Home আঞ্চলিক যশেরে সপ্তাহ পরে সড়কে ফিরেছে ট্রাফিক পুলিশ, সাথে আছে শিক্ষার্থীরাও

যশেরে সপ্তাহ পরে সড়কে ফিরেছে ট্রাফিক পুলিশ, সাথে আছে শিক্ষার্থীরাও

12

শহিদুল ইসলাম দইচ যশোর।
সরকার পতনের পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে যশোর শহরের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে যশোরের ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ সদস্যরা। সোমবার সকাল থেকে যশোর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কাজ শুরু করেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।
এদিন সকালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিদর্শকসহ সকল কর্মকর্তারা সড়কে দায়িত্ব পালনে নামলে তাদেরকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিগত এক সপ্তাহ শিক্ষার্থী ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশংসা এবং সাধুবাদ জানান ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
সরজমিনে সোমবার সকাল থেকে ট্রাফিক পুলিশ শহরের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নামলেও ট্রাফিক কার্যক্রমে সহোযোগিতা করতে দেখা গেছে রেডক্রিসেন্ট ও স্কাউট সদস্যদের।
এর আগে সরকার পতনের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা, ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র লুটপাট হয়। অনেক হতাহতের মধ্যে আতঙ্কে বেশিরভাগ থানা ও ট্রাফিক বিভাগ পুলিশশূন্য হয়ে পড়ে। সড়কে দায়িত্ব পালন প্রত্যাহার করেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। এতে সড়কে ভেঙে পড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সামাল দিতে মাঠে নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা বয়সী শিক্ষার্থীরা।
যশোর ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাফুজুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সকল মােড়ে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে একযোগে কাজ করছি। প্রথম দিনে তারা আমাদের উৎসাহ যুগিয়েছে। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সকলে কাজ করছে। সাধারণ মানুষও আমাদের স্বাগত জানিয়েছে।
শারমিন ঝুমুর নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা গত এক সপ্তাহ ধরে সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। আমরা প্রশক্ষিত না হওয়ায় কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছিল। ট্রাফিক পুলিশ নামায় আমরা খুশি। যাদের কাজ তাদেরই মানায়। আরো দুই একদিন আমরা তাদের সাথে থাকব। এখন থেকে সকলে ট্রাফিক আইন মেনে চলবে সেই প্রত্যাশা করি।
সরোয়ার হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, পুলিশ উঠে যাওয়ায় বেশ সমস্যা তৈরি হয়েছিলো। শিক্ষার্থীরা হাল ধরলেও সেটা পর্যাপ্ত ছিলো না। তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন ট্রাফিক পুলিশ নামায় শৃঙ্খলা ফিরবে। আর শিক্ষার্থীদের এখন উচিৎ ঘরে ফিরে যাওয়া এবং পড়াশোনায় মন দেওয়া।
আরেক মোটরসাইকেল চালক নাইমুর রহমান বলেন, ‘বিগত দিনে যশোর শহরে অনেক যানজট হতো। শিক্ষার্থীরা গত এক সপ্তাহ অনেক শৃঙ্খলার সাথে বিনা প্রশিক্ষণে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমরা চাই ট্রাফিক পুলিশও একইভাবে যানজট নিরসনে ও সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করুক।

জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, যশোর ট্রাফিক বিভাগের ৮৬ জন সদস্য যশোর শহর ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজে নেমেছে।
জানতে চাইলে যশোর জেলার পুলিশ প্রধান ( পুলিশ সুপার) মাসুদ আলম বলেন, ট্রাফিক পুলিশ মাঠে নেমে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি যশোর জেলার নয়টি থানার পুলিশি কায্যক্রম চালু হয়েছে।


এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, সারা দেশের থেকে যশোর অনেকটা ভাল পরিস্থিতি ছিল এবং আছে। আর সেটা এক মাত্র সম্ভব যশের বাসি এবং বিশেষ করে সাংবাদিকরা আমাকে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছেন বলেই।