Home জাতীয় ইশরাকের সেই ঘুণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ১৫

ইশরাকের সেই ঘুণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ১৫

0


ঢাকা অফিস।।

সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা-উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ঘুণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

আজ সোমবার বিকেল পৌনে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকার রেলস্টেশন-সংলগ্ন কয়েকটি বস্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক সেবনের অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন। বললেন, ‘মাদক সেবনরত অবস্থায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয়েছে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও।’

তবে ইশরাক হোসেনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এ অভিযানের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ডিএনসির কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

যেভাবে আলোচনায় গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে রুপ নেয় বিষয়টি।

এ ঘটনায় বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও তৈরি হয় অস্বস্তি। এর পরদিন রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি জানিয়েছিলেন সরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র।

তবে পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন ইশরাক হোসেন। এই খবরকে ভিত্তিহীন দাবি করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্টও দেন ইশরাক। দাবি করেন, তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

রাতভর নাটকীয়তা শেষে সোমবার সকালে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন এমন ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

এদিন দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এমনটিই জানিয়েছিলেন ইশরাক।

সেই মোতাবেক সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথাও জানালেন ইশরাক। একই সঙ্গে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় নিজের অবস্থানও তুলে ধরলেন তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ইশরাক বললেন, ‘যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি এই অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।’

পদত্যাগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আমি তাকে বলেছি, পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তী সময়ে আরও যদি এলাকা থাকে, সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, ‘তিনি সদয় সম্মত হয়েছেন এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন—ঠিক আছে, যাও, এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ করো।’

এদিন সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে প্রবেশ করেন ইশরাক। এ সময় তার অনুসারীরা ‘রাজপথের ইশরাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘ইশরাক ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ এবং ‘মাদকের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বেলা দুইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন ইশরাক।