Home আঞ্চলিক খুলনা জেলা পরিষদের দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নেত্রকোনায় স্ট্যান্ড রিলিজ

খুলনা জেলা পরিষদের দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নেত্রকোনায় স্ট্যান্ড রিলিজ

139


স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান। তাকে বগুড়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদে দুই দফায় বদলি করা হয়। সেই বদলিকে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে তাকে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) নেত্রকোনায় ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বিগত দিনে খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় করেছেন অনিয়ম দুর্নীতি। অভিযোগ সূত্রে, মাহাবুবুর রহমান অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হয়েও নিয়েছেন প্রথম শ্রেণির সুযোগ-সুবিধা। সেই ছিলেন জেলা পরিষদের অঘোষিত চেয়ারম্যান। পরিষদে তার কথাই শেষ কথা। তার দাপটে অফিসের কর্মচারীরা সব সময়ই থাকেন তটস্থ ও বদলি আতঙ্কে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরও ছিলেন বহাল তবিয়তে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা জেলা পরিষদের একজন কর্মকর্তা বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ। বয়সে বৃদ্ধ হওয়ায় তিনি থাকতেন অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এ সুযোগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ছিলেন ছায়া চেয়ারম্যান। ভৌতিক প্রকল্প তৈরি ও দরপত্রবিহীন উন্নয়নকাজসহ পরিষদের সব ক্ষেত্রেই চলছে চরম নৈরাজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতা।


স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকা লোপাটই ছিল তার মূল লক্ষ্য। এসব অপকর্ম ঠেকাতে ঢাল হিসাবে অবৈধভাবে বের করেন দৈনিক একটি পত্রিকা। যার সম্পাদক ছিলেন তিনি নিজেই। কোনো সাংবাদিক তার অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করতেন তিনি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবুর রহমানকে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা পরিষদে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি বগুড়া জেলা পরিষদে যোগ না দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চাকরি করেন খুলনায়। এরপর তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদে আবারও বদলি করে। কিন্তু সেখানে যোগ না দিয়ে খুলনা জেলা পরিষদে বহাল তবিয়তে আছেন।