# বেড়েছে চিকিৎসা সেবার মান# রোগীদের হয়রানি বন্ধ # আগের তুলনায় ডাক্তার দিগুণের বেশি# কিডনি বিভাগের নতুন ইউনিট চালূ # ভর্তি রোগীদের ঔষধ শতভাগ নিশ্চিত
মো. জামাল হোসেন।।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ১৬ জেলার ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। বর্তমান পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহিন দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় বছরে হাসপাতালে এসেছে অনেক পরিবর্তন। বদলে গেছে হাসপাতালের চিত্র। হয়রানি আর ভোগান্তির পরিবর্তে এখন রোগীদের মুখেই শোনা যায় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রমের প্রশংসা।
বর্তমানে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরের রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সরবরাহসহ সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন চিকিৎসা নিয়ে সন্তষ্ট চিত্তে বাড়ি ফিরছেন রোগীরা, অন্যদিকে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল সেবার সুনামও ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারী পরিচালক হিসেবে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে যোগদান করেন যশোরের সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহিন। যোগদানের পরই তিনি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসাবান্ধব পরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন।
এর অংশ হিসেবে তিনি গেল দেড় বছরে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত, মহিলাদের জন্য কিডনি বিভাগের নতুন ৬টা বেড চালু, অপারেশনরের পর রোগীদের রাখার জন্য একটি পোস্ট অপারেটিভ ওর্য়াড চালু, ৩বছর যাবৎ অচল থাকা ইটিটি মেশিন সচল। দেড় বছর বন্ধ থাকা হার্ডের রোগীর জন্য হলটার মনিটরিং মেশিন সচল। নতুন গাড়ি পার্কিং ও নতুন ওটি কমপ্লেক্রা চালু। কিডনি রোগীদের জন্য ভাসকুলার সার্জারী বিভাগ নতুন চালু, অফিসের চেইন ইন কমান্ড আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন, নির্দিষ্ট দিন ও সময় ব্যতিত হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ নিষেধ। ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের সপ্তাহে ২দিন বেলা ১টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সাক্ষাৎ, দালাল নির্মূলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, ১০ মিনিট পর পর হাসপাতাল কর্তপক্ষ সেন্টাল সাউন্ডে মাকিং প্রচার করা হয়। এ বছর নতুন নতুন আইটেম ঔষধ চালু হয়েছে। হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা ৯৯ ভাগ ঔষধ পায়, আউটডোরের রোগীরা পর্যাপ্ত ঔষধ পাচ্ছে,হাসপাতালের পরিস্কার পরিছন্ন প্রতি বিশেষ জোরদার, স্টাফদের মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পদনা- সম্পণা শুরু হয়েছে, মেডিকেল অফিসার আগে ছিল ১১ জন বর্তমানে ২৭ জন, গেল দেড় বছরে পরিচালক হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে পরিচালক প্রতিদিন হাসপাতালে রাউন্ড নিশ্চিত করেন, হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি ও পুরনো অচল ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়।
হাসপাতালে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অক্সিজেন প্যান্টে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ট্রান্সফরমার ও থ্রি ফেজ মিটার স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহিন। আগে হাসপাতালে সুযোগ না পেয়ে ও দালাল দ্বারা প্ররোচিত হয়ে অনেক রোগী বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতেন। কিন্তু বর্তমানে রোগীদের কোন পরীক্ষা পরিচালকের অনুমতি ব্যতিত বাইরে না পাঠানোর নির্দেশ দেন। এতে একদিকে যেমনি হাসপাতালের রাজস্ব বাড়ছে, তেমনি রোগীরাও স্বল্প খরচে মানসম্পন্ন পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতারণা ঠেকাতে হাসপাতালে মানি রিসিট ছাড়া সবধরণের লেনদেন বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
হাসপাতালে বেসরকারি এম্বুলেন্স ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের সেবার মান বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরের রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সরবরাহসহ সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা নিয়ে সন্তষ্ট চিত্তে বাড়ি ফিরছেন রোগীরা, অন্যদিকে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল সেবার সুনামও ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।
আবু নাসের হাসপাতালে মঙ্গরবার সকালে কথা হয় ডুমরিয়া উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক মোঃ মফিজ মোড়রের সাথে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি দীর্ঘ ছয় বছর এ হাসপাতালে চিকিৎসা নেই এখন যে পরিবেশ এরকম আগে কোন দিন পাইনি। আগে ডাক্তার দেখাতে খুব কষ্ট হয়তো। এমন দিন গেছে আমি ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আর এখন ডাক্তার দেখাতে পারি খুব সহজেই। আর কোন ঔষধ পাইতাম না এখন অনেকটা ঔষধ পাই।
দিঘলিয়া উপজেলা থেকে আসা মাজেদা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি অনেক দিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলাম। টাকার জন্য ডাক্তার দেখাতে পারছিলাম না। এ হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার দেখানোর পর ফ্রি পরীক্ষা করছি। আর হাসপাতাল থেকে ঔষধ পেয়েছি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আগের তুলনায় এখন শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের সেবার মান অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমান পরিচালকসহ সকল চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মিলে সম্মিলিতভাবে সেবার মান বাড়াতে কাজ করছি।
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহিন এ প্রতিবেদককে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঢাকার একাংশ, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৬টি জেলার মানুষ শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সেবা নেয়। আমরা রোগীদের শতভাগ গুণগত মান সেবা নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করছি। হাসপাতালে আগে মেডিকেল অফিসার ছিল ১১জন, বর্তমানে ২৭ জন। প্রতিদিন হাসপাতাল মনিটরিং, সন্ধ্যায় আমি নিজেই রোগীদের খোজ খবর নেই। ভর্তি রোগীদের শতভাগ ঔষধ দেওয়ার চেষ্টা করছি ও আউটডোরের রোগীদের পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করা হয়। আমি হাসপাতালের যোগদানের পর অনেক অচল ইউনিট সচল করেছি এবং নতুন ইউনিটও চালু করছি। ভর্তি রোগীদের খাবারের মান আগের তুলনায় এখন উন্নত। নতুন ডায়লাসিস ইউনিট ও আধুনিক এটি রান্নাঘর করার পরিকল্পনাও আছে ।
উল্লেখ্য, ৩০শে মার্চ ২০১০ সালে ১৩ একর জমির উপর নির্মিত হয় শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ।











































