বিশেষ প্রতিনিধি
প্রলয়ঙ্করী গতিতে ধাবমান ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ শব্দের অর্থ কি ? নাম রেখেছে কে ? আমফান নামকরণ হলো কিভাবে ? ভয়ঙ্কর এই ঘূর্ণিঝড়টি দানবের গতিতে এগিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় ইতিহাস জানার কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে অনেকেরই। আমফান নামটি দিয়েছে থাইল্যান্ড। থাই ভাষায় ‘আমফান’ অর্থ দৃঢ়তা, স্বাধীন চিত্ত, শক্তি। সিডরের পর তা-ব চালিয়ে যাওয়া একের পর এক ঝড়ের নামকরণ হয়- আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরা, নার্গিস, ফণী ও বুলবুল ইত্যাদি। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘আমফান’। আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য ৬৪টি নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার শেষ নামটি ছিল ‘আমফান’। ক্রান্তীয় অঞ্চলের ৮টি দেশ মিলে ১৬ বছর আগে এই তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার ১৩টি দেশ মিলিয়ে ১৬৯টি নামের নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে। আমফান শেষে পরবর্তী সাইকোনের নাম ওই তালিকা দিয়েই শুরু হবে।
বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরসহ ভারত মহাসাগরের উত্তরভাগে যেসব ঘূর্ণিঝড় দেখা দেয়, সেগুলোর নামকরণ করে ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউএমও)। নামকরণ করার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। এছাড়াও এই অঞ্চলের ১২টি দেশকে সাইকোন বা অন্যান্য ঝড়ের আগমনবার্তা এবং সে সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়ার দায়ভার ন্যস্ত করা হয়েছে আইএমডি-র ওপর। ভবিষ্যতে আসন্ন ১৬৯টি ট্রপিক্যাল সাইকোন বা ঘূর্ণিঝড়ের নামের একটি তালিকা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি সাইকোনই বঙ্গোপসাগর অথবা আরব সাগরে আবির্ভূত হবে। পৃথিবীর যে কোন মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাইকোনের নামকরণ করে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ছয়টি আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র।
কীভাবে করা হয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ সেই সম্পর্কে জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডাব্লিউএমও) এবং এসক্যাপ (ইউনাইটেড ন্যাশনস ইকোনোমিক এ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া এ্যান্ড দ্য পেসিফিক) এর অধীনস্থ আটটি দেশ-ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, এবং থাইল্যান্ড ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে। প্রতিটি দেশ তাদের নামের তালিকা পাঠানোর পর তা চূড়ান্ত করে একটি (ডাব্লিউএমও/ এসক্যাপ) প্যানেল, যার অফিসিয়াল নাম প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইকোনস (পিটিসি)। ২০১৮ সালে (ডাব্লিউএমও/ এসক্যাপ) দলে প্রবেশ করে আরও পাঁচটি দেশ- ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন। আইএমডি যে ১৬৯টি নামের একটি তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে ১৩টি দেশ থেকে ১৩টি করে নাম নির্বাচিত হয়। নতুন তালিকায় ঢোকানো হয় পূর্ববর্তী তালিকার একটি মাত্র নাম আমফান। কারণ নতুন তালিকা প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোন ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই নামটি ব্যবহৃত হয়নি। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর এবং দক্ষিণ আন্দামান সাগর সংলগ্ন এলাকায় ঘনীভূত হতে থাকা এই ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জন্যই বর্তমানে সতর্কবার্তা জারি করেছে আইএমডি।










































