সাব্বির আহমেদ।।
খুলনার ঠিকাদারি অঙ্গন, জমি কেনাবেচা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক লেনদেনে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ট্রাস্টি বোর্ডের প্রভাবশালী সদস্য এবং ‘আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর মালিক তৌহিদুল ইসলাম আজাদকে ঘিরে এসব দুর্নীতির জাল বিস্তার লাভ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সখ্যকে ঢাল বানিয়ে রূপসা ঘাটের ইজারাদার থেকে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ এখন খুলন জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একসময় রূপসা ঘাটে ফেরি ও নৌকা পারাপারের টোল আদায়ের কাজে যুক্ত ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম আজাদ। তবে সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ঘনিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে তাঁর ভাগ্যের চাকা। নিজের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর মাধ্যমে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের একের পর এক মেগা প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগী অন্যান্য ঠিকাদারদের বল প্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোণঠাসা করে তিনি একক আধিপত্য বিস্তার করেন।
তৌহিদুল ইসলাম আজাদকে নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে খুলনা নগরীর প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি’র স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমি ক্রয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঘিরে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের একজন প্রভাবশালী সদস্য।
অনুসন্ধান ও সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি ক্রয়ের নামে সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাবেক এমপি এস এম কামাল হোসেন এবং তৌহিদুল ইসলাম আজাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট চড়া দামে জমি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এই জমি ক্রয় প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৌহিদুল ইসলাম আজাদের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কালচারাল ব্যাংক (SBAC) থেকে চেকের মাধ্যমে মোট ৯ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জমি ক্রয়ের এই বিপুল অঙ্কের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত খাতে ব্যয় হয়েছে নাকি ব্যক্তিগত তহবিলে পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি নথি তলব করা হয়েছে। তলবকৃত নথির মধ্যে রয়েছে- চেকবই, পে-অর্ডার, চেক রেজিস্টার, ব্যাংক লেজার বই এবং অডিট সংক্রান্ত যাবতীয় নথি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির স্বত্ব ও ক্রয় প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
নগরীর বিশিষ্টজন ও সুশীল সমাজের দাবি, অভিযোগগুলোর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তৌহিদুল ইসলাম আজাদের সম্পদের প্রকৃত উৎস, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উত্তোলনকৃত ৯ কোটি টাকার গন্তব্য এবং ঠিকাদারি কাজের সমস্ত বিল ও প্রকল্পের অনিয়মের নথিভিত্তিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করারে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।











































