Home Uncategorized খুলনার বেনজির হোসেন বিক্রি করলো ত্রাণের টিন

খুলনার বেনজির হোসেন বিক্রি করলো ত্রাণের টিন

175


স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার রূপসায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ অধিদপ্তরের অবিক্রয়যোগ্য সরকারি টিন বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রূপসার নৈহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বেনজির হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টিন আত্মসাৎ করে বিক্রির অভিযোগে খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের জনগণের পক্ষে তালিমপুরের বাসিন্দা বলরাম সেন ২রা জুলাই মঙ্গলবার এ লিখিত অভিযোগ করেন।


লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য সরকারিভাবে টিন বরাদ্ধ দেওয়া হয়। আর এই বরাদ্দকৃত টিন এনে দেয়ার কথা বলে রূপসার তালিমপুরের বাসিন্দা মৃত দেলোয়ার মাস্টারের ছেলে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয় দানকারী বেনজির হোসেন বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করে। তারপর সরকারি দপ্তর থেকে দুস্থ ও অসহায় মানুষের কথা বলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এনে নিজে আত্মসাৎ করছে। তারি ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সরকারি টিন পিআইও দপ্তর থেকে বরাদ্দ এনে এলাকায় বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিগত ডিসেম্বর মাসে পূর্ব রূপসা রেলস্টেশন এলাকার চা দোকানদার ও তালিমপুর মুচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ভূ’পতির কাছে ৩ বান সরকারি টিন ১৯ হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি করে। যা ক্রেতা টিন পাওয়ার পর জানতে পারে এগুলো সরকারি টিন।


তখন সে বেনজিরকে টিনগুলো ফেরত দিতে চায়লে সে টিন ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। যে কারনে ভূ’পতি টিন চালে না লাগিয়ে ঘরে রেখে দেয়। সমপ্রতি একথা লোক মুখে জানাজানি হলে পরবর্তীতে কে বা কারা এসে টিনের ভিডিও করে নিয়ে যায়। এই খবর পেয়ে গত ১লা জুলাই বেনজির লোকজন নিয়ে ভূ’পতির চায়ের দোকানে এসে মারমুখি হয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে যায়। তাছাড়া বেশি বাড়াবাড়ি করলে এলাকা ছাড়া করা হবে বলেও শাসানো হয়। পরবর্তীতে নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুলের লোকজন এসে টিন ফেরত নিয়ে যায়। এছাড়া একই এলাকায় আরো কয়েক বাড়িতে টিন বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে বেনজিরের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বেনজিরের সাথে একটি চক্র সরকারি টিন বিক্রীর সাথে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যা সঠিক ভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে সরকারি টিন ক্রেতা ভূ’পতি জানান, বিগত ডিসেম্বর মাসে তালিমপুর গ্রামের মৃত দেলোয়ার মাস্টারের পুত্র বেনজির হোসেন টিন বিক্রির কথা জানায়। তারপর আমি ১৯ হাজার ৫শত টাকা দিয়ে তার নিকট থেকে ৩ বান টিন ক্রয় করি। টিন বাড়িতে আনার পর সরকারি টিন দেখে তাকে বার বার ফেরত দিতে চাইলেও সে নেয়নি। যার কারণে আমি টিন ঘরে না লাগিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। গতকাল চেয়ারম্যান সাহেব ফোনে আমাকে বলেন, এ নিয়ে কোন কিছুর দরকার নেই টিন ফেরত দাও। তার লোক পাঠিয়ে টিন নিয়ে গেছে। আমি একজন গরিব মানুষ এই টিন কিনে এখন বিপদে পেরেছি। এ ব্যাপারে নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল দাবি করেন- আমি টিন ফেলত নেইনি। আমার কিছু জানা নেই।


বিষয়টি নিয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট রূপসা উপজেলা পিআইওকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন জানান, এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সত্যতা পাওয়া গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।


এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির হোসেন দাবি করেন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সঠিক নয়।আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে । আমি বিগত সংসদ নির্বাচনে শিল্পপতি সালাম মুর্শেদীর পক্ষে কাজ করেছি। এমপি সাহেবের আমি খুব কাছের মানুষ তাই প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে ।