Home সম্পাদকীয় এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: অপরাধীদের কঠোর শাস্তি কাম্য

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: অপরাধীদের কঠোর শাস্তি কাম্য

10

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দীর্ঘ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই।

স্মরণ করা যেতে পারে, পূর্ববর্তী মেয়াদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পর ছাত্রলীগ সাংঘাতিক রকমের বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। ছাত্রলীগের দুর্দমনীয় আচরণ ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সে সময় দেশব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় তাদের নিরস্ত করার বিভিন্ন উপায় ও ফর্মুলা উদ্ভাবিত হলেও বস্তুত কোনো ফর্মুলাই কাজে আসেনি। তখন এমন কোনো দিন ছিল না- যেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দুষ্কর্মের খবর পাওয়া যেত না। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যে কোনো সংকট ও ক্রান্তিকালে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ এক সময় অনন্য মর্যাদা ও জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিল। অথচ বর্তমানে কিছু নেতাকর্মীর কার্যকলাপ সংগঠনটির ললাটে এঁকে দিয়েছে কলংক চিহ্ন, যা মেনে নেয়া কষ্টকর। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ‘ক্যাডার পলিটিক্স’ চিরতরে বন্ধ করতে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য একটি শুভ প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটেছে- এ বিশ্বাস আমরা করতে চাই।

সমাজে সাধারণত যেসব অন্যায়-অপকর্ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, তার মধ্যে নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য হচ্ছে ধর্ষণ। দেখা যাচ্ছে, দেশে ছয় মাস বয়সী শিশু থেকে কিশোরী, তরুণী, এমনকি মধ্যবয়সী নারীরাও ধর্ষকের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। কিছুদিন পরপরই এখানে-ওখানে, ঘরে-বাইরে, বাসে, রাস্তায়, স্কুল-কলেজে, মাদ্রাসায় ও কর্মস্থলে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, যা রোধ করা জরুরি। নারী নির্যাতন রোধে বিভিন্ন আইন ও তাতে শাস্তির বিধান থাকলেও নৈতিক স্খলন ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে নারীর ওপর সহিংসতা বাড়ছেই। যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধের মাত্রা কমে আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ছোট-বড় সব নারীর সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নারীর ওপর সহিংসতা বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা নিন্দনীয় ও জঘন্য অপরাধের পর্যায়ভুক্ত। এ ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধী হিসেবে যথাযথ বিচারের সম্মুখীন করা হোক। এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে এবং এটি দেশের মানুষের জন্য যেমন মঙ্গলজনক, তেমনি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্যও শুভ হবে।