Home জাতীয় আ.লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা কাদের মির্জার

আ.লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা কাদের মির্জার

19

এবার আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ১২টায় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

লাইভে কাদের মির্জা বলেন, আমি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলে এখন সবার কাছে খারাপ হয়ে গেছি। যে দলে সম্মান নেই, সেখানে আমি

থাকব না। তবে দলের ভালো নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করে যাব। আমি বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সদস্য হয়েছি। সেখান থেকেই কাজ করে যাব। এ সময় ভবিষ্যতে কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও কোনো রকম দলীয় পদপদবির দায়িত্ব না নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে কাদের মির্জা বলেন, আপনি একসঙ্গে না পারলেও আস্তে আস্তে দলের দুর্নীতিবাজদের লাগাম টেনে ধরুন। যারা বেশি অনিয়মকারী তাদের দল থেকে বের করে দিন। আপনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন; কিন্তু আপনার প্রশাসন মাদককে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় দিনেরবেলা আলাদা রাজনীতি করলেও রাতেরবেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি হোটেলে একসঙ্গে হয়ে যায়। এরা ‘জাতীয় অপকর্ম পার্টি’ গঠন করেছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের মির্জা।

নিজের বড় ভাই সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে কাদের মির্জা বলেন, তিনি পদপদবির জন্য অপশক্তির কাছে মাথা নত করেছেন। যেদিন আমার ছোট ভাই দেলোয়ার ফাঁসি দিয়ে মারা গেছে, সেদিনই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মানসিকভাবে দূরে সরে গেছে।

কাদের মির্জার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আমাদের সময়কে বলেন, দলীয় সিস্টেম হলো- উপজেলা বা থানাপর্যায়ে কেউ পদত্যাগ করলে সেই থানা বা উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন করে নিজে সেই আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া। নিজে অপরাগ হলে কাউকে দিয়ে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কেউ যদি ফেসবুক লাইভে এসে পদত্যাগের কথা বলে সে বিষয়ে আমার কথা বলা সমীচীন হবে না।

।। কাদের মির্জার বিরুদ্ধে অভিযোগ পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ।।

কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আলাউদ্দিন হত্যার ঘটনায় করা অভিযোগটি এবার পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ থানার দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালতের বিচারক এসএম মোসলেহউদ্দিন মিজান পুনরায় তদন্তের এ নির্দেশ দেন।

গত ১৪ মার্চ একই আদালতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে ১৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলার আবেদন করেন নিহতের ভাই এমদাদ হোসেন। পরে আদালত এ ঘটনায় থানায় আর কোনো মামলা হয়েছে কিনা তা ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত সোমবার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি আদালতে প্রতিবেদন দিলে গতকাল শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলা গ্রহণ না করে অভিযোগের বিষয়ে পুনরায় তদন্ত করে এবার পিবিআইকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

গত ৯ মার্চ বসুরহাটে কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে আলাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

-খুলনাঞ্চল রিপোর্ট