ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় অন্তত ৫৮টি নদী ও খাল কচুরিপানার চাদরে ঢেকে গেছে। ক্রমেই কচুরিপানা বেড়ে যাওয়ায় এসব নদী ও খালে নৌযান চলাচল ও মাছ শিকার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার মৎস্যজীবী ও কৃষকরা।
ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর, ডুমুরিয়া সদর, গুটুদিয়া, ধামালিয়া ও রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ নদী-খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে কচুরিপানার কারণে নদী-খালে জাল ফেলার উপায় নেই। এতে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তারা চেষ্টা করেও কচুরিপানা সরাতে বা নির্মূল করতে পারছে না।
উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান রিগান জানান, চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের দিকে কিছুটা সরালেও কয়েক দিনের মধ্যেই তা ফের ভরে যায়।
রংপুর গ্রামের মনিমোহন মণ্ডল জাল দিয়ে মাছ ধরেন। খালে কচুরিপানার কারণে তিনি তিন মাস হলো মাছ ধরতে পারছেন না। তিনি জানান, গ্রামের একটি সমিতি থেকে এক লাখ টাকা ঋণ করে জাল কিনেছিলেন। নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করে সংসার চালান। এখন কচুরিপানার কারণে নদী বা খালে জাল ফেলার উপায় নেই। মনিমোহন বলেন, ‘এত কচুরিপানা আমরা কীভাবে সরিয়ে মাছ ধরব?’ কচুরিপানা অপসারণের ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৎস্যজীবী পরিমল কুমার বিশ্বাস ও কালিপদ মণ্ডল জানান, এলাকার শত শত মানুষ মাছ শিকার করে সংসার চালান। এখন আট মাস (এপ্রিল মাস থেকে) হলো নদী-খালে কোনো মাছ ধরতে পারছেন না। তারা বলেন, নির্বিঘ্নে পানিতে চলাচল না করতে পারলে মাছ বড় হবে না। কচুরিপানা অপসারণ না করা হলে মাছের উৎপাদনও ব্যাহত হবে। মাছ ধরতে না পেরে তাদের মতো অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিন জানান, ডুমুরিয়া উপজেলায় এবার ১৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এরমধ্যে, বিলসংলগ্ন নদী-খাল এলাকায় আমন চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।
কচুরিপানার কারণে বিশেষ করে চলতি আমন মৌসুমের ক্ষেত থেকে ফসল নৌযানে বাড়িতে আনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন উপজেলার কৃষক।
ধামালিয়া গ্রামের কৃষক আমির আলী ও অনিমেষ মণ্ডল বলেন, শীতকালীন সবজি ও আমন ধান মাঠ থেকে নৌকায় সহজ উপায়ে বাড়িতে আনা যেত। কচুরিপানার কারণে নদী-খালে নৌকা চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে দ্বিগুণের বেশি অর্থ খরচ করে ক্ষেতের উৎপাদিত পণ্য ঘরে আনতে হবে। এর প্রতিকার চান তারা।
স্থানীয় গৃহবধূদের ভাষ্য, তারা হাঁস পালন করেন। হাঁসগুলো পানিতে সাঁতার না কাটতে পারলে ঠিকমতো নদী-খালের স্বাভাবিক খাবার খেতে পারে না। এতে তুলনামূলক ডিম দেওয়ার পরিমাণ কমে যায়। কচুরিপানার কারণে হাঁস পালতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
উপজেলার বিল ডাকাতিয়ায় একটি বিল রয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিল। ওই বিলে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় শাখা খাল। যেগুলো কচুরিপানায় ভরে গেছে। এতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর কুমার বিশ্বাস বলেন, গ্রামে টিউশনি করেন এবং পাশাপাশি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে ডাকাতিয়া বিলে মাছ শিকার করতেন। এতে পরিবারের বেশ আর্থিক সচ্ছলতা ছিল। আট মাস হলো কচুরিপানার জন্য নৌকা নিয়ে মাছ শিকার করতে পারছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম জানান, উপজেলার অধিকাংশ নদী-খাল কচুরিপানায় ভরে থাকার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কচুরিপানা অপসারণের উপায় খুঁজে বের করবেন তিনি।











































