Home আলোচিত সংবাদ পদত্যাগ করলেন দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার

পদত্যাগ করলেন দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার

3


ঢাকা অফিস
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারকে অবশেষে সরে দাঁড়াতে হলো। তারা বিগত অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের শুরুতে কমিশনে যোগ দিয়েছিলেন। চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদেরকে কমিশন থেকে বিদায় নিতে হলো। তারা তিনজনই মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
এদিন ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনজনের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান সদ্য সাবেক দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
ড. মোমেন আরও বলেন, আমরা অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়ে দায়িত্ব নিয়ে দুর্নীতি দমনে আমাদের সাধ্যমত কাজ করেছি। এখন নতুন সরকার এসেছে তাদের প্রত্যাশা আছে- এটা আমরা অনুভব করেছি। যে কারণে আমরা পদত্যাগ করেছি। ভবিষ্যতে হয়তো কমিশনে আমাদের চেয়েও যোগ্য লোক আসবেন।
এই প্রসঙ্গে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে পরিবর্তন আনায় দুদক থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে কথা বলা হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদে থাকার বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হয়নি। এই বিষয়টি অনুভব করে দুদকের শীর্ষ তিনজন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
অবশেষে চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন, কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগের আগে দুদক চেয়ারম্যান মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে আন-অফিসিয়াল সাক্ষাৎ করেন। সদ্য সাবেক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী একই সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আন-অফিসিয়াল সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সদ্য সাবেক কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজ অফিস কক্ষেই ছিলেন। পরে ড. মোমেন ও আলি আকবার- উভয়েই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যান। এরপর তিনজনই রাষ্ট্রপতি বরাবরে লেখা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে তাদের পিএসের মাধ্যমে দুদক সচিবের কাছে পাঠান। পরে দুদক সচিব পদত্যাগপত্রগুলো মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠিয়ে দেন মঙ্গলবার আড়াইটায়। এরপর তারা তিনজন একসঙ্গে দুদক কার্যালয় থেকে বের হন পৌনে তিনটায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আবদুল মোমেন বলেন, আমরা অনুভব করেছি যে নির্বাচিত যে সরকার এসেছে তাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবেন। এতে দুদক যেমন ভালো হবে, রাষ্ট্রেরও উপকার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। নতুন সরকারের সময় যে সময়টুকুতে আমরা কাজ করতে পেরেছি সেজন্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।
আগে বলা হতো দুদক নখ, দন্তহীন। আপনাদের সময়ে দুদকের নখ, দন্ত কি গঁজিয়েছে? এর জবাবে ড. মোমেন বলেন, এটা বিচার করার মালিক আপনারা (সাংবাদিক)। আমাদের এতদিন নখ, দন্ত ছিল কি ছিল না- তা আপনারা ভালো বুঝতে পারবেন। আমরা আমাদের সময়টুকুতে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। কোন রাজনৈতিক প্রভাবে দুদক চলবে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারের নিজস্ব ইশতেহার ও প্রত্যাশা থাকে। সরকার সেটা অনুযায়ী কাজ করবে, এতে আমি ব্যত্যয় কিছু দেখছি না।
সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলা, ব্যাবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে পাঁচ শতাধিক মামলা করা হয়। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়। এর মধ্যে একাধিক মামলায় আসামীদের সাজা হয়। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালীদের দেশে-বিদেশে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
ড. মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চার বছর মেয়াদে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী একই বছরের ১১ ডিসেম্বর ও এবং হাফিজ আহসান ফরিদ ১৫ ডিসেম্বর যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ওই সময়ের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, দুই কমিশনার মো. জহুরুল হক ও মোছা. আছিয়া খাতুন।