Home স্বাস্থ্য কিডনি রোগে হোমিওপ্যাথি

কিডনি রোগে হোমিওপ্যাথি

363


সাবিয়া সিদ্দিকা।।


কিডনির রোগ: কিডনি মানবদেহের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি হার্ট, ফুসফুস, মস্তিস্ক , লিভার প্রভৃতি অঙ্গের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটি পেটের ভিতরে, পিঠের দিকে, মেরুদন্ডের দু পাশে কোমরে অবস্থিত।দেখতে বরবটি বিজের মত ।সাধারণত কিডনিরোগকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়- যথা: ১ ) আকস্মিক কিডনি বৈকল্য (একিউট কিডনি ইনজুরি) এবং ২) দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ (ক্রনিক কিডনি ডিজিজ)। হঠাৎ কিডনিকে যেটা আক্রান্ত করে, তা একিউট কিডনি ইনজুরি। ধীরে ধীরে এবং দীর্ঘসময়ে কিডনি তার কার্যক্ষমতা হারাতে থাকলে, সেটা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ। অন্যভাবে বললে আরো দুই ভাগে কিডনি রোগকে ভাগ করা যায়- যেমন ১) মেডিক্যাল ও ২) সার্জিক্যাল।মেডিক্যাল কিডনি রোগ হল- কিডনি ফেইলিওর, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস থেকে কিডনির অসুখ, নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম, প্রস্রাবের সংক্রমণ রোগ ইত্যাদি।অন্যদিকে, ইউরোলজিস্টরা অপারেশন, এন্ডোস্কোপি ও লিথোট্রিপসির প্রয়োগ করে যেই চিকিৎসা করেন, সেগুলো সার্জিক্যাল কিডনি রোগ। মূত্রনালিতে জন্মগত অসুখ, পাথর, মুত্রনালির / রেনাল ক্যান্সার ও কিডনি প্রতিস্থাপন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য । এসব রোগকে কিডনি রোগ বলে। এটি ‘নীরব ঘাতক’ ।


অ্যানাটমিকাল অবস্থান: শারীরবৃত্তীয় ভাবে কিডনি দুটি উলম্বভাবে থোরাসিক ১২ থেকে ল্যাম্বার ৩ ভার্টেব্রা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে উদর গহব্বরের হাইপোকন্ড্রিয়াক, ইপিগ্যাস্ট্রিক, ল্যাম্বার ও আব্বিলিক্যাল রিজিয়নে অবস্থান করে ।


জানা প্রয়োজন:
মূত্রতন্ত্রকে প্রধানত: চারটি ভাগে ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১ )দুইটি কিডনী যা মূত্র নিঃসৃত করে থাকে, ২) দুটি মূত্রবাহী নালী যা প্রস্রাবকে কিডনী থেকে নীচে নিয়ে যায়। ৩) একটি মূত্রথলী বা ইউরিনারী ব্লাডার যেখানে মূত্র সঞ্চিত থাকে, ৪) মূত্রনালী যা দিয়ে প্রসাব বেরিয়ে আসে। কিডনি বা মূত্রযন্ত্রের কয়েকটি অংশ যেমন: লেফট্ কিডনী, রাইট কিডনি, এয়োর্টা,ইনফিরিয়ার ভেনাকেভা,লেফট্ ইউরেটার,রাইট ইউরেটার, ইউরিনারী ব্লাডার, ইউরেথ্রা । ডান কিডনি বাঁ দিকের কিডনী থেকে একটু নীচে থাকে। কারণ হচ্ছে, ডান দিকের কিডনীর উপরে থাকে লিভার। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কিডনি লম্বায় প্রায় ৪/৫ ইঞ্চি এবং প্রস্থে প্রায় আড়াই ইঞ্চির মত। পূর্ণ বয়স্ক লোকের প্রতিটি কিডনির ওজন প্রায় ১৪০ গ্রাম। কিডনীর আকৃতি বরবটির দানার মতো। ডানদিকের কিডনীর সামনে থাকে লিভার, বৃহদান্ত্র, ডিওডেনাম এবং ক্ষুদ্রান্ত্র। বাম দিকের কিডনির সামনে থাকে প্লীহা, প্যানক্রিয়াস, পাকস্থলীর অংশ, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্র।


কিডনির প্রয়োজনীয়তা বা কাজ: কিডনি রক্ত পরিশোধন করে, শরীরে তরল ও ধাতবের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কিডনি লোহিত রক্তকনিকা তৈরিতে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। রক্তের পটেনশিয়াল অব হাইড্রোজেন ব্যালান্স বজায় রাখে । কিডনির মূল কাজ হলো পুরো শরীরের রক্ত পরিশোধিত করা এবং দূষিত বর্জ্য বের করা। প্রতিদিন একটি কিডনি ১২০-১৫০ লিটার রক্ত পরিশোধিত করে এবং দেড় থেকে দুই লিটার দূষিত বর্জ্য বের করে। কিডনি রক্তকে পরিশ্রুত করার কাজ করে। বের করে সকল বর্জ্য পদার্থকে।


কিডনির রোগের লক্ষণ: ৫০% কিডনি অকেজো হওয়ার আগে লক্ষণ থাকে না। কিডনির কার্য ক্ষমতা কমতে থাকলে, ধীরে ধীরে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। রোগের প্রধান উপসর্গগুলো-প্রস্রাব কম/বেশি হওয়া ও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাবে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হওয়া, ওজন কমে যাওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশে পানি জমে ফুলে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, শরীরে ক্লান্তি ভাব, শীত লাগা, মাঝে মাঝেই মাথাব্যথা, শরীরে চুলকানি বা র‍্যাশ হওয়া, বমি ভাব হওয়া। প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন হওয়া । ক্ষুধামন্দা, বমি করা, রক্ত শূন্যতা দেখা দেওয়া। কোমরের দুই পাশে ব্যথা হওয়া ।


কিডনি রোগের কারণ : নানা কারণে কিডনি রোগ হয়। প্রায় ১০-৩০ শতাংশ বা আরো বেশি নেফ্রাইটিসের কারণে, ২০-৩০ শতাংশ ডায়াবেটিসের কারণে এবং ১০-২০ শতাংশ বিকল হয় উচ্চ রক্তচাপের কারণে। বংশগত কারণে, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাল সংক্রমণে, পাথর হলে, অস্বাস্থ্যকর ডায়েটে এবং ঔষধের প্রভাবে কিডনিজনিত রোগ হতে পারে।ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপকে বর্তমানে কিডনি রোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হার্ট ও মস্তিস্কে রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত, কিডনি অকেজো হওয়া, স্থুলতা এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের কারণেও কিডনি রোগ হয়। এছাড়া ধূমপায়ী এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিডনি অকেজো হওয়ার জন্য ওষুধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োাটিকের কারণে কিডনি বিকল হতে পারে এবং নেশা দ্রব্যের কারণে বিকল হয়। পানি শূন্যতার কারণে তাৎক্ষণিক কিডনি অকেজো হয়ে যায়। যেমন: ডায়রিয়া হলে, রক্তক্ষরণ হলে, বমি করলে, সন্তান প্রস্রব পরবর্তী জটিলতায় অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণ হলে। ইনফেকশনের কারণেও কিডনি রোগ হয়। দ্বিতীয় ধাপে কিডনির কার্যকরী ক্ষমতা প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ কমে যায় এতে রক্তের ক্রিয়েটিনিন ইউরিয়ার মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। শারীরিক দুর্বলতা রক্তস্বল্পতা, ফোলা ভাব ও রাতে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে যায়। শেষ স্টেজে কিডনি কার্যকরী ক্ষমতা ৯০ ভাগ লোপ পায়। গ্লোমারুলোনেফ্রাইটিস হল বিভিন্ন প্রকার রোগের সমষ্টি, যা থেকে কিডনির ছাঁকনিতে জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে ক্ষয় হয়,এটা তৃতীয় মুখ্য কারণ।


কিডনি রোগের ঝুঁকি: কিডনি রোগ ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মূত্রাশয় বাধা, গ্লোমারুলোনেফ্রাইটিস ,জন্মগত কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস সবচেয়ে সাধারণ ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। এবং উচ্চ রক্তচাপ,লিউপুসারিথেটোমাসাস, টক্সিনের অত্যধিক এক্সপোজার, সিকেল সেল ডিজিজ ইত্যাদি ।


