অভয়নগরে মিল শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা
অভয়নগর প্রতিনিধি ও যশোর অফিস
অভয়নগরের জুট মিলের শ্রমিক শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাই (৫৭)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে অভয়নগর উপজেলার মোয়াল্লেমতলা গ্রামের মৃত. শেখ ইসমাইল হোসেনের ছেলে। নিহত আতাই এক সময়ে চরমপন্থী দলের সদস্য ছিল। প্রতিপক্ষ নিশানের স্বজনরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে পুলিশ ধারণা করেছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাইকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, খুলনার ফুলতলা থানার উত্তর ডিহি, পায়গ্রাম কসবা, ফুলতলা বাজার এলাকায় নিহত শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাই ও তার শ্যালক গিয়াসউদ্দিন চরমপন্থী দলের সক্রিয় সদস্য ছিল। গিয়াসউদ্দিন একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিত। ২০১৪ সালে আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গিয়াস উদ্দিন গ্রুপের হাতে প্রতিপক্ষ চরমপন্থী নিশান খুন হয়।
নিশান হত্যায় তার পরিবারের কেউ মামলা না করায় অভয়নগর থানা পুলিশ বাদী হয়ে গিয়াস উদ্দীন, নিহত শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাইসহ অন্যান্য আসামিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার পর গিয়াস উদ্দীন ও নিহত শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাই ভারতে পালিয়ে যায়। সাক্ষ্য প্রমানের অভাবে নিশান হত্যা মামলাটি খারিজ হলে শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাই প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে আসে এবং জে.জে.আই জুট মিলে বদলী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে থাকে।
নিশান হত্যার প্রতিশোধ নিতে নিশানের খালাতো ভাই লিমন, তার সহযোগী কাজী তারেক, মুন্নাসহ অন্যান্যরা শেখ আতিয়ার রহমানকে খুন করতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাই হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন এবং খুনিদের গ্রেফতারের লক্ষে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। অভয়নগর থানা পুলিশসহ যশোর জেলা পুলিশের উধর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
যশোরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হত্যাসহ ১২ মামলার আসামি বাবু
যশোর অফিস
যশোরে হত্যাসহ ১২ মামলার আসিামি বাবু (৪০) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার দিনগত মধ্যরাতে (মঙ্গলবার) সদর উপজেলার সাড়াপোল এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে।
যশোর কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম বলেন, একদল সন্ত্রাসী অপরাধমূলক কাজ করার জন্য সাড়াপোল কালাবাগ এলাকায় অবস্থান করছিল বলে খবর পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী মধ্যরাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও দশ রাউন্ড গুলি চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকা তল্লাশি করে একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই ব্যক্তি। এলাকাবাসী তাকে বাবু বলে শনাক্ত করেন। তবে তার বাবার নাম জানা যায়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা দাবি করেন, ঘটনার সময় তাদের দুই সদস্য কনস্টেবল আবু বকর ও কনস্টেবল খায়রুল আহত হন। তাদের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল থেকে ২০০ পিস ইয়াবা, ৫৪ বোতল ফেনসিডিল, একটি ওয়ান শুটারগান এবং কিছু গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোহাম্মদ স্বপন জানান, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। হাসপাতালে তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়।
পুলিশ ইনসপেক্টর তাসমীম বলছেন, নিহত বাবুর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকসহ ১২টি মামলা আছে। পুলিশ তাকে খুঁজছিল।
যশোরসহ চার জেলায় আরো ১৫ নমুনা পজেটিভ
যশোর অফিস
দুই দিন বিরতির পর ফের যশোরে করোনা পজেটিভের দেখা মিললো। এদিন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেনোম সেন্টারের দেওয়া ফলাফলে এই জেলার পাঁচটি নমুনাকে পজেটিভ বলে শনাক্ত করা হয়।
একই দিন চুয়াডাঙ্গারও সমসংখ্যক নমুনা পজেটিভ ফল দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার যবিপ্রবি ল্যাবে মোট ১৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে যশোরের ৩২টি, ঝিনাইদহের ২১টি, মাগুরার ৩৬টি এবং চুয়াডাঙ্গার ৬২টি নমুনা ছিল।
ফলাফলে দেখা যায় যশোরের ৩২টির মধ্যে পাঁচটি, ঝিনাইদহের ২১টির মধ্যে একটি, মাগুরার ৩৬টির মধ্যে চারটি এবং চুয়াডাঙ্গার ৬২টির মধ্যে পাঁচটি নমুনা পজেটিভ। বাদবাকি ১৩৬টি নমুনার ফল নেগেটিভ হয়।
যশোরে সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ ২০জনের করোনা জয়
যশোর অফিস
প্রাণঘাতি কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার যশোর জেলায় দুই চিকিৎসক, দুই সেবিকা ও এক সাংবাদিকসহ আরো ২০ জন সুস্থ হয়েছেন। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলার ৫ জন, চৌগাছায় ৩ জন, বাঘারপাড়ায় ১ জন , মণিরামপুরে ১ জন ও কেশবপুরে ১০ জন রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, সোমবার পর্যন্ত যশোরে মোট ২৪ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, যশোর সদরে সুস্থ হওয়া ৫ জন যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারা হলেন সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমান (৬২) , জাহাঙ্গীর হোসেন (২৬), শারমিন রহমান (৫০), নুর আলম (৫৬) ও শামসুর রহমান (৬০)। এছাড়া চৌগাছা উপজেলার চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবিকা হাফিজা পারভীন (৪৭), সেবিকা শিমুল আক্তার (২৭) ও পৌরসভার মডেল পাড়ার রোকেয়া বেগম (৪৭)। বাঘারপাড়া উপজেলার আব্দুল মান্নান (২৫), মনিরামপুর উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৮)। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রদীপ্ত চৌধুরী (২৭), ডা. জাহিদুর রহমান (২৮) , উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস (২৯), স্বাস্থ্যকর্মী আশিকুর রহমান (২৮), আমিনুল ইসলাম (২৭), ওয়াহেদুজ্জামান (৩০), নাজমুল করিম (২৯), সাধারণ রোগী মুনছুর আলী (৩৫), ফিরোজ আহমেদ (৩৫) ও বকুল বেগম (২৭)। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন জানান, গত ২৫ ,২৭ ও ২৮ এপ্রিলের মধ্যে সুস্থ হওয়া মোট ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিলো। এরপর ২য় ও ৩য় পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি জানান, হাসপাতালের সেবিকা হাফিজা ও শিমুল আক্তারের করোনা শনাক্ত হয়েছিলো গত ২৬ এপ্রিল। আর রোগী রোকেয়ার শনাক্ত হয় ২৫ এপ্রিল। করোনামুক্ত হওয়ার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, রবিউল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্বাস্থ্যকর্মী । গত ১২ এপ্রিল যশোর জেলায় সর্বপ্রথম তিনি করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। ২য় রিপোর্টের ফলাফলও তার করোনা পজেটিভ হয়। পরে ৩য় ও ৪র্থ নমুনা পরীক্ষায় রবিউলের ফলাফল করোনা নেগেটিভ হয়। যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরবিার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ জানান, যশোর সদরের ৫ জনের মধ্যে ২৭ এপ্রিল সিদ্দিকুর রহমান , শারমিন রহমান ও নুরআলম করোনা পকেটিভ শনাক্ত হন। এছাড়া ২৩ এপ্রিল শামসুর রহমান ও ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীর হোসেনের করোনা ফলাফল পজেটিভ আসে। যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, সোমবার ২০ জন করোনামুক্ত হওয়ার পর তাদের মেডিকেল ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ তেকে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। যশোরের করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। জেলায় মোট করোনামুক্ত হলেন ২৪ জন। সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন আরো ৪৯ জন।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন: গৃহবধূর শরীরে লোহার গরম ছ্যাঁকা, স্বামী ও বৌমা আটক
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শরীরে লোহার গরম ছ্যাঁকা। পা থেকে শুরু করে মলদ্বার পর্যন্ত পুড়িয়ে গভীর ক্ষত করে দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা প্রেসকাবে মঙ্গলবার ( ১২ মে) সকালে এমনই ভয়ানক নির্যাতনের ক্ষত দেখালেন মারাত্মক অসুস্থ গৃহবধূ (২২)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম গাজীর তৃতীয় স্ত্রী।
অসুস্থ শরীর নিয়ে বিলকিস সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তার স্বামীর প্রথম স্ত্রী’র দুটি মেয়ে ও দুটি ছেলে রয়েছে। মেয়ে দুটি বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে আছে। এক ছেলে বিয়ে করে বাড়িতে আছে। ছোট ছেলে স্থাণীয় একটি মাদরাসায় পড়াশুনা করে। এমতাবস্থায় তার স্বামী ২য় একজনকে বিয়ে করেন। কিন্তু নির্যাতন সইতে না পেরে ওই মহিলা তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বিয়ে করেন। প্রায় পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের আরো একটি ছেলের জন্ম হয়।
