Home আঞ্চলিক অবশেষে ঝুপড়িঘর থেকে মুক্তি পেলেন স্বাস্থ্যকর্মী

অবশেষে ঝুপড়িঘর থেকে মুক্তি পেলেন স্বাস্থ্যকর্মী

7

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে নির্জন পুকুর পাড়ের ঝুপড়ি ঘরে কোয়ারেন্টিনে রাখা ঢাকাফেরত এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে ৭ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়। পরে তাদের ঘরের পাশে একটি ছাপড়া ঘর তুলে সেখানে রাখা হয়। এছাড়া পুলিশ তালপাতার সেই ঝুপড়িঘর ভেঙে দিয়েছে।

ওই নারীর (২১) বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লখণ্ডা গ্রামে। ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসকের অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরি করেন তিনি। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর ওই হাসপাতালের কয়েকটি বিভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে। সে কারণে গত ২১ এপ্রিল তিনি বাড়িতে আসেন। তারপর থেকেই স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে এ নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে (২১) এলাকার পুকুর পাড়ে ঝুপড়ি ঘরে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সেখানে অবস্থান করেন তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর পুরো এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই নারী ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে চাকরি করেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিয়ে দেয়। ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এলাকাবাসী তাকে বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে পুকুর পাড়ে তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে কোয়ারেন্টিনে রাখেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আমি এখানে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানবতার জীবন যাপন করছি। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমি অনেক মানুষকে স্বাস্থসেবা দিয়েছি। আর আজ এখানে আমার স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। মানুষ যে এত নিষ্ঠুর হতে পারে তা আগে জানা ছিল না।

তার মা বলেন, আমার স্বামী নেই। এ মেয়েটার আয়ে আমার সংসার চলে। তাকে এভাবে একটি পুকুর পাড়ে ঝুপড়ি ঘরে রাখা হয়েছে। আমার মেয়ের যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে এর দায় কে নেবে? এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈ চাপ সৃষ্টি করে আমার মেয়েকে এখানে রেখেছে।

তিনি ওই আওয়ামী লীগ নেতার শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে প্রশান্ত বাড়ৈর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, এলাকাবাসী সবার সিদ্ধান্তে ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে রাখা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ওই স্বাস্থ্যকর্মী বাড়িতে আসার পরে আমাকে তার পরিবার বিষয়টি জানায়। আমি তাকে একটি আলাদা ঘরে রাখতে বলছিলাম। কিন্তু, তাকে যে এলাকাবাসী খুপরি ঘরে রেখেছে তা আমার জানা ছিল না।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান জানান, তারা ওই নারীকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে দিয়ে এসেছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ওসি জানান।

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, ঝুপড়ি ঘর থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে তাদের ঘরের পাশে নতুন একটি ছাপড়া ঘর তুলে সেখানে তাকে রাখা হয়েছে। এছাড়া ওই ঝুপড়িঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি ওই নারী স্বাস্থ্য কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাকে আমরা কিছু খাদ্য সহায়তা দিয়েছি এবং কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানাতে বলেছি। ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর পাঠানো হবে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ইউএনও।