স্পোর্টস ডেস্ক।।
২০০৪-০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বল বয়ের সংস্কৃতি প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়ে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরছে সেই পুরনো সংস্কৃতি।
তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হয়ে বল বয়ের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। যদিও তিনি জানিয়েছেন বল বয় নয়, তাদের ডাকা হবে ফিউচার স্টার্স নামে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়া প্রথম ম্যাচে মাঠে থাকবেন ফিউচার এই স্টার্সরা।
ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে বল বয় শব্দ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তামিম, ‘বল বয় শব্দটা ব্যক্তিগতভাবে কখনোই খুব একটা ভালো লাগত না আমার।
ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তাই আমি ওদেরকে বলতে চাই ফিউচার স্টার্স। আশা করি, এই খুদে ক্রিকেটাররা ওদের প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে, ওদের স্বপ্নের সীমানা বড় হবে এবং একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবে।
আমিও একসময় ওদের মতোই ছিলাম, আমিও ছিলাম একজন বল বয়।’
চট্টগ্রামের হয়ে খেলা অনূর্ধ্ব ১৪ ও ১৬ দলের ক্রিকেটাররা বল-বয় হিসেবে কাজ করবেন। পুরো মাঠজুড়ে থাকবেন মোট ২২ জন বল-বয়। ইতিমধ্যে তারা মাঠে চলে এসেছেন। তাদেররেই একজন মাহিমা খাতুন।
তামিমকে ধন্যবাদ দিয়ে মাহিমা বলেন, ‘পুরনো এই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার জন্য তামিম ভাইকে ধন্যবাদ। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা একটু কম সুযোগ পেয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে মেয়েদের সংখ্যা বাড়ানো হবে।’
রাকিন হোসেনের জন্য এটাতো দারুণ সুযোগ। তিনি বলেন, ‘সব সময় টেলিভিশনের বড় বড় তারকাদের দেখার সুযোগ পেয়েছি। কখনো মাঠে এলেও গ্যালারি থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। এবার আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে খুব কাছ থেকে তাদেরকে দেখার। এই অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।’
বল বয় হিসেবে কেবল মাঠের ভেতরে থাকার সুযোগই পাচ্ছেন না তারা। খুদে ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে বিসিবি। রোদ-গরমের ধকল সামলে তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেজন্য তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বল বয়ের ছোট দায়িত্বের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বড় অভিজ্ঞতা। খুব কাছ থেকে দেখা যায় ব্যাটসম্যানের টাইমিং, বোলারের ছন্দ, ফিল্ডারের তৎপরতা। প্রতিটি বল যেন একটা করে পাঠ, প্রতিটি মুহূর্ত যেন নতুন কিছু শেখার সুযোগ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক গল্পের শুরুই এই বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। মোহাম্মদ আশরাফুল, তামিম ইকবাল শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ শরীফ এমন অনেকেই একসময় বল বয় ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ঢাকা স্টেডিয়ামের পূর্ব-উত্তর কোণে ওয়াহিদুল গনির অংকুর ক্রিকেট একাডেমির কিশোররা অনুশীলনের পাশাপাশি এই দায়িত্বও পালন করত। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে ১৯৯৭ সালের ইন্ডিপেনডেন্স কাপ, ১৯৯৮ সালের মিনি বিশ্বকাপ, ১৯৯৮-৯৯ এশিয়া কাপ সবখানেই তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই গল্পেরই অংশ তামিম ইকবাল নিজেও। ১৯৯৮ সালে ইংল্যান্ড ‘এ’ দল বাংলাদেশ সফরে এলে চট্টগ্রামে একটি তিন দিনের ম্যাচে বল বয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন হাবিবুল বাশার। বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে সেই ইনিংস দেখার অভিজ্ঞতাই হয়তো কিশোর তামিমের ভেতরে নিজের স্বপ্নটাকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছিল।











