গৃহবধূ বলেন, একই গ্রামে আমার বাবার বাড়ি। ৯ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। শুধু টাকা চায়। একপর্যায়ে ভাইদের বলে তার অংশের ৫ শতক জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া, আরো ৭ শতক জমি আমার স্বামী নিজেই চাষাবাদ করে থাকেন। কিন্তু এই জমিটুকুও তিনি বিক্রি করে তাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। জমি বিক্রিতে অমত করায় তার ওপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। স্বামী ও বৌমা মিলে তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতে থাকে।
সবশেষ গত শুক্রবার (৮ মে) বিকালে স্বামী ও বৌমা মিলে লোহা গরম করে তার পা থেকে শুরু করে মলদ্বার পর্যন্ত ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এতে শরীরের ওই সমস্ত অঙ্গগুলো গভীর ক্ষত হয়। তিনি বলেন, এসময় আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। জ্ঞান ফেরার পর অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করলেও চিকিৎসা না দিয়ে তারা আমাকে ঘরে আটকে রাখলো দুদিন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে আমার ভাই ও বোনেরা এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
বিলকিসের ভাই সাইফুল ইসলাম এসময় বলেন, বোনকে উদ্ধার করে গত রোববার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু করোনার কথা বলে বোনকে ভর্তি না নিয়ে ওষুধ লিখে দিয়ে ডাক্তার বলেন, পরে আবার আসতে। তিনি বলেন, ওষুধ খাওয়ার পরও আমার বোন খুব অসুস্থ রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার।
এদিকে, সাংবাদিকদের সহায়তায় তিনি তার বোন সদর থানায় নিয়ে গেলে ওসি আসাদুজ্জামান মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন তাদের প্রতি। এমনই হৃদয় বিদারক ও লোমহর্ষক ঘটনায় ওই নির্যাতনকারীদের তাৎক্ষণিক আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এবং পুলিশি সহায়তায় মারাত্মক অসুস্থ গৃহবধুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এঘটনায় মামলা হয়েছে। নির্যাতিতার স্বামী ও তার বৌমাকে আটক করা হয়েছে।
অসহায় কর্মহীন পরিবারের মাঝে নৌবাহিনীর ইফতার ও ত্রাণ বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে নৌবাহিনী। অসহায় ও দুস্থ পরিবারে ঘরে ঘরে ত্রাণ ও ইফতার সামগ্রী পৌছানোসহ জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নৌ ঘাঁটি মংলা কর্তৃক দাকোপ উপজেলার বাজুয়া ইউনিয়নে ৩০০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন হতে প্রাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
নৌ ঘাঁটি তিতুমীর কর্তৃক হাফিজনগর মহিশেখ বস্তি এলাকায় ২০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া নৌ ঘাঁটি সোলাম কর্তৃক জিরোপয়েন্ট ও গলামারি এলাকায় ১০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অপরদিকে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ও ১০০টি জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় ৬৫৪টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা প্রদান করা হয়। সাধারণ জনগণকে কাঁচা বাজার, ঔষধের দোকান ও মসজিদ ব্যবহারে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সাথে অনুমোদিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দোকান নির্দিষ্ট রুটিন সময়ের পর বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, মংলা বন্দর, আপাবাড়ি, চাঁদপাই, চিলা, বুড়িরডাঙ্গা ও চরকানাই এলাকায় টহল পরিচালনা করে। এ সময় ২২৭টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা প্রদান করা হয়।
মোড়েলগঞ্জে বিপণন নিষিদ্ধ পলিথিন ভস্মিভূত
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে মঙ্গলবার দুপুরে বিপিণন নিষিদ্ধ অর্ধলক্ষাধিক টাকার পলিথিন উদ্ধার করে ভস্মিভূত করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.কামরুজ্জামান ও থানা অফিসার ইন চার্জ কেএম আজিজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একটি টিম মোড়েলগঞ্জ পৌর বাজারে অভিযান চালায়। এসময় বাজারের মুদি পট্রি এলাকায় জনৈক মনির হোসেনের দোকান থেকে বিপিণন নিষিদ্ধ ৪ মন পলিথিন উদ্ধার করা হয়। অভিযানের খবর টের পেয়ে দোকানী মনির পালিয়ে যায়। পরে এসব পলিথিন উপজেলা শিক্ষা অফিস সংলগ্ন মাঠে ভস্মিভূত করা হয়।
শরনখোলায় কাঁটাতারে অবরুদ্ধ ‘মা’
মোঃ আনোয়ার হোসেন, শরনখোলা
মা-কথাটি ছোট্র অতি কিন্তু জেনো ভাই ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই। সেই মধুর নামটি আজ সম্পুর্ন ভূলে গেছে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত জগদীশ চন্দ্র হালদারের ছেলে নারায়ন চন্দ্র হালদার (৩৮)। বর্তমানে তিনি ওমান প্রবাসী হলেও নারায়নের নির্দেশে তার স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী সব কিছুরই কলকাঠি নাড়ছেন স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের ইশারায়। প্রবাসী নারায়নের মা ময়না রানী (৬৫) বলেন, দিন মজুর স্বামীর ঘরে থেকে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ৪টি সন্তানকে অনেক কষ্টে বড় করেছি। আজ মেজ ছেলে অনেক পয়সাওয়ালা হওয়ায় আমার নাম পর্যন্ত শুনতে পারে না। কোন দিন ফোন করে বলে না মা তুমি কেমন আছ ? বৌ এবং প্রতিবেশি এক স্কুল মাষ্টার এখন নারায়নের সব। তাদের কথা শুনলেও আমার কোন কথা শোনে না এক সময়ের ছোট্র নারায়ন।
গেল দশ বছর পুর্বে আমার স্বামী মারা যায়। তার রেখে যাওয়া বসত ভিটা ভাগ করে ছেলেরা যে যার মতো এখন আলাদা। বড় ছেলে গঙ্গাচরন ও মেজ ছেলে নারায়ন দীর্ঘ দিন ধরে কোন খোঁজ-খবর না নেওয়ায় ছোট ছেলে দিন মজুর বাসুদেবের ঘরে আছি। এখন আমি মরে গেলে হয়তো ওরা শান্তি পাবে। মনের ভুলেও নারায়নের ঘরে যাইনা। কিন্তু কয়েক মাস আগে নারায়ন বিদেশ থেকে বাড়িতে আসে তখনও মেজ খোকা আমাকে ডাকেনি। লোক মুখে শুনেছি বিদেশ থেকে কত জনের জন্য কতকিছুই নিয়ে এসেছেন আমার বাবা কিন্তু তাতে আমি কোন কষ্ট পাইনি। ঠাকুরের কাছে সব সময় প্রার্থনা করি বিদেশের মাটিতে আমার খোকা যেন ভালো থাকে।
তবে, দেশে আশার কিছু দিন পর তুচ্ছ ঘটনায় ছোট খোকা বাসুদেব ও নারায়নের মধ্যে মারামারি হয়। এতে নারায়ন তার স্ত্রী সুপ্রিয়া রানীর গর্ভের সন্তান নষ্টের মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শরণখোলা থানায় বাসুদেব (৩২) ও তার স্ত্রী মনিকা রানী (২৮) কে আসামী করে একটি মামলা করেন। সম্প্রতি ওরা জামিনে আসলে প্রবাসে থাকা নারায়নের নির্দেশে ছোট বৌ সুপ্রিয়া রানী আমাকে সহ বাসুদেবদের বাড়ী থেকে বাহিরে বের হওয়ার পথে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। গত ১৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বিষয়টি থানা পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ গন্যমান্যদের জানালেও কেউ নারায়নের বিরুদ্ধে কথা বলেনি।
এছাড়া বাসুদেবের স্ত্রী মনিকা রানী বলেন, সামান্য বিষয়ে নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হওয়ার পর আমার স্বামী মেজ-দাদার পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েও রেহাই পাননি। টাকার জোরে আমাদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন। এমনকি এবার বিদেশ যাওয়ার আগ মুহুর্তে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারী বাগেরহাট আদালতে আমাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মিথ্যা মামলা করে গেছেন। জামিন নিয়ে আমরা বাড়িতে আসলে তার নির্দেশে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, থানায় কোন মামলা হবে না, বলে তৎকালীন সময়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য পুলিশকে দেয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু মামলা হওয়ার পর ঘর-বাড়ী ফেলে আমরা স্বামী-স্ত্রী চার মাস পালিয়ে থাকি। কিছুদিন হয়েছে জামিন নিয়েছি। তবে, এ পর্যন্ত একটি টাকাও উদ্ধার করতে পারিনি ওই প্রতারকের কাছ থেকে। এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ কবির হোসেন তালুকদার বলেন, শ্রদ্ধা সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে একজন মাকে খুশি করা যায় কিন্তু তার ঋন কখনো শোধ করা যায় না।
এমনকি কোন প্রলোভন দিয়ে মাকে তার সন্তানের বিরুদ্ধে কোন ক্ষতির কাজে দাঁড় করানো যায় না কিন্তু সন্তানের জন্য মা-তার জীবন দিতে পারে। সেই মায়ের পথ যে বন্ধ করতে পারে, সে সন্তান নামের কলংঙ্ক। তবে, এ বিষয়টি নিয়ে আমিও মিমাংসার চেষ্টা করেছি কিন্তু নারায়নের কাছে পরাজিত হয়েছি। এ ব্যাপারে প্রবাসী নারায়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি কোন মা-ঠা চিনি না ওই জমি আমার তাই তাদেরকে কোন পথ দেয়া হবে না। উনি (মা) এবং বাসুদেবরা কোথা থেকে বাহিরে আসা-যাওয়া করবে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল-সাইদ জানান, ওই মা’র অবরুদ্ধ হওয়ার কোন অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে, তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আপনারা ঘরে থাকুন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আপনাদের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিব: এমপি বাবু
