বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচিসহ কর্মবিরতির ঘোষনা কর্মরত সেবিকাদের
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার রোষানলে পড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মেডিকেল অফিসারকে বদলীর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপতালের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে ওই ডাক্তারের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে কাল বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষনা এবং কর্মবিরতির ঘোষনা দিয়েছেন শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সেবিকারা (নার্স)।
আদর্শ মানব কল্যাণ সোসাইটির শরণখোলা শাখার সদস্য সচিব সুরাইয়া আক্তার জানান, এমনিতেই দীর্ঘদিন থেকে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট চলছে। তার উপর করোনার এই সংকট মুহুর্তে একজন ডাক্তারকে বদলী করা হলে এলাকাবাসী চিকিৎসা বঞ্চিত হবে। তাই এ বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে আমরা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচীর ঘোষনা দিয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবিকা (নার্স) জোহরা খাতুন, মরিয়ম বেগম, শিখা রাণী, শাহিদা আফরিন, মমতা রানী, প্রীতি রানী সাধক জানান, একজন কর্তব্যপরায়ণ ডাঃ সিরাজুল ইসলামের বদলীর আদেশ প্রত্যাহার না হলে বৃহস্পতিবার থেকে তারা কর্ম বিরতি পালন করবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সদ্যযোগ দেয়া তরুন চিকিৎসক ডাঃ সিরাজুল ইসলাম খান সহ হাসপাতালের অধিকাংশ নার্স ও ডাক্তারা জানান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ফরিদা ইয়াসমিন যোগদান করার পর রোগী ও তাদের স্বজন এবং জন প্রতিনিধি সহ হাসপাতালে কর্মরত ষ্টাফদের নানা দুর্ব্যাবহার করে চলছেন এবং অফিস টাইম ছাড়াও ডাক্তারদের কারণে অকারণে বসিয়ে রাখেন। পান থেকে একটু চুন খসলেই তিনি দমক দেন এবং বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেন এর প্রতিবাদ করার কারণে আজ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার রোষানলে পড়তে হয়েছে। এছাড়া কথায় কথায় তিনি আমাদের (ষ্টাফদের) চাকুরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন। তার কোন কথার কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেন। তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সর্বদা ষ্টাফদের দাবড়িয়ে বেড়ান। এছাড়া তিনি কোন রোগী দেখেন না।
খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহি উদ্দিন বলেন, শরণখোলায় এমনিতেই ডাক্তার সংকট, তারপরেও করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার না দিয়া বদলীর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তাই বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ডাঃ সিরাজুল ইসলামের ধারনা সম্পূর্ন ভূল। এটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, সে ক্ষেত্রে আমার কোন হাত নেই।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, করোনা ভাইরাসের মুহুর্তে শরণখোলায় ভারত সহ বিভিন্ন দেশ থেকে বহু মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। তাদের হোম কোয়ারাইনন্টেন ও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এসময় ডাক্তারদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ মুহুর্তে একজন ডাক্তারের বদলি বা অন্যত্র চলে যাওয়া কাম্য নয়।











































