খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
খুলনা থেকে ঢাকা ও মোংলা রুটে নতুন দুটি ট্রেন চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঢাকা-খুলনা রুটে বিরতিহীনভাবে চলবে। অন্যটি ঢাকা-মোংলা-খুলনা রুটে চলবে। একই ট্রেন ভোরে ও রাতে ঢাকা থেকে বেনাপোল রুটে আসা-যাওয়া করবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-খুলনা রুটে ‘চিত্রা’ ও ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ নামে দুটি আন্তঃনগর এবং ‘নকশীকাঁথা’ নামে একটি কমিউটর ট্রেন চলাচল করে। সর্বশেষ স্টেশনে পৌঁছাতে ট্রেনগুলো সময় নেয় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। পদ্মা সেতুর ট্রেন সংযোগ চালুর পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামে নতুন একটি ট্রেন চালু হয়। মাত্র চার ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছে পুরোনো ব্যবস্থায় পাল্টে দেয় ট্রেনটি। বিপুল সংখ্যক চাহিদা থাকায় এই ট্রেনের টিকিট এখন সোনার হরিণ।
এ অবস্থায় ঢাকা-খুলনা রুটি আরও একটি বিরতিহীন ট্রেন চালুর দাবি ছিল মানুষের। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিও এই রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তুতি শুরু করতে রেলওয়েকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘খুলনা-ঢাকা রুটে একটি আন্তঃনগর এবং ঢাকা-মোংলা-খুলনা রুটে একটি কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। দু-এক মাসের মধ্যেই নতুন কোচ দেশে পৌঁছাবে। ব্রডগেজ ইঞ্জিন আমাদের রয়েছে। ১৮০ দিনের আগেই ট্রেনটি চালুর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’
এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেনের ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় গত ২৭ এপ্রিল চুক্তি বাতিল করা হয়। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) চিফ কমার্শিয়াল ব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন বলেন, গত বুধবার থেকে খুলনা-বেনাপোল ও বেনাপোল-মোংলা রুটের কমিউটার ট্রেনটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল করছে। অন্য ট্রেনগুলোও সময়মতো যাওয়া-আসা করছে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের টিকিট পাওয়া যায় না। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায় বাগ্বিতণ্ডা হয়। নতুন ট্রেন চালু হলে সংকট কিছুটা কাটবে।










































