স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মর্যাদার লড়াইয়ে জমে উঠেছে ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনের দৃশ্যপট। একদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিবি) সাবেক সভাপতি বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার লবির লড়াই। নির্বাচন শুরুর সময়ে এগিয়ে থাকা সাবেক এমপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা শেষ সময়ে এসে অনেকটাই চ্যালেঞ্জে পড়েছেন। ইতিমধ্যে তাকে জেতাতে জনসভা ও গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন জামায়াত জোটের নেতা মামুনুর হক, হাসানাত আব্দুল্লাহের মতো হেভিওয়েট নেতা। তারপরও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক ও সনাতনী ভোটের কঠিন হিসেবে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত ও মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু ব্যবহার করে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন আলী আসগার লবি। মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আসনের ও আলী আসগার লবি খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ফুলতলা উপজেলার চারটি ইউনিয়ন মোট আঠারোটি ইউনিয়ন মিলে জাতীয় সংসদের ১০৩ নম্বর আসনটি জেলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় এলাকা। প্রথম থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে একক আধিপত্য ধরে রাখে আওয়ামী লীগ। ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া বাকীগুলোতে জয় পেয়েছে দলটি। নির্বাচনে না থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংদস নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে মূল নিয়ামক সেই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকই।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা-৫ সংসদীয় আসনে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ আসনটিতে প্রার্থী হয়েছেন ৪ হয়েছেন। খূলনার একমাত্র নারী প্রার্থী জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন ইয়াসমীনও এই আসনের প্রার্থী, এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র চিত্তরঞ্জন গোলদার। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৪, নারী ২ লাখ ৩ হাজার ৪৪৩ ও হিজড়া একজন।
পরিসংখ্যান বলছে, খুলনা- ৫ আসনটিতে কোন নির্বাচনে এককভাবে জামায়াত ইসলামী প্রার্থী জয়ী হতে পারেনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে জয় পান জামায়াত ইসলামী নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী নারায়ন চন্দ্র চন্দকে চার হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে চন্দ পরাজিত করেন পরওয়ারকে। সেবার নারায়ন চন্দ্র চন্দ পান এক লাখ ৪৪ হাজার ৬০০টি ভোট; অন্যদিকে গোলাম পরওয়ার পান এক লাখ তিন হাজার ৩১২ ভোট। ২০১৪ সালে নারায়ন চন্দ্র চন্দ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি নেতা এইচ এম এ গফফার, ১৯৯৬ সালের বিএনপি নেতা ডা. আব্দুল হক এমপি হন। বাকী সবকটি নির্বাচনেই জয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এককভাবে ২৬ হাজার ২১১ ভোট পান পরওয়ার, এ সময় বিএনপি প্রার্থী মাজিদুল ইসলাম পান ৩৩ হাজার ২৩৯ ভোট। এ নির্বাচনে ৬৩ হাজার ২১১ ভোট পেয়ে জয় পান আওয়ামী লীগ নেতার ও সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন ইউসুফ। প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ফুলতলা উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া বিএনপি প্রার্থী আলী আসগার লবি ডুমুরিয়া উপজেলার মানুষ ও খুলনায় আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এ এইচ এম আলী হাফিজের (সত্তর দশকে সভাপতি) ছেলে।
নির্বাচনী এলাকার ভোটার সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, এবারের নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনটি বিএনপি ও জামায়াত জোটের কাছে মর্যাদার লড়াইয়ের। নির্বাচনের শুরুতে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে ছিলেন এই আসনের সাবেক এমপি জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার। সনাতন অধ্যুষিত এলাকায় একাধিক জামায়াতের হিন্দু শাখা গঠন ও এই শাখার শীর্ষ নেতা ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দীকে খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা-দকোপ) আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে চমক দেখান। এছাড়া সভা-সমাবেশে ঢাক-ঢোল নিয়ে সনাতন নারী-পুরুষদের অংশগ্রহণ ভোটের মাঠের চিত্র পাল্টে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন। তবে শেষ মুর্হূতে সেই অবস্থার চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী আলী আসগর লবি। দলের মতপার্থক্য নিরসন, নিরবিচ্ছিন্ন গণসংযোগ এবং তার প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার), আওয়ামী লীগ সমর্থকের সমর্থন পাল্টে দিচ্ছে পুরনো হিসেব নিকাশ। মহান মুক্তিযুদ্ধ, নারী, সনাতন ভোটার নিরাপত্তা ইস্যু ব্যবহার করে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন আলী আসগার লবি। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের ভোটের প্রচারে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচত মামুনুল হক, হাসনাত আব্দুল্লাহের উপস্থিতিও আওয়ামী লীগ মনোভাবাপন্ন ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে শেষ সময়ে জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার ও বিএনপি নেতা আলী আসগর লবির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে আসনটিতে। অল্প ভোটের ব্যবধানে হতে পারে জয়-পরাজয়ের হিসেব-নিকাশ।
স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, এই আসনটি জামায়াতের ইসলামীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তার কোনভাবেই তাদের দলের শীর্ষনেতাকে পরাস্ত হতে দিতে চাইবে না। আবার বিএনপিও ছাড় দিচ্ছে না। বিশেষ মুক্তিযুদ্ধ ও নারী ইস্যু কাজে লাগাচ্ছেন। প্রথমে জামায়াত ইসলামী শক্ত অবস্থানে থাকলেও প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে ভোট কেন্দ্রের পরিবেশের ওপর











































