Home আন্তর্জাতিক ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ভাইরাল স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এর অর্থ কী

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ভাইরাল স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এর অর্থ কী

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তা ফ্রান্সের স্কুলছাত্রদের আন্দোলনের স্লোগানে পরিণত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই স্লোগান বেলজিয়াম ও ইতালিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, স্ন্যাপচ্যাটে বার্তাটি একজন ছদ্মবেশী পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এসেছে। ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’—এই বাক্য এখন ফ্রান্সের বিভিন্ন স্কুলে চলা বিক্ষোভের পরিচিত স্লোগান হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভের সময় স্কুলের বাইরে কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে স্লোগানটি লেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি প্যারোডি ভিডিওর মাধ্যমেও এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও স্লোগানটি পুনরাবৃত্তি করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই বাক্য এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।

‘বিসমিল্লাহ’ আরবি শব্দের অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। অন্যদিকে, ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ বলতে বোঝায় ‘এটাই অন্ধকার’।

তরুণদের কথ্য ভাষায় এটি কোনো ভয়াবহ, হতাশাজনক বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সব মিলিয়ে বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়, ‘আল্লাহর নামে, এ তো অন্ধকার।’ বাক্যটি আসলে অস্পষ্ট। শিক্ষার্থীদের মতে, এ কারণেই এটি ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে।

যেভাবে শুরু

ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটির সূত্রপাত একটি স্ন্যাপচ্যাট বার্তা থেকে।

অক্টোবরের শুরুতে বার্তাটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। তখন শিক্ষার্থীরা স্কুল অবরোধের পরিকল্পনা করতে এই অ্যাপ ব্যবহার করছিল। বার্তাটিতে ‘মামাদু’ নামের এক ব্যবহারকারী একটি গ্রুপে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

বার্তার সঙ্গে আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজিও ছিল। অন্য কিছু স্ক্রিনশটে দেখা যায়, একই ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের স্থান এবং আতশবাজি ও স্মোক গ্রেনেড কোথায় পাওয়া যায়, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।

এসব বার্তা দেখে অনেক শিক্ষার্থীর সন্দেহ হয় যে, পুলিশের সদস্যরা কিশোর সেজে তাদের প্রতিবাদী গ্রুপে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, আরবি শব্দ, কথ্য ভাষা ও জাতীয় পতাকার অস্বাভাবিক ব্যবহার থেকেই এই সন্দেহ তৈরি হয়। তবে বার্তাগুলো সত্যিই পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

পুলিশ কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে ঢুকেছিল?

ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশে ঢুকেছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ফরাসি পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটগুলোর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকজন দাবি করেছেন, অ্যাকাউন্টগুলোর অবস্থান পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি ছিল। তবে এসব দাবির পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশট ভুয়া বা ব্যঙ্গাত্মকভাবে তৈরি করা হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের গ্রুপে পুলিশ অনুপ্রবেশ করেছিল, এমন দাবি এখনো প্রমাণিত নয়।

ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা কেন বিক্ষোভ করছে?

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বে ক্রেতেই শহরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে গাদাগাদি শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষকদের অনুপস্থিতিসহ নানা সমস্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

অনেকের মতে, এসব সমস্যায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের উপশহর এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ২ অক্টোবর বিক্ষোভের কারণে প্রায় ৪০০টি স্কুল বন্ধ ছিল।

পরে ১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাব পড়ে। ওই বিক্ষোভের একপর্যায়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ফ্রান্স ছাড়িয়ে ইতালি ও বেলজিয়ামেও ছড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের স্লোগান

ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘বিসমিল্লাহ, এটাই অন্ধকার’ স্লোগানটি এখন অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালি, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে বিভিন্ন বিক্ষোভে এই স্লোগান ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ প্যারিসের উত্তরে সেন-সাঁ-দেনিস এলাকায় ধর্মঘটরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্লোগানটি ব্যবহার করেন।

গত ৯ অক্টোবর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজিত বিক্ষোভেও স্লোগানটি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে এটি ফরাসি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর ইতালির বোলোগনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভেও স্লোগানটি শোনা যায়। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মিলানের বিক্ষোভেও এটি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া জার্মানির বার্লিনে একটি ফরাসি স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্লোগানটি লেখা ব্যানার হাতে ছবি তুলতে দেখা যায়।