Home জাতীয় মাসের শেষ সপ্তাহে অস্ত্র-মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে পুলিশ

মাসের শেষ সপ্তাহে অস্ত্র-মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে পুলিশ

54

ঢাকা অফিস।।

সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এবং মাদকের বিস্তৃতি ঘটার কারণে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশের সবক’টি ইউনিট। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে প্রতিমাসের শেষ সপ্তাহে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। গত বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি নিয়মিত মামলার আসামি ও গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মোহাম্মদ এহসান সাত্তার স্বাক্ষরিত একটি আদেশে বলা হয়েছে, ‘সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে প্রতিমাসের শেষ সপ্তাহে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার ও গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের নিমিত্তে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। উক্ত বিশেষ অভিযান ফেব্রুয়ারি ২০২২ হতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’

সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ দেশের সব মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক, সব রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে সদর দফতরের আদেশ পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের মার্চ থেকে সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যায়। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রবাজির ঘটনা ও সহিংসতায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়। সর্বশেষ গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মারমুখী সংঘাতে লিপ্ত হয়। এ ঘটনার ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই পুলিশ সদর দফতর অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিশেষ অভিযান নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমের অংশ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সারা দেশের ইউনিট চাঙা রাখতে মাঝে মধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।’

গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন দুষ্টচক্র আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক কারণেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোনও কোনও এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। এ কারণে অবৈধ অস্ত্রধারীদের দিকে নজরদারি ও অস্ত্র উদ্ধারে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদেরই গ্রেফতার করা এবং আদালত থেকে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। আর মাদকের বিস্তৃতি বেড়ে যাওয়ার কারণে এসবের সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানও চালাচ্ছে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী তার এলাকায় ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান চলছে। প্রতি সপ্তাহের অভিযান শেষে গ্রেফতার ও উদ্ধারের পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দফতরকে জানানো হবে।

ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। গত ২২ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম চলছে। অস্ত্র ও মাদকের পাশাপাশি নিয়মিত মামলার আসামি ও ওয়ারেন্ট তামিল করা হচ্ছে।’