Home আঞ্চলিক সম্প্রীতি রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে কাজ করার আহ্বান শফিকুল আলম তুহিনের

সম্প্রীতি রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে কাজ করার আহ্বান শফিকুল আলম তুহিনের

5


খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করা এবং নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।


রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী উপলক্ষে খুলনা মহানগরীর বড়বাজার সার্বজনীন পূজামন্দির, স্বর্ণপট্টি পূজামন্দির, পশ্চিম হাসপাতালপাড়া মন্দির ও আদি কালীবাড়ি মন্দির, শিববাড়ী পূজামন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করবেন। কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, ভয়ভীতি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হবেন না। প্রত্যেক নাগরিকের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।


শফিকুল আলম তুহিন আরও বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের গুজব, উসকানি কিংবা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।


তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা চাই, সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। কোনো ধর্মের মানুষকে প্রতিপক্ষ মনে করার সুযোগ নেই। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যে আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন নির্বিঘ্নে উদ্যাপিত হয়, সে জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই অন্যের দুর্ভোগের কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা রেহানা ঈসা, শেখ শাদী, চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ, কে এম হুমায়ূন কবীর, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, মো. মজিবর রহমান, , একরামুল কবির মিল্টন, শেখ ফারুক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. নূর ইসলাম বাচ্চু, কে এম এ জলিল, জাকির ইকবাল বাপ্পি, আজিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, আবুল ওয়ারা, মিজানুর রশিদ মিজান, ইয়াজুল ইসলাম অ্যাপোলো, রফিকুল ইসলাম মাস্টার, মিজানুর রহমান, জিয়াউর রহমান খান আপন, ইয়াসিন মোল্লা, আলতাফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম, হিরন দেবনাথ, রুহুল আমিন হীরা, ইমরান হোসেন, নূর হোসেন বাদল, শরীফুল ইসলাম, আসিম, সুঝয় শাহা, মন্নি জামান, সুকুমার শাহা, মহাদেব শাহা, শিল্পী, বিপ্লব কুমার, রাজিব, কামাল হোসেন, রুহুল আমিন, মোঃ আনিস, রিপন, সুমন, পলাশ শাহা, উজ্জ্বল ব্যানার্জী, প্রদীপ সাহা মদন, করুণ রায় শিবু, শ্যামশংকর, শ্যাম দত্ত ও পোদ্দার, শিববাড়ী মন্দিরের সভাপতি মানিক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা উপস্থিত ছিলেন।