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনা ভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচনী এলাকায় কর্মহীন-দরিদ্র পরিবার যাদের ঘরে হাঁড়ি জ্বলে না তাদের মাঝে মানবিক খাদ্য সহায়তা প্রদানকালে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, আপনারা ঘরে থাকুন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরাই আপনাদের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিব। বিনা প্রয়োজনে আপনারা বাড়ি থেকে বের হবেন না। তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শত সদস্যদের মাঝে মানবিক খাদ্য সহায়তা প্রদানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করছেন। কেউ যেন বাদ না পড়ে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। কেউ বাদ পড়লে যুবলীগ, ছাত্রলীগের হট লাইনসহ প্রয়োজনে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। কোন সংকোচ বোধ করবেন না। তিনি সরকারের পাশাপাশি নেতাকর্মী, সমাজের দানশীলদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। যারা মধ্যবিত্ত লজ্জা বা সংকোচিত হয়ে কিছু বলতে পারছেনা তাদের খুঁজে গোপনে খাদ্য সহায়তা দিতে বলেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যন শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, আ’লীগ নেতা যুগোল কিশোর দে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন কাজল কান্তি বিশ্বাস, ইকবাল হোসেন খোকন, জেলা যুবলীগ নেতা শামিম সরকার, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আফি আজাদ বান্টি, স্থানীয় প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক আ: রাজ্জাক রাজু, উপজেলা যুবলীগ নেতা এমএম আজিজুল হাকিম, আকরামুল ইসলাম, কেডিএ বাবু, গৌতম সাহা,আলোক মজুমদার, আজমল হোসেন বাবু, শফি মোড়ল, উজ্জ্বল মজুমদার, আল আমিন মোড়ল, জেলা ছাত্রলীগ নেতা পার্থ প্রতীম চক্রবর্তী, মীর ছদরুল আলম, মাসুদুর রহমান মানিক, পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান পারভেজ রনি, রেশমা বেগম, রাসেল, সাহেব আলী,শংকর ঢালী, আকাশ, শাহরিয়ার, রথিন, আলহাজ্ব বাক্কার গাজী, সালাউদ্দীন,বাদশা, নয়ন, মুক্ত, শেখ আঃ গণি, মোঃ আলী, খায়রুল সহ অনেকে। এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনা মোকাবেলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
কেসিসি’র চলমান উন্নয়নমূলক কাজ গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক কেসিসি’র চলমান উন্নয়নমূলক কাজ গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের নির্দেশ দিয়েছেন। কাজের মানের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে সিটি মেয়র উল্লেখ করেন।
সিটি মেয়র মঙ্গলবার দুপুরে কেসিসি’র প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সাথে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। করোনার কারণে বন্ধ থাকা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পুণরায় শুরু করার লক্ষ্যে কেসিসি’র পূর্ত বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
উল্লেখ্য যে, কতিপয় শর্তসাপেক্ষে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজ সম্পাদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শর্তগুলি হচ্ছে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা, নির্মাণসমাগ্রী সরবরাহকারী ট্রাকের সামনে ব্যানার স্থাপন, শ্রমিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষা সামাগ্রী সরবরাহ ও প্রকল্প এলাকায় সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা এবং বহিরাগত শ্রমিকদের পরিবর্তে স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়োগ দান ইত্যাদি।
সভায় সিটি মেয়র মন্ত্রণালয় নির্দেশিত শর্তাদি মেনে নগরীতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন। কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মো: এজাজ মোর্শেদ চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান, মশিউজ্জামান খান, সহকারী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ হোসেন, শেখ মো: মাসুদ করিম, কেসিসি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশাসহ ঠিকাদার ও কেসিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
পাইকগাছায় বাগদার পোনার দাম বৃদ্ধিতে হতাশায় চাষীরা
বাবুল আক্তার, পাইকগাছা
পাইকগাছায় বাগদার পোনার ব্যাপক সংকট, প্রচুর দাম ও হিমায়িত বাগদার দাম কম হওয়ায় চিংড়ী চাষীরা হতাশায় ভুগছে। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে বিদেশে রপ্তানি বন্ধ থাকায় চাষীরা দায় দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আশি’র দশক থেকে চিংড়ী চাষ হয়ে আসছে। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। চলতি বছর রপ্তানি বন্ধ থাকায় অধিকাংশ কোম্পানি চিংড়ী বেচা কনো বন্ধ করে দিয়েছে বলে মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে। চিংড়ী চাষের এ ভরা মৌসমে প্রতি কেজি চিংড়ি ৪ থেকে ৫শ টাকায় টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিগত বছরে যা ১হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি বিঘা জমির হারি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। চলতি বছরে করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। বলতে গেলে বিপদের পর মহাবিপদ। বিগত বছরের তুলনায় পাইকগাছায় চলতি বছর পোনা সরবরাহ ৮০% কম বলে জানালেন খুলনা বিভাগীয় চিংড়ী পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গাল্ফ হ্যাচারী মালিক গোলাম কিবরিয়া রিপন। তিনি আরও বলেন, মাদার সংকটের কারনে কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী পোনা উৎপাদন করতে পারছে না। একারনে এবছর পোনার দাম বেশি। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা চিংড়ী চাষ অধ্যুষিত এলাকা। এর মধ্যে শুধু পাইকগাছা উপজেলায় চিংড়ী ঘেরের সংখ্যা প্রায় চার হাজার, যার আয়তন দ্ইু হাজার হেক্টরের অধিক বলে জানালেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস। চিংড়ী চাষী শংকর দেবনাথ জানায়, এবছর বড় বিপদে আছি। সবকিছুর দাম বেশি, পোনার দাম অন্য বছরের থেকে ৩/৪ গুন বেশি তার পর ঠিকমত তা পাওয়া যাচ্ছে না আর বড় বাগদার দাম অনেক কম। এব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এর সাথে জড়িত চাষী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৭ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জরিমানা
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছা পৌর সদরে সরকারের নির্দেশনা ও দোকানদারদের বেঁধে দেয়া শর্ত অমান্য করায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জরিমানা আদায় করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না ও সহকরী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম পৃথক ভাবে ৪ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পেশকার দিপংকর প্রসাদ মল্লিক ও প্রতুল জোয়াদ্দার।
মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্দ্যোগে ত্রাণ বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
মঙ্গলবার করোনা ভাইরাস দূর্যোগে গৃহবন্দী দুঃস্থ, অসহায়, কর্মহীন ক্ষতিগ্রস্থ গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উপকরণ উপহার হিসাবে প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়। বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন মহানগর কার্যনির্বাহী সভাপতি-মোঃ ইউসুফ আলী সাদা, সিনিঃ সহ-সভাপতি মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম, আসাদুজ্জামান মুন্না, রোটাঃ ইঞ্জিঃ মিজানুর রহমান, মোঃ সেলিম চৌধুরী, আবুল কালাম মোল্লা, আলহাজ¦ হাফেজ শেখ আসলাম,মোঃ রেজাউল করিম, মহিদুল ইসলাম নান্নু, কাজী শরিফুল ইসলাম মিঠু, মশিউর রহমান মিলন, কাজী আলী আহাদ, আব্দুর রহমান, হারুন অর রশিদ, শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, আফজাল হোসেন আমজালা, আব্দুস সালাম সর্দার, আঃ জব্বার কমান্ডার, আঃ জলিল সরদার, মোঃ লিয়াকত, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ আয়নাল, মোঃ আনোয়ার হোসেন মনু, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ মুজিবর রহমান, মোঃ ফিরোজ সর্দার, আঃ রহমান, মোসাঃ ইতি বেগম, লিভানা আক্তার, হাসী বেগম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্বচ্ছতার সাথে সরকার ত্রাণ বিতরণ পরিচালনা করছে: তালুকদার আব্দুল খালেক
তথ্য বিবরণী
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চারশত ২৮ কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চাল ও সবজি ক্রয়ের জন্য নগদ একশত করে টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, সরকার ত্রাণ কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করছে এবং তা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছে। দেশে খাদ্য সংকটের কোন কারণ নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলতে হবে।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মোঃ আমিনুল ইসলাম মুন্না, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শফিউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক শেখ আসলাম আলীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিটি মেয়র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারশত ২৮ কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চাল এবং সবজি ক্রয়ের জন্য নগদ একশত করে টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। সকালে তিনি ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে চারশত ২৮ কর্মহীনের মাঝে সাত কেজি করে চাল এবং সবজি ক্রয়ের জন্য নগদ একশত করে টাকা বিতরণ করেন।
