Home জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য স্বৈরাচারের পদধ্বনি

নির্বাচন নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য স্বৈরাচারের পদধ্বনি

15


ঢাকা অফিস।।
‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না’- এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন বক্তব্যকে স্বৈরাচারের পদধ্বনি মনে করছে বিএনপি। তার এই বক্তব্যের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সুবিধা পাবে বলেও মনে করছে দলটি। বিএনপি’র নেতাদের ভাষ্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বক্তব্য উদ্বেগজনক। এই বক্তব্য জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে এনসিপি’র নেতারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে চাচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নও উঠেছে বলে মনে করছে দলটি।

Pause

Mute
Remaining Time -9:59
Unibots.com

মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জাতীয় যুব সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘নির্বাচনের ডেট ঘোষণা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না।’ -এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আজকে আমরা অনেক কথা শুনতে পাই, কেউ কেউ বলেন, হুমকি দেন যে, আগামী দিন (ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন হতে দেবেন না। মনে হচ্ছে, সেই স্বৈরাচারের যে আচরণ ছিল, স্বৈরাচারের যে কথা ছিল, সেই ধরনের কথার পদধ্বনি আমরা শুনতে পাই। আমি আহ্বান জানাবো, আপনাদের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকেন, ধমক দিয়ে দাবিয়ে রাখা যাবে না নির্বাচনী অভিযাত্রাকে।

ডা. জাহিদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন প্রধান উপদেষ্টা তো প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসিকে বলে দিয়েছেন ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। যখন আমরা শুনতে পাই সরকারের একটি অংশ, এখনো যারা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, সেই অংশের পক্ষ থেকে কেউ কেউ যখন বলেন, এটা না করলে নির্বাচন হতে দেবো না, ওটা না করলে হতে দেবো না। আবার গণতন্ত্রের কথা বলবেন।

এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এর জবাব দেবে সরকার। আমরা যেটা মনে করছি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়ে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোকে এমন বক্তব্য বা কর্মসূচি দেয়া উচিত নয়, যেটা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয় এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সুবিধা পায়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই বক্তব্যগুলো তো খুব উদ্বেগজনক। এই কারণে যে, পাটওয়ারীদের লোক তো এই সরকারে আছে। তাদের টিমের দু’জন বহাল। সেই অবস্থায় যদি তারা এই কথা বলেন, তাহলে এই বক্তব্য নিয়ে শুধু আমি কেন সাধারণ মানুষের ভেতরেও একটা আতঙ্ক ছড়ায়। বিষয়টা কি? জনগণের সঙ্গে কি প্রতারণা করার চেষ্টা হচ্ছে, নাকি জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, নাকি আসলেই তাদের কথাগুলো সত্যি। এই প্রশ্নগুলো তো চলে আসে।
এ প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, তারা (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) সরকারের বিপক্ষে এবং সাধারণ মানুষের আবেগের উল্টো দিকে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়া উচিত তাদের। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার মতো। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সব স্টেট হোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনও অনেকগুলো সংস্কার করেছে। যেগুলোর মধ্যে বেশকিছু প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সেখানে বলা তো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ করার শামিল। আমার মনে হয়, তাদের থামানো উচিত। কিংবা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।