Home আঞ্চলিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই, খালি হাতে শরণখোলার জেলেরা

ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই, খালি হাতে শরণখোলার জেলেরা

10

শরণখোলা প্রতিনিধি ।।

ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না বাগেরহাটের শরণখোলার জেলেরা। প্রায় খালি ট্রলার নিয়েই ঘাটে ফিরতে হচ্ছে তাদের। মৌসুমের পাঁচ মাস চলে গেলেও এ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেননি জেলে-মহাজনরা। সবার চোখে-মুখে হতাশার ছাপ।

চলতি সপ্তাহে সাগর থেকে উঠে আসা একেকটি ফিশিং ট্রলারের মাছ বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকায়। এতে তেল খরচও ওঠেনি মহাজনদের। লাখ লাখ টাকা লোকসানে রয়েছেন তারা। মৎস্য পল্লীতেও নেই তেমন কর্মচঞ্চলতা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এস. পারভেজ জানান, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সাগরে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছেনা বলে ধারনা করছেন তিনি।

অন্যদিকে জেলেদের অভিযোগ, ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশ সীমানায় এসে ট্রলার দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ায় তারা জালে মাছ পাচ্ছেনা। গত ২৩ জুলাই ইলিশ জেলেদের জন্য ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে লাখ লাখ টাকা ধারদেনা করে তারা মাছ ধরতে সাগরে যান। গত এক মাসে সাগরে জাল ফেলে মাত্র ৩০/৩৫ হাজার টাকার মাছ পেয়েছেন তারা।

জেলেরা বলেছেন, গত সাতদিনে তারা জাল ফেলে একটি ইলিশেরও দেখা পাননি। এ অবস্থায় তাদের মাছ ধরা ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। গত কয়েক বছরে সাগরে মাছ কম ধরা পড়ায় জেলেরা তাদের পেশা বদলের চিন্তাভাবনা করছেন।

তাদের শঙ্কা, সাগরের যে অবস্থা তাতে জেলে-মহাজনদের এবার ভিক্ষার ঝুলি নিয়া রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় নাই। সাগরে কোনো মাছ নাই। একেক জন ট্রলার মালিক ও আড়তদার আট লাখ, দশ লাখ টাকা করে লোকসানে আছে। সামনের মৌসুমে সাগরে নামার মতো পুঁজিও অনেকের কাছে নাই।

ইলিশের ভরা মৌসুমের সময় ৬৫ দিনের অবরোধ থাকায় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। ভারতীয় জেলোর সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে মাত্র ২০-২৫ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়। অবরোধের সময় ভারতীয় জেলেরা মাছ না ধরলে সেই মাছটা এখন দেশের জেলেদের জালে ধরা পড়ত। যার ফলে, দেশীয় জেলেরা এখন লোকসান গুনছে।

বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বাগেরহাট জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে সহস্রাধিক ফিশিং ট্রলার রয়েছে। এরমধ্যে শরণখোলায়তেই রয়েছে তিন শতাধিক ফিশিং ট্রলার। এবার কোনো ট্রলারেই ভালো ট্রিপ হয়নি। তেল খরচও উঠছে না অনেকের।

ভারতের জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মৎস্যজীবীরা বলেন, এখনো ভারতের জেলেরা আমাদের জলসীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারতে একই সময়ে অবরোধ না দিলে আমাদের জেলেরা ইলিশে মার খেতেই থাকবে। দেশীয় জেলেদের রক্ষা করতে এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।