Home স্বাস্থ্য নিম পাতার ভর্তায় থাকবে সুগার নিয়ন্ত্রণ

নিম পাতার ভর্তায় থাকবে সুগার নিয়ন্ত্রণ

0

মিলি রহমান।।

তিতা স্বাদের কারণে অনেকে নিম পাতা খেতে পছন্দ করেন না। তবে সামান্য কৌশলে এই তিতা পাতাকেই করে তোলা যায় মুখরোচক। গরম ভাতের সঙ্গে নিম পাতার ভর্তা যেমন দারুণ জমে ওঠে, তেমনি এর রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। যাঁরা তিতা খাবার একেবারেই পছন্দ করেন না, তাঁরাও একবার এই পদটি চেখে দেখতে পারেন।

বাঙালির রান্নায় ভর্তা বা বাটার কদর রয়েছে বরাবরই। আলু, বেগুন বা শাকের ভর্তার পাশাপাশি নিম পাতার ভর্তা হতে পারে অন্য রকম একটি সুস্বাদু পদ।

যা যা লাগবে

নিম পাতার ভর্তা বানাতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না। ঘরের খুব সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই এটি তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো—

এক মুঠো তাজা নিম পাতা
সামান্য সরিষার তেল
স্বাদমতো লবণ
কাঁচা মরিচ
স্বাদ বাড়াতে অল্প পরিমাণ পেঁয়াজ (ঐচ্ছিক)


যেভাবে বানাবেন

প্রথমে নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পানি ঝরিয়ে পাতাগুলো শুকিয়ে নিন। একটি কড়াইয়ে সামান্য সরিষার তেল গরম করে নিম পাতা হালকা করে ভেজে নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, পাতাগুলো যেন বেশি ভাজা না হয়; বেশি ভাজলে পাতার স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ বদলে যেতে পারে।

ভাজা পাতা ঠান্ডা হলে তার সঙ্গে লবণ, কাঁচামরিচ ও সামান্য সরিষার তেল মিশিয়ে ভালো করে বেটে নিন। চাইলে এর সঙ্গে অল্প পেঁয়াজও মিশিয়ে নিতে পারেন। ব্যস, তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু নিম পাতার ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই ঘরোয়া পদটি।

নিমের নানা স্বাস্থ্যগুণ

শুধু স্বাদেই নয়, ঐতিহ্যগতভাবে নিমের রয়েছে নানা ঔষধি গুণ:

সুগার নিয়ন্ত্রণে: নিম পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি ছোট মানব-পরীক্ষায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট মাত্রায় তৈরি নিম পাতার নির্যাস ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিছু মানুষের রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করেছে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিমের ভূমিকার পাশাপাশি নিয়মিত শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। নিজের ইচ্ছায় ডায়াবেটিসের ওষুধ বন্ধ বা এর মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়।

রক্ত পরিশোধক: নিম পাতাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক রক্ত পরিশোধক বা ব্লাড পিউরিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

হজমশক্তি বাড়াতে: হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং বদহজমের সমস্যা কমাতে নিম পাতা বেশ কার্যকর বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় পেটের বিভিন্ন সমস্যা ও সংক্রমণেও এর ব্যবহার দেখা যায়।

কৃমিনাশক: পেটের কৃমি দূর করতে ঐতিহ্যগতভাবে নিম পাতার ভর্তা ও রস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। নিমের জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: নিম পাতায় রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান। পাশাপাশি এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ত্বকের সুরক্ষায়: ব্রণ, চুলকানি ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় বহুদিন ধরে নিম পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। নিমের জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে ত্বকের যত্নে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বাঙালির ঘরোয়া খাবারে স্বাদে ভিন্নতা আনতে নিম পাতার ভর্তা দারুণ এক সংযোজন। তবে যেকোনো খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।