সৈয়দ হুমায়ূন কবির, ঢাকা থেকে।।
করব কাজ, গড়ব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এবারে সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার আকার বেশি বড় হবে না।
নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হচ্ছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা। আপাতত ৩০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় থাকছেন ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী। ১৮ জনের মতো প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় দলের সিনিয়র অনেক নেতা থাকছেন না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নবীন এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ অনেককে যুক্ত করছেন মন্ত্রিসভায়। সঙ্গে দলের সিনিয়র কয়েকজন সদস্যও থাকবেন। বর্তমান সরকারে আছেন এমন দু’জনও যুক্ত হতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায়ও যুক্ত হবেন একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের একাধিক নেতাও থাকতে পারেন মন্ত্রিসভায়।
মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রীদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অবহিত করা হবে। নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী, রাজনৈতিক মহল এবং দেশ জুড়ে আছে কৌতূহল। বিএনপি চেয়ারম্যান ছাড়া এ বিষয়ে আর কারও কাছে তথ্য নেই বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে অনেকের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব দিক বিবেচনা করেই মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচন করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে তা সংসদের শপথের পরে রাষ্ট্রপতিকে তালিকা পাঠানো হবে। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলীয় প্রধান।
বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এছাড়া সংসদ-সদস্যদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।
সূত্র বলছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও প্রফেসর এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মো. শাজাহান, ড. রেজা কিবরিয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন। এ ছাড়াও, একটি পত্রিকার সম্পাদক, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে।
এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক প্রফেসর মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।
তবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্ব পদে নিয়োগ দেয়া হতে পারে। নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, খায়রুল কবির খোকন, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, আসাদুল হাবিব দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। এছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে নান গুঞ্জন রয়েছে। মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে জানা গেছে।










































