Home আঞ্চলিক যাত্রীর চাপ, সেবার ঘাটতি: বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি

যাত্রীর চাপ, সেবার ঘাটতি: বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি

2

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি।।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতে টানা আট দিনের ছুটিতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিদিনই ভারতে যাচ্ছেন অনেকে। তবে যাত্রীর চাপ বাড়লেও সেই অনুপাতে সেবার ব্যবস্থা না থাকায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনির অভাব, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২৪ হাজার ৫২৩ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। পূজার ছুটিতে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইমিগ্রেশন এলাকায় চাপ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতগামী যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি না থাকায় অনেককে ভোর থেকে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে কেউ কেউ মাটিতে বসে পড়ছেন। প্রবীণ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি ও গুরুতর অসুস্থ যাত্রীদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ভ্রমণ ও বন্দরসংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়লেও সেবার মানে তার প্রতিফলন নেই। বর্তমানে ভারতে যেতে একজন পাসপোর্টধারীকে বাংলাদেশ অংশে ১ হাজার টাকা ভ্রমণকর ও ৪২ টাকা বন্দর ফি দিতে হয়। এ ছাড়া ভারতীয় অংশে দিতে হয় ৪০০ রুপি ভ্রমণকর। গত পাঁচ বছরে ভ্রমণকর ও বিভিন্ন ফি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি যাত্রীদের। তবে সে তুলনায় যাত্রীসেবার মান বাড়েনি।

ভারতগামী যাত্রী তবিবার রহমান বললেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে যাত্রী পারাপারের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ভিআইপি পরিচয়ে কিছু যাত্রীকে আগে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। সবাই সমান হারে সরকারি রাজস্ব দিলেও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া দেবাশীষ দাস বললেন, পূজার ছুটিতে যাত্রীর চাপ বাড়লেও সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে যাত্রার শুরুতেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনের ওসি সাইফুর রহমান খান জানালেন, পূজার ছুটিতে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত লোকবল বাড়ানো হয়েছে। দ্রুত তাদের বহির্গমনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দর চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীনের মতে, ছুটির সময়ে এ বন্দর দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত বেড়ে যায়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পাশাপাশি প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বললেন, পূজার ছুটিতে যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। গত তিন দিনে ২৪ হাজার ৫২৩ জন পাসপোর্টধারী এ বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন।

রুহুল আমিন আরও বললেন, যাত্রীদের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ছুটির সময়ে বাড়তি চাপ সামলাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে অসুস্থ, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা এবং অপেক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা গেলে ইমিগ্রেশনের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।