আদর্শ পল্লী আ/এ সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সভাপতির জায়নামাজ বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার
প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় দুরত্ব বজায় রাখা নির্দেশনায় মঙ্গলবার আদর্শ পল্লী আ/এ সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনের পক্ষ থেকে ইসলামিয়া জামে মসজিদের ৬১জন মুসল্লিকে জায়নামাজ বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম রাজুল হাসান রাজু মুসল্লিদের জায়নামাজ বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ১৮নং ওয়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জাহিদ হোসেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের ১১১৪ সভাপতি নুরুল ইসলাম বেবী, মহানগর যুবলীগের সদস্য রোজী ইসলাম নদী, মো. মিলন মোল্লা, আঃ মান্নান, মাওলানা মোশাইদুল্লা ইমাম, মোঃ ইউনিচ শিকদার, মোঃ ওহিদ শিকদার, নুর এ আলম, মোঃ রিপন, আঃ রাজ্জাক, শাওন প্রমুখ।
দেশের মানুষ বর্তমানে কঠিন সময় অতিক্রম করছে: মঞ্জু
খবর বিজ্ঞপ্তি
সমাজের নিরন্ত ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। নিজেদের যার যেটুকু সমর্থ আছে, তা দিয়ে সাহায্য করতে হবে। করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি নগর জুড়ে দেখা দিয়েছে মশার উপদ্রব। এক দিকে করোনা ভাইরাস যা চোঁখে দেখা যায় না, অন্য দিকে ডেঙ্গু মশার যন্ত্রণা। সকলকে সচেতন হতে হবে করোনা এবং ডেঙ্গু নামক দানবের হাত থেকে। মনে হচ্ছে গোটা বিশ্ব আস্তে আস্তে কালো অন্ধকারের রূপ ধারণ করছে। করোনার কারণে প্রতিদিন মৃত্যু’র সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অমাদেরকে সুস্থ-সবল ভাবে বাঁচতে হলে আরো সচেতন হতে হবে। সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া কারো একার পক্ষে এ মহামারি থেকে দ্রুত উত্তরণ অসম্ভব। বর্তমান সময় আমরা যে প্রেক্ষপটে দাঁড়িয়ে রয়েছি, তা ব্যাক্তি বা দলের বিষয় নয়। দেশকে বাঁচাতে হবে, দেশের মানুষ যেন খেয়ে মরে না যায়, তাদেরকে বাঁচাতে হবে, এটাই আমাদের মুল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আল্লাহ্ আমাদের সকলকে সাহায্য করুণ এই মহামারি থেকে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় নগর বিএনপি’র করোনা ভাইরাসে গৃহবন্ধি অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কর্মসুচির অংশ হিসেবে খালিশপুর থানার ১০নং ওয়ার্ডের মহসীন কলেজের সামনে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এসময় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, শেখ জাহিদুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দীপু, শহিদুল ইসলাম পাম্পী, শেখ সাদী, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, আবুল কালাম জিয়া, আহসানউল্লাহ বুলবুল, এইচ এম সালেক, কাজী আব্দুল লতিফ, এড. মো. আলি বাবু, ইমতিয়াজ আলম বাবু, শামসুর রহমান, লিটন খান, আব্দুর রহমান ডিনো, জাকির হোসেন, ম শ আলম, মেহেদী হাসান সেন্টু, সাইফুল ইসলাম সান্টু, মনিরুজ্জামান মনি, রফিকুল ইসলাম রফিক, নুরে আব্দুল্লাহ, কাল্লু কোরাশী, বাতুল মুন্সি, শেখ ফারুক হোসেন, মশিউর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন, এ আর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, শফিকুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, শফিকুল ইসলাম বাবুল, শাকিল, স্বপন, সরদার কামাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, শামসুর জোহা দিয়ার, মেহেদী হাসান তুহিন প্রমুখ।
দুপুর আড়াইটার দিকে সোনাডাঙ্গা থানার ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে সিদ্দিকিয়া মহল্লায় মানবতার বাজার বাজার উদ্বোধন করেন এবং অসহায় মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজী তাদের হাতে তুলে দেন নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দীপু, হাফিজুর রহমান মনি, আনিসুর রহমান আরজু, হেদায়েৎ হোসেন হেদু, শরিফুল ইসলাম সাগর, সাজ্জাদ হোসেন জিতু, মোস্তাফিজুর রহমান দিহান, ইমরান হোসেন, এ আর রহমান, আলম হাওলাদার, জুয়েল, মামুন প্রমুখ।
ভারতে আটকে পড়া আরও ২১৭ জন দেশে ফিরলেন
বেনাপোল প্রতিনিধি
করোনাভাইরাসের কারণে ভারতে গিয়ে আটকে পড়া আরও ২১৭ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশু বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা ও বেড়ানোর জন্য ভারতে গিয়েছিলেন তারা। সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা দেশে ফেরেন। এর আগে রবিবার (১০ মে) তিন হাজার ১৩৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশু দেশে ফিরে আসেন। এ নিয়ে অর্থাৎ গত ৩৫ দিনে দেশে ফিরলেন তিন হাজার ৩৫৪ জন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব এ তথ্য জানান।
সারা বিশ্বে মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় গত ৬ এপ্রিল সরকার ঘোষণা দেয় বিদেশ থেকে যারা দেশে ফিরবেন তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। তারপরই এসব পাসপোর্ট যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন। তার মধ্যে সাত জনের মৃতদেহ এসেছে। সবাইকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে যারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষ করেছেন এবং কোভিড-১৯ শনাক্ত হননি তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকিরা এখনও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি জানান, ভারত থেকে ফেরত আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে নিকটস্থ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সময়ে এ পথে ভারত থেকে চিকিৎসা ও ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরা ২১৭ জন নারী পুরুষ ও শিশুকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যশোরের ঝিকরগাছা থানার গাজির দরগাহ মাদ্রাসায় কোয়ারেন্টিনে নিয়ে গেছেন।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারত থেকে ফেরত আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন রাখা হচ্ছে। কোয়ারেন্টিনে থাকার পর করোনা সংক্রমণ ধরা না পড়লে সরাসরি তারা বাড়ি চলে যাবেন।
দেড়ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও ছেলের ‘আত্মহত্যা’
যশোর প্রতিনিধি
ঘণ্টা দেড়েকের ব্যবধানে বাবা ও ছেলে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোরের কেশবপুরে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সাহেব আলী বিশ্বাস (৫৮) নামে এক কৃষক ও তার ছেলে ইমামুল বিশ্বাস (২৮)। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক কলহের কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ মূল ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলকোট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল থেকে বলেন, ‘ইমামুলের একটু হাতের দোষ (ছোটখাট চুরি) ছিল। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে তার প্রায়ই তার কথা কাটাকাটি হতো। আজ সকালেও এ নিয়ে তাদের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ইমামুল তার বাবাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এতে অভিমান করে সকাল সাড়ে ১০টারদিকে সাহেব আলী ঘরের অড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘণ্টাখানেক পর বাড়ি ফিরে ছেলে তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনা জানতে পেরে ফের বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের বাগানে একটি গাছে সে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।‘
খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মণিরামপুর সার্কেল) সোয়েব আহমেদ খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘কী কারণে বাবা ও চেলের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, সেটি উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
খুলনায় স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও তিনজন করোনায় আক্রান্ত
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার একজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ তিনজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা। অপর দুইজনের মধ্যে একজন যশোরের মনিরামপুর, আরেক নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে তাদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে খুলনা জেলার ২২টি নমুনা ছিল। এদের মধ্যে তিনজনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। খুলনায় আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি সোনাডাঙ্গা থানাধীন খুমেক হাসপাতালের সামনের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে ওই এলাকা লকডাউনের প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে খুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে।
ডা. মেহেদী নেওয়াজ আরও বলেন, খুমেকের পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়া আরেকজন যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, অপরজন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মহেশপুরে করোনায় আক্রান্ত এক নারী
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে এবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক নারী। তিনি মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামের বাসিন্দা। তাকে নিজ বাড়ীতে লগ ডাউন করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আঞ্জুমানারা বেগম।