পরিস্রাবণ হার: কিডনির পরিস্রাবণ হারের সীমা আছে, এটি নারী, পরুষ এবং বয়সের সাথে কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে।কিডনি রোগ আছে কিনা তা জানতে ডাক্তার এঋজ বা পরিস্রাবণের হার পর্যালোচনা করে থাকেন, অবশ্যই অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ রোগ নিশ্চিত করা হয়। পরিস্রাবণের হার স্বাভাবিক সীমা থেকে কমে গেলে তা কিডনির সমস্যা হিসেবে দেখা হয় এবং এটির মাত্রা অনুযায়ী(কতটা কমেছে স্বাভাবিক থেকে)বুঝা যায়।


কিডনি ফেইলিওর এর লক্ষণ : হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়া, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ক্ষুধা কম, বারবার বমি করা, খিঁচুনি হওয়া, অজ্ঞান হওয়া, হৃদযন্ত্রের সমস্যা । যাদের ডায়রিয়া, রক্তক্ষরণ ও গর্ভকালীন জটিলতা থেকে সাংঘাতিক কোনো ইনফেকশনের জন্য কিডনি ফেইলিওর হয়েছে, তাদের জ্বর থাকতে পারে। অনেকের জন্ডিস দেখা দিতে পারে।
দীঘস্থায়ী কিডনি রোগের পর্যায় : ইজিএফআর রক্ত পরীক্ষার(আনুমানিক গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ হার) উপর ভিত্তি করে দীঘস্থায়ী কিডনি রোগকে ৫টি পর্যায়ে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে যা কিডনির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে ব্যবহৃত হয়:


পর্যায় ১ জিএফআর হার স্বাভাবিক। তবে কিডনি রোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পর্যায় ২ জিএফআর হার ৯০ মিলিলিটারের চেয়ে কম এবং কিডনি রোগের প্রমাণ সনাক্ত করা হয়েছে।
পর্যায় ৩ জিএফআর হার ৬০ মিলিলিটারের চেয়ে কম, কিডনি রোগের প্রমাণ সনাক্ত হয়েছে।
পর্যায় ৪ জিআরএফের হার কিডনি রোগ হয়েছে কিনা তা নির্বিশেষে ৩০ মিলিলিটারের চেয়ে কম।
পর্যায় ৫ জিএফআর হার ১৫ মিলিলিটারের চেয়ে কম। রেনাল ব্যর্থতা ঘটেছে।

কিডনি ক্যান্সার: যখন রক্তে দূষিত পদার্থ বাড়তে থাকে এবং সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যানিমিয়া, হাড়ের দুর্বলতা, পুষ্টিহীনতা, মেটাবলিক ডিস্ফাংশনসহ স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যার কারণেই কিডনির টিউমার থেকে ক্যান্সার হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগজনিত ক্যান্সার হতে পারে। এর মধ্যে ট্রানজিশনাল সেল কার্সিনোমা- পেলভিস ইউরেটার জংশনে হয়ে থাকে। রেনাল সারকোমা- কিডনি সংযোগ সেলে শুরু হয়।


রোগ নির্ণয় : রক্ত পরীক্ষা,মূত্র পরীক্ষা, কিডনি স্ক্যান, কিডনি বায়োপসি, গ্লোমেরুালার পরিস্রাবণ হার (জিএফআর) ,ইমেজিং রোগ নির্ণয়ের জন্য এই পরীক্ষাগুলি করা হয়। সিরাম ক্রিয়েটিনিন, Blood Urea Nitrogen Ges EGFR হলো প্রচলিত কিডনি ফেলিউর এর রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি।


