থা বিরোধী দল জামায়াতেরও। খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয় পেয়েছে দলটি। আনুপাতিক হার অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ২৫টি আসনের জন্য ৪টি সংরক্ষিত আসন পেয়েছে জামায়াত। কিন্তু তার একটিও জোটেনি খুলনার নারী নেত্রীদের। সিলেট, বগুড়া ও চট্টগ্রামের জামায়াত নেত্রীদের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিলেও খুলনার ভাগে পড়েছে শুন্য। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হতাশা প্রকাশ করেছেন তাদের সমর্থকরা।

পুরাতন নথি ঘেটে দেখা গেছে, প্রথম সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল মাত্র ১৫টি। মুক্তিযুদ্ধের নারী সংগঠকরাই সেখানে স্থান পেয়েছিলেন। এর মধ্যে খুলনার কেউ ছিল না। দ্বিতীয় থেকে দ্বাদশ ১১টি সংসদেই খুলনা থেকে নারী নেত্রীরা সংসদে গিয়েছেন।

এর মধ্যে ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় এবং ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদে খুলনা থেকে সুলতানা জামান চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদের তালিকা পাওয়া যায়নি, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে মহিলা দল সভানেত্রী সৈয়দা নার্গিস আলী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, ২০০১ সালে আবারও সৈয়দা নার্গিস আলী, ২০০৮ সালে খুলনা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নূর আফরোজ আলী, ২০১৪ বাগেরহাটের আওয়ামী লীগ নেত্রী হ্যাপি বড়াল, ২০১৮ সালে খুলনার দাকোপের গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদে খুলনার দুই জন ছিলেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী মন্নুজান সুফিয়ান ও রুনু রেজা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফল ভালো হওয়ায় এবার দুই দল থেকেই দু’জন যাওয়ার সুযোগ ছিল। সেটা হয়নি। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে।

সম্প্রতি ফোরাম খুলনার সভাপতি সিলভী হারুন বলেন, ‘উপকূলের নারীদের সংগ্রাম, উন্নয়ন বঞ্চনা অন্য সব জেলা থেকে আলাদা। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেত্রীরা সংসদে গিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। সংসদে সমস্যা-সংকট তুলে ধরায় অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এবার সেই সুযোগও থাকলো না। বিষয়টি নিয়ে আমরা হতাশ।’

উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শামীমা সুলতানা শীলু বলেন, ‘নারীদের সমস্যা নারীরাই সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে। আমরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাদের কাছে গিয়েছি। তারা সরকারের বিভিন্ন উইংয়ের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছেন। খুলনা যে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার, এটা সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আরও একবার প্রমাণ হলো।’

মনোনয়নপ্রত্যাশী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দা রেহেনা ঈসা বলেন, ‘খুলনা-বাগেরহাট থেকে একজন সংসদ সদস্য নিলে মানুষের ভোটের প্রতি সম্মান দেখানো হতো। কিন্তু এ অঞ্চলের নেতাদের তৎপরতা কম থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি।’