ডাঃ আঞ্জুমানারা বেগম জানান, (৪৮) বছর বয়স এক নারী ক্যান্সারের সমস্যা নিয়ে যশোরে যান। সেখানেই তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য টেষ্ট দিয়ে আসেন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গতকাল মঙ্গলবার তার করোনা পজেটিভ রিপোর্টটি আমরা হতে পেয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এম ও ডাঃ আকবার নেওয়াজ জানান, দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজন সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আঞ্জুমানারা বেগমসহ থানা পুলিশ করোনায় আক্রান্ত নারীটির বাড়ী লগ ডাউন করে এসেছেন।
উল্লেখ্য গত ২৬ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এম্বুলেন্স চালক ফারুক হোসেনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।
কেসিসি ২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি শাকিল আহম্মদের পক্ষ থেকে খাদ্রসামগ্রী বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ায় অসহায় হতদরীদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে কেসিসি ২নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ শাকিল আহম্মদ ও মেসার্স জনতা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধীকারী মোঃ শেখ সোয়েব এর পক্ষ থেকে ৩য় দফায় ৪’শতাধিক মানবতার বাজার চাল,ডাল, আলু, সবজিসহ খাদ্যসামগ্রী উপহার বিতরণ করেন। ১২ মে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ফুলবাড়ীগেট জনতা মার্কেটে শাকিলের নিজস্ব অফিস থেকে এসকল খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করা হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম পান্নু, আবুল কালাম আজাদ, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, আবু হেনা বাবলু, তৌহিদুর রহমান কাজল প্রমুখ।
গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যানের টিসিবির পণ্য বিক্রয় স্থান পরিদর্শন সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পণ্য ক্রয়ের আহবান
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
আটরা গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মনিরুল ইসলাম মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় খানজাহান আলী থানা এলাকার গিলাতলা দক্ষিনপাড়া ৬ নং ওয়ার্ডে কেডিএ আবাসিক এলাকায় টিসিবির পণ্য’র বিক্রয় স্থান পরিদর্শন করেন এবং কোন অবস্থাতে যেন কালোবাজারি না হয় ,সে ব্যপারে তদারকী করেন। ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সকলকে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে পণ্য ক্রয়ের জন্য অনুরোধ করেন । এসময় উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটি’র সভাপতি শেখ বদর উদ্দিন , শিরোমনি দিশারী যুব পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদুর রহমান হিরোক, সাংবাদিক গাজী মাকুল উদ্দিন , সাইফুল্লাহ তারেক, মিহির রঞ্জন বিশ্বাস প্রমুখ । উল্লেখ্য টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের নিদির্ষ্টস্থান শিরোমনি বাজারে হলেও এলাকাবাসির সুবিধার জন্য টিসিবির উর্দ্ধতন (পরিচালক) এর সাথে গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম ও খানজাহান আলী থানা অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম কথা বলে গিলাতলা পাকার মাথা এবং গিলাতলা দক্ষিণ পাড়া, আফিলগেট, গিলাতলা বাজারঘাট, শিরোমনি উওরপাড়া , শিরোমনি দক্ষিণ পাড়াসহ ইউনিয়নের বিভিন্নএলাকায় টিসিবির পণ্যবাহী গাড়ি যাওয়াতে এলাকার সকল মানুষ খুব সহজে এ সকল পণ্য ক্রয় করতে পারছে ।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সভা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির এক সভা দৈনিক পত্রদূত অফিসে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক মোঃ আনিসুর রহিম। সভায় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলার লাখ লাখ মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে সরকারীভাবে যে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রেশন কার্ডের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণের দাবী জানানো হয়। সভায় আরো উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনা আক্রান্তদের জন্য সংরক্ষিত করায় সেখানে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সাধারণ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় মেডিকেল কলেজে এই মূহুর্তে প্রয়োজন নেই এমন চিকিৎসক সেবিকা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করাসহ সদর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবী জানানো হয়। সভায় করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে তায়েমা-আরিফুর রহিম ট্রাস্টের সহায়তায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা ও মাস্কসহ খাদ্য সামগ্রি সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করায় নাগরিক কমিটির সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সাথে আগামী ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে নগদ টাকা, খাদ্য সামগ্রিসহ ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, এড. শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, ওবায়দুস সুলতান বাবলু, নিত্যানন্দ সরকার, আনোয়ার জাহিদ তপন, এড. মুনির উদ্দিন, আলী নুর খান বাবলু ও আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ।
সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মান করা হচ্ছে জীবানুমুক্ত টানেল
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে জীবানুমুক্ত টানেল নির্মান করা হচ্ছে। যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ৯ ইষ্ট বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনায় শহরের খুলনা রোড মোড়ে উক্ত টানেলটি নির্মান করছেন ১১৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানী। যশোর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন জিসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সেনা প্রধানের নির্দেশে সাতক্ষীরার জেলার সাধারন মানুষ ও যানবাহনকে জীবানুমুক্ত করার জন্য প্রাথমিকভাবে এই টানেল নির্মান করা হচ্ছে।
কেশবপুরে পূত্রবধূকে মারপিট ও অর্থ আতœসাতের অভিযোগ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুরে কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় মারপিট-সহ অর্থ আতœসাতের অভিযোগে এক পূত্রবধূ তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলার কাস্তা গ্রামের বুলবুল আহম্মেদের স্ত্রী রোজিনা খাতুন জানান, অর্থ উপার্জনের জন্য তার স্বামী বুলবুল আহম্মেদ শ্রমিক ভিসা নিয়ে তাকে ও তার দুই শিশুপূত্রকে বাড়িতে রেখে ৪ বছর পূর্বে মালয়েশিয়াতে চলে যান। তার স্বামী বুলবুল আহম্মেদ আমার চাচাতো দেবর কাস্তা গ্রামের মেহেদী হাসান, তার বন্ধু তরিকুল ইসলাম, ইদ্রীস আলী ও রাজু আহম্মেদ এবং বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার শর্তে তার পিতা রিয়াজউদ্দীন শেখের নিকট বিভিন্ন সময় ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা প্রদান করেন। দীর্ঘদিন উক্ত টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমি আমার শ্বশুর রিয়াজউদ্দীন শেখকে জোরালো চাঁপ দিতে থাকি। তখন আমার শ্বশুর তার সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক করলে উক্ত ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা ফেরত দিবে বলে জানায়। আমি কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমার শ্বশুর আমাকে লাঠিপেটা করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং টাকা ফেরত দিবেনা বলে জানিয়ে দেয়। তখন আমি স্থানীয় ইউপি সদস্য আজগর আলী দফাদারের নিকট বিচার দাবী করি। ইউপি সদস্য আজগর আলী দফাদার গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশে আমার শ্বশুর রিয়াজউদ্দীন শেখ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ইউপি সদস্য আজগর আলী দফাদার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আমার শ্বশুর রিয়াজউদ্দীন শেখকে ১ সপ্তাহ সময় বেধে দেন। কিন্তু ৩ সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও টাকা ফেরত দেয়নি। বর্তমানে আমি আমার দুই শিশুপূত্রকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছি। নিরুপায় হয়ে আমার স্বামীর সাথে পরামর্শ করে সুবিচার ও টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আমার শ্বশুর রিয়াজউদ্দীন শেখের বিরুদ্ধে গতকাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করি।
কেশবপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বিতরন
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২০ উপলক্ষে সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নে দুঃস্থ্য, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সকালে ইউপি চত্ত্বরে প্রধান অথিতি হিসাবে উক্ত পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাগরদাঁড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত, ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর, সংরক্ষিত সদস্য মনোয়ারা বেগম, জাকির হোসেন, আতিয়ার রহমান প্রমুখ।
চতলমারীতে স্বামী- স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত, ১১ বাড়ি লকডাউন