অতিরিক্ত ওষুধ সেবন কিডনী বিকল করার কারণ: অহরহ ওষুধ প্রচুর পরিমানে গ্রহন করলেও আমরা বেশী বেশী পানি পানের প্রয়োজনটি বেমালুম ভুলে যাই। কিডনী ড্যামেজ হওয়ার মূল কারণ নেফ্রাইটিস (Nephritis disease) এবং নেফ্রাইটিস হওয়ার মূল কারণের পেছনেও অন্যতম এই যথেচ্ছ ওষুধ ব্যবহার। কিডনী নিয়মিত আমাদের সকল সেবন করা ওষুধসমূহ নিষ্কাশন করে কিন্তু তার মাঝেও ওষুধের দু’য়েকটা কণা কিডনীর অজান্তেই কিডনীর গায়ে লেগে থাকে। পরবর্তীতে সেই কণাগুলোর উপর নানারকমের জীবাণু, কেমিকেল, মৃতকোষ ইত্যাদি জমতে জমতে সেটির গঠন বদলে যায়। ফলে একসময় কিডনী আর সেই কণাটিকে চিনতে পারে না। এক সময় কণাটি নিজে কিডনীর একটি অংশ হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কিডনী সেই কণাটিকে গ্রহন করতে রাজী হয় না।শেষ পর্যন্ত কিডনীর ভিতরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যাকে ডাক্তারী ভাষায় বলে অঁঃড় রসসঁহব ৎবধপঃরড়হ। উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস কিডনীর যতটা ক্ষতি না করে, তারচেয়ে বেশী ক্ষতি করে এসব যুগের পর যুগ সেবন করে চলা ক্ষতিকর নানাবিধ কেমিক্যাল দ্রব্যে প্রস্তুত ওষুধসমূহ।


বিসদৃশ পদ্ধতিতে কিডনির চিকিৎসা : এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক চিকিৎসা ব্যবস্থা যা কল্পনার বাইরে। কিডনি যদি বর্জ্য পদার্থ বের না করতে পারে, তাহলে কিডনি বিকল হবার সম্ভবনা বাড়ে । এই অবস্থায়, ডায়ালাইসিস কিংবা কিডনি প্রতিস্থাপনের দরকার হয়। ডায়ালাইসিস কৃত্রিমভাবে শরীর থেকে বর্জ্যপদার্থ ও ফ্লুয়িড বের করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায়, একটা যন্ত্র শরীরের বর্জ্য ও ফ্লুয়িডকে ছেঁকে নেয়। পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিসে পাতলা একটা নল (ক্যাথিতার) ডায়ালাইসিস মিশ্রণ সহ তলপেটে ঢোকানো হয়, যাতে বর্জ্য ও অতিরিক্ত ফ্লুয়িড শোষিত হয়। প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে ডোনারের দেওয়া সুস্থ কিডনি দেওয়ার প্রক্রিয়া অন্তর্গত। শরীর যাতে নতুন অঙ্গকে বাতিল না করতে পারে, তাই রোগীকে আজীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হয়।যেহেতু কিডনি ডায়ালাইসিস এবং নতুন কিডনি লাগানোর মতো চিকিৎসায় লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়, সেহেতু বেশির ভাগ রোগীই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে।


ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাতে হোমিওপ্যাথি ওষুধ: ক্রিয়েটিনিন এক ধরনের বর্জ্য। রক্ত যখন কিডনির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন কিডনি এই রক্ত ছেঁকে ক্রিয়েটিনিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে। কিডনিকে সুস্থ রাখতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাতেই হবে।দেহে ২৪/৭ বিপাকক্রিয়া চলছে। বিপাকক্রিয়ার কারণেই শরীরে একাধিক বর্জ্য পদার্থও তৈরি হচ্ছে। কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে এই উপাদানকে বাইরে বের করে দেয়। হোমিওপ্যাথির সাহায্যে ক্রিয়েটিনিনকে স্বাভাবিকের গতিতে আনা সম্ভব। যারা ডায়ালিসিস নিচ্ছেন, তাঁরাও হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে উপকার পাবেন।


কিডনিতে পাথর : কিডনি স্টোনের প্রাথমিক লক্ষণগুলো নির্ভর করে কিডনির কোথায় স্টোন আছে এবং কীভাবে আছে। স্টোনের আকার আকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। পাথর খুব ছোট হলে সেটি কোনো ব্যথা ছাড়াই দীর্ঘদিন এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত শরীরে সুপ্তভাবে থাকতে পারে। এ পাথর কখনো মূত্রগ্রন্থি, কিডনী, মূত্রনালী, আবার কখনো মূত্রথলিতে এসে জমা হয়। কিডনীতে অনেক রকম স্টোন হতে পারে, যেমন ইউরিক স্টোন, স্ট্রভাইন স্টোন, সিস্টিক এবং ক্যালসিয়াম স্টোন হতে পারে।

