Home আঞ্চলিক কেসিসি’র মেগা উচ্ছেদ অভিযান: বাঁধা সৃষ্টি করায় দুই যুবক আটক, মুচলেকায় মুক্তি

কেসিসি’র মেগা উচ্ছেদ অভিযান: বাঁধা সৃষ্টি করায় দুই যুবক আটক, মুচলেকায় মুক্তি

7

জরিমানা ৪৪ হাজার টাকা, পর্যায়ক্রমে পুরো নগরী দখলের হাত থেকে মুক্ত করার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা নগরীর প্রধান সড়ক ও ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে সোনাডাঙ্গা সংলগ্ন মজিদ সরণি ও কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোডে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে চালুকৃত এই অভিযানে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯টি মামলায় মোট ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবে অভিযান চলাকালে উচ্ছেদে বাঁধা এবং কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ, যা নিয়ে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মোচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযানসূত্রে জানা যায়, কেসিসি’র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান-এর নেতৃত্বে দুপুর থেকে সোনাডাঙ্গা এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে অবৈধ ভাসমান দোকানপাট, রিকশা গ্যারেজের বর্ধিত অংশ ও অবৈধ নির্মাণসামগ্রী সরানোর কাজ শুরু হয়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে কেডিএ বাংলো সংলগ্ন এলাকায় একটি দোকান উচ্ছেদের সময় দুই স্থানীয় যুবক বিবাদ তৈরি করে এবং কেসিসি’র টিমকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেসিসি’র সম্পত্তি কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন জানান, অভিযান পরিচালনাকালে দুই যুবক এসে আমাদের টিমকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং সরকারি কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দু’জনকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হলে স্থানীয় কিছু লোক জড়ো হয়ে শোরগোল তোলে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে ইট, বালুসহ নির্মাণসামগ্রী রাখা এবং অননুমোদিত স্থাপনা গড়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৯ জন দখলদারকে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- সোনাডাঙ্গার মামুনুজ্জামান সজীব (১০,০০০ টাকা), মাসুদ (১০,০০০ টাকা), হেলাল উদ্দীন (১০,০০০ টাকা), গোলাম মোহাম্মদ খান (৫,০০০ টাকা), খসরু (৩,০০০ টাকা), শহিদুল ইসলাম (২,০০০ টাকা), মেহেদী হাসান (২,০০০ টাকা), সৌমিত্র (২,০০০ টাকা) এবং আবদুর রাজ্জাক (৫০০ টাকা)।

উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে ফুটপাতগুলো পুরোপুরি দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম চলবে। কেসিসি’র কাছে তালিকাভুক্ত সমস্ত অবৈধ স্থাপনার ওপর ধাপে ধাপে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে হকারদের অবৈধ দোকান ও যত্রতত্র ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী অপসারণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযানে বিআরটিএ’র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন, কেসিসি’র এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীনসহ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) একটি বিশেষ টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।