চিতলমারী প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীর কলাতলা ইউনিয়নের চর চিংগড়ী গ্রামে গার্মেন্স শ্রমিক স্বামী স্ত্রী ২জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এঘটনায় প্রথমিক পর্যায় সোমবার রাতে সনাক্ত হওয়া ব্যাক্তিদের আশেপাশে ১১ বাড়ি লগডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ওই দম্পতি ঢাকার জুরাইন থেকে তারা স্বামী- স্ত্রী টুঙ্গিপাড়া স্ত্রীর বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতাল ১০মে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠায়।নমুনা সংগ্রহের পর তারা টুঙ্গিপাড়া থেকে চিতলমারীর চিংগড়ী তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।
নমুনা পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়। সোমবার সন্ধায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পিসিআর থেকে এই তথ্য আসার সোমবার রাত ১০টায় ৫ বাড়ি ও মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় ওই বাড়িসহ পাশের আরো ৬বাড়িসহ ১১ বাড়ি লকড ডাউন ঘোষণা করেছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই বাড়ির সবার নমুনা সংগ্রহ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মারুফুল আলম ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: মামুন হাসান জানান চিতলমারীর ২জন স্বামী স্ত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে। এই আক্রান্ত ব্যক্তি গত ৯ মে ঢাকার জুরাইন থেকে টুঙ্গিপাড়া তার স্ত্রীর বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ১০ মে টুংঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠায়।গত ১১ মে তারা দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে রিপোর্ট আসে। রিপোর্ট আসার পর শনাক্ত ব্যাক্তিদের আশেপাশের ১১ বাড়ি লগডাউন ঘোষনা করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান এবার অভয়নগরে ধান কাটলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
অভয়নগরের নওয়াপাড়া সরকারি কলেজের উদ্যোগে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমির হোসেনের নেতৃত্বে স্বেচ্ছায় উপজেলার চলিশিয়া চারাবটতলা গ্রামের বর্গাচাষী শহিদুল বিশ্বাসের এক বিঘা জমিতে রোপিত পাকা ধান কেটে দিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমির হোসেনের নেতৃত্বে কলেজ অধ্যক্ষ, বোর্ড কর্মকর্তা প্রকৌশলী কামাল হোসেন, কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা ও কলেজের ৩০জন শিক্ষার্থী মিলে কৃষক শহিদুল বিশ্বাসের জমির ধান কেটে দেন। বর্গাচাষী শহিদুল বিশ্বাস জানান, করোনাকালে বোর্ড চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আমার জমির পাকা ধান কেটে দেবেন, এটা আমি ভাবতে পারিনি। ধান কেটে দেয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। কলেজ অধ্যক্ষ রবিউল হাসান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়ের ইচ্ছায় আমরা গরীব কৃষক শহিদুলের ধান কেটে দিতে পেরেছি। প্রাণঘাতী করোনার মধ্যে স্বেচ্ছায় তার ধান কেটে দিতে পারায় আমরা সবাই আনন্দিত।
অভয়নগরে পিকাপের ধাক্কায় মটর সাইকেল যাত্রী গুরুতর আহত
অভয়নগর প্রতিনিধি
অভয়নগরে পিকাপের ধাক্কায় মটর সাইকেল যাত্রী গুরুতর আহত। ১২মে মঙ্গোলবার সকালে খুলনা-যশোর মহাসড়কের নওয়াপাড়া বাজারের বিনিময় ষ্টোরের সামনে যশোরগামী গ্যাস সিরিন্ডার বহনকারী যশোর ট-১১-২৪৯৬ পিকাপে ধাক্কায় মটর সাইকেল যাত্রী আজমিরা বেগম (২৮) গুরুতর আহত হয়।
প্রত্যক্ষ দর্শিদেও বরাতে জানা যায়, মঙ্গোলবার সকার ১২টার সময় নওয়াপাড়া বাজারের বিনিময় ষ্টোরের সমনে দিয়ে আনসার সদস্য মেসবাউদ্দিন তার স্ত্রীকে নিয়ে যশোরের যাচ্ছিলেন এমন সময় পিছন দিক থেকে আসা পিকাপের সজোরে মটর সাইকেলকে ধাক্কা দিলে মেজবাউদ্দিন ছিটকে পড়ে যায় এবং সাথে থাকা স্ত্রী আজমিরা রাস্তায় পড়েগেলে পিকাপটি তার পায়ের উপর দিয়ে চালিয়ে দ্রুত পলিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত মেসবাউদ্দিন ও আজমিরাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠিয়েদেন।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি জানান, যশোর-ট ১১-২৪৯৬ গাড়িটি খুলনা-যশোর মহাসড়কের উপরে ফেলে রেখে ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়েছে। পরে গাড়ি আটক করে থানা নিয়ে আসা হয়েছে।
ইন্দুরকানীতে সকল নিবন্ধিত জেলেরা পাচ্ছে ভিজিএফ চাল
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সকল নিবন্ধিত জেলেরা পাচ্ছে ভিজিএফ চাল। এই প্রথম বারের মত নিবন্ধিত জেলেরা ভিজিএফ এর চাল পেতে যাচ্ছে এমনটাই নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ। উপজেলার ২০৯৮ জন নিবন্ধিত জেলে আছে বরাদ্দ কম থাকায় তিন ইউনিয়নে মাত্র ৯৪৮জন জেলে এই চাল পেত নিয়মিত। বাকি নিবন্ধিত জেলেরা চাল পেত না। করোনা দূর্যোগের ফলে এবার ফেব্রুয়ারী মার্চ মাসে ৯৪৮ জন জেলে জন প্রতি দুই মন চাল পায়। এখন এপ্রিল মে মাসের জন্য প্রতি জেলেকে দুই মন করে চাল বিতরন করা শুরু হয়েছে। যদিও জেলেদের ভিজিএফ এর চাল চার মাস করে পাওয়ার কথা। কিন্তু নিবন্ধিত জেলেদের তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় দুই মাস করে সকল জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা হচ্ছে। উক্ত চাল বিতরনের সময় কার্ডধারী নিবন্ধিত জেলা বিক্ষোভ করে চাল পাওয়ার জন্য। তাদের বিভিক্ষোভের খবর বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি হামেদ জোমাদ্দার বলেন, আমাদের কার্ডধারী জেলেরা এ চাল পায় বলে অন্য সকল সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত। আবার বরাদ্দ কম থাকায় সকল নিবন্ধিত জেলেরা চাল পায় না। সকল নিবন্ধিত জেলেরা যাতে চাল পায় সেজন্য সরকারের কাছে জোড় দাবি জানিয়েছেন উপজেলার মৎস্যজীবীরা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জাটকা রক্ষা টাস্ক ফোর্সের সভাপতি হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ জানান, আমরা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মৎস্যজীবি সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে জেলে কার্ডের চাল ৪ মাসের পরিবর্তে ২মাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত করি এবং করোনা মহারির সময় যাতে কেউ অনাহারে না থাকে তাই নিবন্ধিত সকল জেলেদের চাল দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধাটি নিতে হয়েছে এবং সকল জেলেদের চাল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইন্দুরকানীতে সমাজসেবা অফিস থেকে অগ্রিম ভাতা প্রদান
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সমাজ সেবা অফিস থেকে অগ্রিম ভাদা প্রদায় করা হয়েছে। সমসামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের মধ্যে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা ও প্রতিবন্ধীভাতা ভোগেীদের এ অগ্রিম ভাতা বিতরণ করা হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো মশিদুল হক জানান, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রার্দূভাবে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ জনসাধারণ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) মোকাবেলা করার জন্য ও নি¤œ আয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তার কথা ভেবে ৩১টি নির্দেশনা জারি করেন। যার মধ্যে ১৩নং নির্দেশনা অনুসারে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের আওতায় সুবিধাভোগী মানুষদের অগ্রিম ৪র্থ কিস্তিসহ অর্থাৎ জুন ২০২০ পর্যন্ত প্রত্যেক ভাতাভোগীকে ঈদের আগেই ভাতা প্রদান করা হচ্ছে যা ঈদের আগেই সমাপ্ত করা হবে। ইন্দুরকানী উপজেলায় বয়স্ক ভাতা নিয়মিত ২৫৩৩ জন ও চলমান ২২৬ জন, বিধবাভাতা নিয়মিত ১০৩০ জন ও চলমান ১৯৪ জন, প্রতিবন্ধীভাতা নিয়মিত ৩৮৪ জন ও চলমান ৩৫৫ জনসহ সর্বমোট ৪৭২২ জনকে ভাতা প্রদান করা হবে।
শরণখোলায় ইউএনও’র তাৎক্ষনিক পদক্ষেপে রক্ষা পেল গ্রামবাসী
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
পূর্ণিমার জোয়ারে বলেশ্বর নদের পানি ফুসে উঠছে। শরণখোলার সাউথখালীর দুঃখ ফাটল ধরা বেড়িবাঁধ কখন যে ভেঙ্গে পড়ে সেই দুশ্চিন্তায় গ্রামবাসী। শনিবার ঠিক রাত ৮টায় প্রায় দুইশত মিটার এলাকা নিয়ে বাঁধের গাবতলার অংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন। প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত গ্রামবাসী ছোটাছুটি শুরু করেছে। খবর পেয়ে রাত ৯টার মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন।
কাল বিলম্ব না করে তাৎক্ষনিকভাবে বেড়িবাঁধ মেরামতের উদ্যোগ গ্রহন করলেন। তার কথা প্লাবিত হওয়ার আগে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধে মাটি ফেলতে হবে। প্রথমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে খবর দিলেন নির্মানাধীন বাঁধের প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। রাতে কাজ করতে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করলেও ইউএনও’র তৎপরতায় তারা মাটি ফেলতে শুরু করলো। এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে রাতভর মাটি ফেলে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা হলো। ইউএনও’কে রাতভর দাড়িয়ে থেকে বাঁধের কাজ শেষ করতে দেখে গ্রামবাসীও আপ্লুত। এভাবেই তিনি রক্ষা করলেন শরণখোলার সাউথখালীর গ্রামবাসীকে।