কিডনি বিকল : প্রোটিন এবং ইউরিয়া যখন প্রস্রাবের সাথে বেশি পরিমাণে বের হয়ে যায় তখন তাকে নেফ্রোটিক সিনড্রোম বলে।সাথে প্রস্রাবে এলবুমিনের পরিমাণ কমে যায় ও রক্তে কোলেষ্টেরোলের পরিমান বেড়ে যায়। নেফ্রোটিক সিনড্রোম সাধারণত আপনার কিডনিতে ছোট ছোট রক্তনালী গুলির ক্লাস্টারগুলির ক্ষতি হয়ে থাকে যা রক্ত থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত পানি ফিল্টার করে।


কিডনির হোমিও চিকিৎসা: “কিডনি রোগে হোমিওপ্যাথি” এই বিষয়ে লিখার সময় Organon Of Medicine এর অ্যাফোরিজম ২ এর কথা মনে পড়ল The highest ideal of therapy is to restore health rapidly, gently, permanently, to remove and destroy the whole disease in the shortest, surest, least harmful way, according to clearly comprehensible principles. হ্যাঁ এটাই হোমিওপ্যাথির সৌন্দর্য।বিসদৃশ পদ্ধতিতে কিডনি রোগের চিকিৎসা কত যে বেদনাদায়ক সেকথা ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারছি না।সেখানে হোমিওপ্যাথি ‘চিকিৎসার আদর্শ হলো দ্রুত, মৃদুভাবে, স্থায়ী ভাবে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা । হোমিওপ্যাথি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা, এখানে উপসর্গ সর্বেসর্বা । এটি নিরাপদ, প্রাকৃতিক এবং কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা । ক্রিয়েটিনিন কমানো এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা কিডনি ফেইলিওর এর চূর্ড়ান্ত অবস্থায়ও আশানুরূপ রেজাল্ট দিয়ে চলেছে হোমিওপ্যাথি। যদিও বয়স এবং রোগ জটিলতা অনুসারে একেক জনের ক্ষেত্রে চিকিৎসার রেজাল্ট ভিন্ন হয়ে থাকে। বিজ্ঞ, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ডা. হ্যানিম্যানের নির্দেশিত নিয়মনীতি অনুসারে কিডনি রোগীর চিকিৎসা ব্যক্তি স্বাতন্ত্রভিওিক লক্ষণ সমষ্টি নির্ভর ও ধাতুগতভাবে দিলে আরোগ্য সম্ভব। সম্পূর্ণ কেসটেকিং করে সর্বোচ্চ সংখক লক্ষণ নিয়ে ওষুধ নির্বাচন করতে হবে । হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং সবচেয়ে জনবান্ধব চিকিৎসা পদ্ধতি। হোমিওপ্যাথি রোগের নয় রোগীর চিকিৎসা করে। কিডনির চিকিৎসায় বিশেষভাবে কার্যকর হোমিওপ্যাথি । হোমিওপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক অনেক কম। এখানে বেশ কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের একটি তালিকা রয়েছে, যা কিডনি রোগের চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয় । রোগীর শারীরিক মানসিক সমস্যা গুলোর স্টেটমেন্ট নিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় সদৃশলক্ষণে ব্যবহৃত কিছু ঔষধ: যথা: Apis Mellifica, Arsenic Album, Clemetis Erecta, Thuja, elladonna,Cantharis,Conavallaria,Terebinthinae,Berberis Vulgaris,Lycopodium,Solidago Virgaurea,Merc Sol,Pareira Brava,Kali Bichromicum, Silicea, Nxu vomica, Chelidonium Majus, Cuprum Arsenicosum, Aurum Muriaticum, Urtica Urens, Sarsaparilla, Senecio Aureus , PHOSPHORUS ইত্যাদি । হামিওপ্যাথি অ্যান্টিবায়োটিকের আশ্রয় না নিয়ে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা করে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। এটি নিরাপদ, প্রাকৃতিক এবং কার্যকর । চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে ওষুধ সেবন করা উচিত।হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিন সুস্থ থাকুন।


লেখক যোগাযোগ:

সাবিয়া সিদ্দিকা (Sabia Siddika)
হোমিওপ্যাথ, ডিএইচএমএস(DHMS-FHMCH),
ফার্মগেট, ঢাকা। মোবাইল:০১৭১৮-৪৪৮৭৫৪,
E-mail: libiasabia@gmail.com