Home জাতীয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

13


ঢাকা অফিস


বাঙালীর ভাষা চেতনার উজ্জ্বল প্রকাশ অমর একুশে গ্রন্থমেলা রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে। বিকেলে বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষের প্রাক্কালে আয়োজিত মেলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। অবিসংবাদিত নেতাকে নিয়ে লেখা নতুন বইয়ের বড় সংগ্রহ থাকবে এবারের মেলায়। পরিসরের দিক থেকেও সবচেয়ে বড় হবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০।
বাঙালী জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক বাংলা একাডেমি মেলার আয়োজন করছে। এতে অংশ নিচ্ছে দেশের প্রায় সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বইয়ের প্রদর্শনী বেচা কেনার এমন বর্ণাঢ্য আয়োজন সারা বিশ্বেই বিরল। সকল বাঙালীর আবেগ ভালবাসার অনিন্দ্য সুন্দর প্রকাশ বইমেলা একইসঙ্গে প্রাণের মেলা হিসেবে খ্যাত। শুধু বইকে কেন্দ্র করা হলেও, কালক্রমে এটি হয়ে উঠেছে বঙ্গ সংস্কৃতির বৃহৎ উৎসব।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিল বাঙালী। রফিক শফিক বরকত জব্বারের তাজা রক্ত গড়েছিল নতুন ইতিহাস। তাঁদের রক্তে নতুন প্রাণ পায় আমরি বাংলা ভাষা। অমর একুশের চেতনাকে ধারণ করেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। অনন্য সাধারণ সূচনা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান হাউজের বটতলায় চট পেতে বসেছিলেন স্বপ্নবাজ এই প্রকাশক। মাত্র ৩২টি বই। বাংলাদেশী শরণার্থী লেখকদের লেখা এসব বই প্রকাশ করে চিত্তরঞ্জন প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী)। বইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান। নিজের প্রকাশিত বই নিয়ে একাই উদ্যোগটি অব্যাহত রাখেন চিত্তরঞ্জন। যতদূর জানা যায়, ১৯৭৬ সালে উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৮ সালে মেলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয় বাংলা একাডেমি। ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। কোন কোন সূত্র মতে, ১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক থাকাকালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজন করেন। বর্তমানে মেলা সম্প্রসারিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত।
বরাবরের মতোই একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থাপিত মঞ্চে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিানা মেলা উদ্বোধন করার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু রচিত তৃতীয় গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়াচীন’র মোড়ক উন্মোচন করবেন। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। এদিন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা করবেন। মেলা ঘুরে দেখবেন তিনি। এর পর সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
আয়োজক সূত্র জানায়, চলতি বছর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় আয়োজন করা হচ্ছে এবারের মেলা। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠান স্টল ও প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে। তবে মূল মেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ঐতিহাসিক উদ্যানে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠান স্টল ও প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে। বাংলা একাডেমিসহ ৩৩ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৩৪টি প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে। পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৬টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৫৮টি লিটলম্যাগকে স্টল দেয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য থাকছে শিশু কর্ণার। গ্রন্থমেলায় প্রবেশের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ চালু রাখা হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হয়ে আসার জন্য থাকবে ৬টি পথ।
আয়োজরা জানান, আগামীকাল সোমবার থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ২৫টি নতুন বই নিয়ে আলোচনা করা হবে। একুশে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ একুশে বত্তৃতা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এই অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিদিনই রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ এবং আবৃত্তি। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা এবং সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০১৯ গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেয়া হবে। এছাড়া ২০১৯ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। এবারের গ্রন্থমেলায় শুধু বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০৪টি বই। এর বাইরে অসংখ্য বই প্রকাশিত হবে। মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়োজক বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে মেলার কাজ করছি। এবারের মেলা আরও সুন্দর আরও অর্থবহ হবে। একুশের চেতনার মেলা একই চেতনার জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জন্মশতবর্ষে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বড় সুযোগ পেয়েছি আমরা। সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই। মেলা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গ্রন্থমেলা ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।