কথা হয় সাউথখালীর গাবতলা গ্রামের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন হাওলাদারের সাথে তিনি জানান, উপজেলা সদর থেকে প্রত্যান্ত এই এলাকায় রাতেই ইউএনও এখানে আসবেন তা আমরা ভাবিনি। বাঁধ মেরামতে ওই দিনের ভূমিকায় গ্রামবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ। গ্রামের বাসিন্দা সফেজ খাঁন, সাইয়েদ হোসেন হাওলাদার, সোহাগ হাওলাদার বলেন, আমরা রাতভর ইউএনও’র সাথে ছিলাম। তার অদম্য সাহসিকতার কারণে গ্রামবাসী রক্ষা পেয়েছে। আমরা তার কথা চিরদিন মনে রাখবো।
সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জানান, শরণখোলায় পাউবো’র ৩৫/১ পোল্ডারে চারশত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মানাধিন বেড়িবাঁধ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতায় সাউথখালীর সাত কিলোমিটার বাঁধ এখনো ঝুকিপূর্ন। এ পর্যন্ত সাতবার বেড়িবাঁধ স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা ও জমি একদিকে নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। অন্যদিকে বাঁধ নির্মানে জমি অধিগ্রহনের কারনে মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। একমাত্র নদী শাসন ছাড়া এখন বাঁধ রক্ষা করা যাবে না। ওই রাতে ইউএনও’র ভূমিকা প্রসংশানীয় বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, দায়িত্ববোধের কারনে ওই রাতেই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে গেছি। গ্রামবাসির আন্তরিকতা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সহযোগীতার কারনে তাৎক্ষনিকভাবে বাঁধ মেরামত করা সম্বভ হয়েছে। তাছাড়া ওই সময় মেরামত করা না গেলে আরো ব্যাপকহারে বাঁধ ভেঙ্গে যেত এবং গ্রামবাসী প্লাবিত হতো।
“করোনা পরিস্তিতি মোকাবেলায়” ফকিরহাটে এসবিএসি ব্যাংকের পক্ষ হতে খাদ্য সমগ্রী বিতরন
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, সামাজিক দুরাত্ব বজায় রাখুন-ঘরে থাকুন, এই প্রতিপাদ্য বিষয়-কে সামনে নিয়ে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেড (এসবিএসি) এর সিএসআর প্রকল্পের আওতায় বেতাগা ইউনিয়নবাসির জন্য করোনা পরিস্থিতিতে ২শতাধিক অসহায় দুস্থ্য ও গরীব পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে এসবিএসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এস এম আমজাদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে উপরোক্ত খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী শেখ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগের শ্রষ্ট ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহানাজ পারভীন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেতাগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আনন্দ কুমার দাশ, লখপুর ইউনিয়ন আ,লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ গোলাম রব্বানী, প্যানেল চেয়ারম্যান নির্মলেন্দু দেবনাথ, ইউপি সদস্য মোঃ আসাদুজ্জামান তুহিন, জামাল উদ্দিন ফকির, অসিত কুমার দাশ, পুষ্পল দাশ, আব্দুর রাজ্জাক, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা সন্ধ্যা রানী দাশ, রাফেজা বেগম ও কামরুন্নাহার নীপা। অনুষ্ঠানে ২শতাধিক পরিবারের মাঝে চাউল ডাল তেল লবন আলু ছোলা পিয়াজ সহ ১৩প্রকারের খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়।
ফকিরহাটে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিবের বাড়িতে চুরি
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুবীর কুমার মিত্রের নিজেস্ব বাড়িতে দুর্ধষ চুরি সংঘঠিত হয়েছে। চোরেরা ভবনের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে নগত টাকা স্বর্ণালোংকার ও অন্যান্য মালামাল সহ প্রায় আড়াই লক্ষাধীক টাকার মালামাল চুরি করে পালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে পিলজংগ ইউনিয়নের টাউন নওয়াপাড়া এলাকায়। এঘটনায় মডেল থানায় ১টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জানান, প্রতিদিনের মত তিনি রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এসময় অজ্ঞাত চোর দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আলমারিতে থাকা নগত ১০হাজার টাকা ও বিপুল পরিমানে স্বর্ণালোংকার চুরি করে পালিয়ে যায়। যার আনুমানিক বাজার মুল্য প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। এঘটনায় তিনি নিজে বাদি হয়ে মঙ্গলবার সকালে মডেল থানায় ১টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছেন।
সুন্দরবনে হরিণ শিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় বিপাকে বনবিভাগ
শরণখোলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনের হরিণ শিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছে বন বিভাগ। ঘটনার সাড়ে তিন মাস পরে মিথ্যা অভিযোগে বনরক্ষীদের নামে শরণখোলা থানায় পাল্টা মামলা দায়ের করেছে আসামী পক্ষ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বনরক্ষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) এনামুল হক জানান, গত জানুয়ারী মাসের ১৬ তরিখে সুন্দরবনের তাম্বলবুনিয়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। টহলকালে বিকেল ৫টার দিকে তারা বনের কলামুলা এলাকায় দুইটি ডিঙ্গি নৌকা দেখতে পেয়ে চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা নৌকা দুইটি তল্লাশি চালিয়ে হরিণ শিকারের ফাঁদ, শিকার নিষিদ্ধ মা কাকড়া ও চারু উদ্ধার করে। এক পর্যায়ে শিকারীরা বনরক্ষীদের উপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। শিকারীদের হামলায় বনরক্ষী আবুল বাশার ও মোতালেব হোসেন গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারী তাম্বলবুনিয়া টহলফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় চারজনকে আসামী করে পেনাল কোর্টের ৩৩২, ৩৫৩, ৩০৭, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৫। আসামীরা হচ্ছেন, পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার ধাবড়ী গ্রামের আঃ হক শেখের পুত্র ইউসুফ শেখ (৩৫), বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের হাছেন মুসুল্লির পুত্র আঃ হামিদ মুসুল্লি (৩৫), হানিফ মুসুল্লি (৩৩), আসাদ মুসুল্লি (৩০)।
অপরদিকে, ওই ঘটনার সাড়ে তিনমাস পরে গত ১ মে উল্লেখিত আসামিদের পক্ষে মোংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে শরণখোলা থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০১। মামলায় তাম্বলবুনিয়া টহল ফাঁড়ির ওসি মিজানুর রহমান, বিএম আবুল বাশার ও মোতালেব হোসেনকে আসামী করা হয়।
এ ব্যাপারে উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই স্বপন কুমার জানান, বন বিভাগের দায়ের করা মমলাটি তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। অপর মামলাটির তদন্ত চলছে। সাড়ে তিনমাস পরে পাল্টা মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে শরণখোলা থানার অফিসার ইন চার্জ এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, তারা যেহেতু মেডিকেল সনদপত্র নিয়ে এসে মারপিটের ঘটনা বর্ননা করেছেন তাই মামলা নেয়া হয়েছে। তবে ঘটনার সত্যতা না পাওয়া গেলে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী সোহরাব হোসেন জানান, আসামীদের তিনজন তার ভাগ্নে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে গেলে বনরক্ষীরা উৎকোচের দাবীতে তাদের মারধর করে নৌকা ডুবিয়ে দেয়। এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় প্রথমে মামলা নিতে অনিহা প্রকাশ করায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়ে সাড়ে তিন মাস পরে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে।
শেখ সোহেলের ইফতার সামগ্রী বিতরণে ক্রিকেটার সোহান ও পরশ বিশ্বাস
খবর বিজ্ঞপ্তি
বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক খুলনা মহানগরীতে অসহায় ও কর্মহীন পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১২ মে) নগরীর শেরে বাংলা রোডে ইফতার বিতরণ চলে। অনুষ্ঠানে অন্যতম অতিথি থেকে ইফতার সামগ্রী অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় কাজী নুরুল হাসান সোহান ও তরুন আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান পরশ বিশ্বাস।
