Home সম্পাদকীয় বহু প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল

বহু প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল

17

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়নের পর এবার আলোর মুখ দেখেছে বহু প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা প্রবেশ করল সর্বাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগে। এর ফলে ঢাকা প্রকৃতপক্ষে আত্মপ্রকাশ করল কসমোপলিটন- মেট্রোপলিটন সিটি হিসেবে। ঢাকার যানজট নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। একটি উদাহরণ দিলেই সুস্পষ্ট হবে বিষয়টি। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিলে আসতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। সেক্ষেত্রে মেট্রোরেলে লাগবে মাত্র ৩৮ মিনিট। মেট্রোরেলে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে।

এত বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াতের জন্য কত সংখ্যক গণপরিবহন প্রয়োজন তা কল্পনাও করা যায় না। তদুপরি যানবাহন চলাচলে রয়েছে জ্বালানি, শব্দ দূষণ, কালো ধোঁয়া, কার্বন নিঃসরণ, বায়ু ও পরিবেশ দূষণ, সর্বোপরি সময় ও শ্রমঘণ্টার বিপুল অপচয়। এর পাশাপাশি বিপুল ব্যয় তো রয়েছেই। সে অবস্থায় মেট্রোরেল চালুর মাধ্যমে রাজধানীর যানজট যেমন কমবে, তেমনি জিডিপি বাড়বে ১ শতাংশ। বিদ্যুৎবাহী ও ব্যাটারিচালিত বিধায় মেট্রোরেল সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী, আরামদায়ক ও দ্রæতগতিসম্পন্ন। ফলে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে যাত্রীদের। ২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রো লাইন ৬ চালু হলে ঢাকায় কার্বন নিঃসরণ কমবে ২ লাখ টনের মতো।
মেট্রোরেল রাজধানীতে বসবাসকারী নাগরিকদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় আনবে আমূল পরিবর্তন। মানুষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আগামী দিনের উপযোগী রাজধানী বিনির্মাণে মেট্রোরেল সময়ের অনিবার্য দাবি ও বাস্তবতা। রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে পাতালরেল, সার্কুলার রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন। বিশ্বের বুকে অন্যান্য উন্নত শহর-নগরের মতো ঝাঁ চকচকে-তকতকে গতিশীল মনোরম আকর্ষণীয় ও নয়নাভিরাম একটি মহানগরী বাস্তবায়নের পথে মেট্রোরেলের অভিযাত্রা নিঃসন্দেহে এক ধাপে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে ঢাকাবাসীকে।
মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে, যা একটি অনন্য অর্জন অবশ্যই। যেমনটি হয়েছে পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেলের ক্ষেত্রে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বের কারণে, যার জন্য পুরো দেশ ও জাতি গর্ববোধ করতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু হলেও প্রথম দিকে মেট্রোরেল চলবে সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আপ ও ডাউন লাইনে। আপাতত ২০০ যাত্রী নিয়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল করলেও পরে পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেলের সংখ্যা এবং সময় বাড়ানো হবে।

 

বাড়ানো হবে বগিসহ যাত্রীর সংখ্যাও। আগামী বছর থেকে চলাচল করবে মতিঝিল পর্যন্ত। প্রথম দিকে যাত্রীদের টিকিট কাটাসহ ওঠা-নামায় সহায়তার জন্য থাকবে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে কেন্দ্রীয়ভাবে সিসিটিভির আওতায়। তবে মেট্রোরেলের যথাযথ ব্যবহারে সর্বস্তরের যাত্রীদেরও সবিশেষ দায়িত্ব ও করণীয় রয়েছে। গণপরিবহন হিসেবে মেট্রোরেলের ভাড়া কমানোর দাবিও উঠেছে ইতোমধ্যে। সার্বিক পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনা করে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেই প্রত্যাশা।