ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোলকনগর গ্রামে জিকে সেচ খালের ওপর ইট পাথর আর লোহার রড দিয়ে তৈরি ব্রিজটি এখন গ্রামবাসীর মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে এই ব্রিজটি ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লে স্থানীয়রা টাকা উঠিয়ে কাঠ দিয়ে তালি মেরে কোনোরকম চলাচল করছেন। ব্রিজটির ওপর দিয়ে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গ্রামের ৩ জন মানুষ মারা গেছেন।
আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। লণ্ডভণ্ড এই ব্রিজটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোলকনগর গ্রামে জিকে সেচ খালের ওপর নির্মিত। গোলকনগর গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দিন জানান, জিকে সেচ প্রকল্পের গোলকনগর খালের ওপর এই ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। এতে খালের দু’পাড়ের প্রায় ২০ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী ভাঙা ব্রিজের ওপর কাঠের পাটাতন দিয়ে যাতায়াত করছেন। শৈলকুপার হাট ফাজিলপুর-নিত্যনন্দনপুর বাঁওড় এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা গোলকনগরের খাল। এই ব্রিজ দিয়ে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কৃষি মালামাল পরিবহন করা হয়।
ব্রিজের পশ্চিমে নিত্যনন্দনপুর ইউনিয়ন। পূর্ব দিকে হাট ফাজিলপুর বাজার। নিত্যনন্দনপুর ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০ গ্রামের মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু বছরের পর বছর ব্রিজটি ভেঙে থাকার কারণে এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এমপিরাও এই ব্রিজটি নির্মাণে কোনো ভূমিকা রাখছেন না। খালের দুই পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও ভাঙা ব্রিজের কারণে গাড়ি চলাচল করতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, ব্রিজটি বহুদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় আছে। অনেকে মারা গেছে, অনেকে পড়ে আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের এমপি সাহেবের কাছে কয়েকবার গিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সবাই বলে এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্রিজ, তারাই নির্মাণ করবে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, আমাদের কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেই। যতটুকু বাজেট হয়, সেগুলো দিয়ে আমরা মেরামত কাজ করে থাকি। এই ব্রিজের সমস্যার কথাটা আমি জানি। শুধুমাত্র এই ব্রিজ না এমন বহু ব্রিজ ভেঙে গেছে। আমরা ব্রিজগুলো নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। পাস হয়ে আসলে নতুন নতুন ব্রিজ তৈরি করা হবে। বাজেট পাস না হলে আমার কিছুই করার নাই।








