সোনাডাঙ্গা থানা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক শেখ শহীদ আলী আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সোনাডাঙ্গা থানা যুবলীগের সদ্য সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মনিরুজ্জামান সাগর ও হাফেজ মো: শামীম। আরও ছিলেন এসএম আকিল উদ্দিন, আমিরহোসেন, মুন্সী নাহিদুজ্জামান, মামুন কবির কচি, মৃধা হুমায়ন কবীর,মোয়াজ্জেম খান, আল-আমিন, আমিন ঢালী,মোহসীন প্রমুখ। এছাড়া মহানগর তাতী লীগের আহবায়ক সাব্বির আহমেদ শুভ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা এম মুন্নাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বেসরকারী মানবিক সহায়তা সেল খুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) দূর্যোগে কর্মহীন মানুষের মাঝে বেসরকারী মানবিক সহায়তা সেল খুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউএনও মোঃ নজরুল ইসলামের প্রচেষ্টায় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সমন্বয়ে উক্ত মানবিক সহায়তা সেল খোলা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে নি¤œ মধ্যবিত্ত, ছোট-বড় ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষেরা করোনা সংক্রমনে দীর্ঘদিন যাবৎ লকডাউনে থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা সংসার চালাতে চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি তারা সামাজিক মান-মর্যাদার কথা বিবেচনা করে সরকারী সহায়তা নিতে লজ্জাবোধ করে আসছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম এর উপলব্ধীতে আসলে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে এবং স্থানীয় বিত্তশালী ও অফিসার্স কল্যান পরিষদের সহযোগীতায় ঐ সকল কর্মহীন মানুষের খাদ্য সহায়তা সেল খোলেন। সহায়তা সেলে অতি গোপনীয়তার সাথে ০১৩১০৪৫৫৯৫৫ নম্বরে একটি হটলাইন চালুও করেন তিনি। আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি ঐ আবেদনগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাঁচাই বাছাই করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে নিজ উদ্যোগে খাদ্য উপকরণগুলি পৌঁছে দিচ্ছেন। উপকরণগুলির মধ্যে রয়েছে চাউল, আলু, তেল। খাদ্য সামগ্রী গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৬শত কর্মহীন পরিবারের মাঝে পরিবহনযোগে উক্ত খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। মানবিক সহায়তা সেলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুজ্জামান, সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন পিআইও মোঃ এমদাদ হোসেন। এদিকে ইউএনওর এই অকল্পনীয় উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা সরকারী মানবিক সহায়তা নিতে লজ্জাবোধ করে। এমনকি তারা গ্রহণ করতে না পেরে কষ্টের জীবন-যাপন করছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের কথা বিবেচনা করেই মানবিক কারনে ব্যক্তি উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দিক নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয়ভাবে এ মানবিক সহায়তা সেল গঠন করে খাদ্য সামগ্রী বাড়ীতে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। আর যারা যারা সরকারী উপহারের আওতায় আছেন তারা তো পাচ্ছেনই।
বটিয়াঘাটায় অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য উপকরণ বিতরণ
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শ্যামল দাসের দিক নির্দেশনায় বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোবিন্দ মল্লিকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও অর্থায়নে করোন সংক্রমনে অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য উপকরণ বিতরণ করা হয়। গত পরশু সোমবার বেলা ১১টায় স্থানীয় জলমা চক্রাখালী দক্ষিণ পাড়া মল্লিকের মোড় দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পর্যায়ক্রমে উক্ত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগ নেতা প্রদীপ বিশ^াস, বাজার কমিটির সভাপতি গৌরপদ মল্লিক, ইউপি সদস্য বিপ্রদাস টিকাদার, ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সুপদ মল্লিক, ইউপি সদস্যা তপতী বিশ^াস, প্রদীপ টিকাদার প্রমুখ। এ সময় প্রায় শতাধীক পরিবারের মাঝে ৫ কেজি চাউল, ২ কেজি আলু ও ১ কেজি ডাউল জনপ্রতি বিতরণ করা হয়।
শরণখোলায় অসহায় পরিবারের পাশে ইমার্জেন্সী হেলপ
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের শরণখোলায় করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া ৫ শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতারণ করেছে ইমার্জেন্সী হেলপ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান ভবনের সামনে হেলপ সংগঠনের উপদেষ্টা রায়হান উদ্দিন শান্ত ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সহযোগীতায় এ খাদ্য সামগ্রী বিতারণ করা হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন, শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন, শরণখোলা ইমার্জেন্সী হেলপ সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাব্বির, শাহারিয়ার মাহমুদ শান্ত সহ অনেকে। উল্লেখ্য করোনা পরিস্থিতিতে গত মার্চ মাস থেকে সংগঠনটি তাদের সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ।
যাদের খবর রাখেননা কেউ
আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর
দুই সন্তানসহ কুলসুম বেগমকে ফেলে স্বামী ইয়াসিন হোসেন উধাও হয়েছেন ৮-১০ বছর আগে। অল্প বয়স হলেও নতুন সংসার না পেতে স্কুলগামী সন্তানদের বুকে নিয়ে পড়ে আছেন বাপের ভিটেয়। রাস্তায় কাজ করে, বেকারিতে রান্না করে এমনকি অন্যের বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্টে দিন যায় কুলসুমের। উপরন্তু দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ। করোনা ভাইরাসের কারণে গত দুইমাস সবধরণের কাজ বন্ধ কুলসুম বেগমের। মানুষের এই দুর্দশার মধ্যে সরকার কত লোককে খাদ্যসহায়তা দিয়েছেন কিন্তু কোন প্রকার সহযোগিতা পাননি কুলসুম বেগম।
একই বাড়িতে বসবাস কুলসুম বেগমের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলোমের। বেকারির পণ্য ফেরি করে বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোন প্রকার কেটে যাচ্ছিল তারও। করোনায় সেও গৃহবন্দি। সরকারি ত্রাণের জন্য জাহাঙ্গীর নেতাদের পিছে হেঁটেও একমুঠো চাল আনতে পারেননি।
একই গ্রামের ইমরান হোসেন মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে সংসার চালায়। বৃদ্ধা দাদি এটাওটা করে ইমরানের সাথেই থাকেন। ত্রাণ জোটেনি তাদেরও। ইমরানের পাশের বাড়ির বাসিন্দা নূর হোসেন ছুট্টি। দিন এনে দিন খাওয়া তার। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে কর্মহীন করোনা পরিস্থিতি মুকাবেলা করলেও সমাজপতিদের কেউ এগিয়ে আসেনি একমুঠো ত্রাণ নিয়ে। নূর হোসেনের পাশেই বাড়ি বিধবা আনোয়ারার। স্বামী ইব্রাহীম পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। অল্প বয়সী দুই ছেলেকে নিয়ে কষ্টের সাগর পাড়ি দিচ্ছেন তিনি।
এরা সবাই যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের বাসিন্দা। ভিজিডি বা ফেয়ারপ্রাইজ এমনকি সরকারি কোন সহায়তায় নাম নেই এদের। তাদের অভিযোগ ৪-৫ বার করে ভোটার কার্ডের ফটোকপি নিয়েছে নেতারা। কিছুইতো পাইনি।
খেদাপাড়া ইউপির সাত নম্বর (মাহমুদকাটি-কদমবাড়িয়া) ওয়ার্ডের কদমবাড়িয়া গ্রামের নি:স্ব ও অসহায় স্বামীহারা জামেলা, জাহানারা ও নূরজাহান বেগম। এদের সংসার দেখার কেউ নেই। আবার সমাজের জনপ্রতিনিধি বা নেতারাও এদের দিকে ফেরেন না।
কুলসুম ও জাহানারাদের মত এমন বহুপরিবার মাহমুদকাটি-কদমবাড়িয়া গ্রামে রয়েছেন; যাদের খবর কখনো রাখেন না কেউ। সরকারি ত্রাণ বা কোন সহযোগিতা আসলে যাদের উপর তালিকার দায়িত্ব পড়ে তারাই নিজেদের বা পরিবারের অন্য নাম দিয়ে সেটা আত্মসাৎ করেন।
করোনা পরিস্থিতিতে ঈদ উপলক্ষে গৃহবন্দি কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য নগদ অর্থ ও চাল দিতে যাচ্ছে সরকার। পরবর্তীতে মাসিক ২০ কেজি করে চাল পেতে পারেন এরা। সেইলক্ষে মণিরামপুরে ১২ হাজার লোকের তালিকা হচ্ছে। তারমধ্যে খেদাপাড়া ইউপির সাত নম্বর ওয়ার্ডে ৭৯ জনের তালিকা জমা হয়েছে। তালিকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ওই ওয়ার্ডের মেম্বর তায়জুল ইসলাম নিজের ছেলের নাম দিয়েছেন। শুধু মেম্বর না তালিকা প্রস্তুতির কাজে যারাই ছিলেন তারাই নিজের বা পরিবারের নাম দিয়ে রেখেছেন। যারা এই তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয়।
ওই ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জিএম মশিউর রহমান মুকুল তার পরিবারের সচ্ছল চার জনের নাম দিয়েছেন। যারা শিক্ষক দম্পতি ও প্রবাসীর স্ত্রী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সরকারি সহায়তার তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মুকুলকে দলীয়ভাবে শোকজ করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তার কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। একই সাথে ওয়ার্ডের ত্রাণ সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান খেদাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল আলীম জিন্নাহ।
এদিকে মাহমুদকাটি-কদমবাড়িয়া ওয়ার্ডের মানবিক সহায়তার ৭৯ জনের তালিকার মধ্যে সচ্ছল ও অযোগ্য নয় জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কুলসুম, জামেলা, জাহানারা ও নুর জাহানসহ নয় জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। তারপরও বাদ দেওয়ারমত তালিকায় আরো সচ্ছল নাম রয়েছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, মণিরামপুরে প্রস্তুতকৃত মানবিক সহায়তার ১২ হাজার তালিকার মধ্যে বহু সচ্ছল ও অযোগ্য নাম রয়েছে। বিষয়টিতে ইউএনওর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
জানতে চাইলে খেদাপাড়া ইউপির সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তায়জুল ইসলাম মিলন বলেন, আমি গরিব মানুষ; তাই ছেলের নাম তালিকায় দিয়েছি।
খেদাপাড়া ইউপি সচিব মৃনাল কান্তি বলেন, ইতিমধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে সাত নম্বর ওয়ার্ডে নয়টি নাম সংশোধন করে নতুন নাম যুক্ত করা হয়েছে। যত অভিযোগ আসবে সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে বাদ দেওয়া হবে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, মেম্বরের ছেলের নাম তালিকায় দেওয়ার সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কোথাও কোন অভিযোগ আসলে সেগুলো তদন্তসাপেক্ষে বাদ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।










































