নড়াইল প্রতিনিধি।।
এক পাশ থেকে ভেসে আসছে আজানের সুমধুর সুর, অন্য পাশে শোনা যাচ্ছে মঙ্গল উলুধ্বনি। পশ্চিমে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। পূর্ব পাশেই মন্দিরে পূজার অর্ঘ্য নিবেদন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা এলাকায় এভাবেই পাশাপাশি রয়েছে মসজিদ ও মন্দির। ‘পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদে’ যেমন নিয়মিত নামাজ আদায় কার হয়। অন্য পাশে মাত্র ১০০ ফুট পূর্বে ‘মহিষখোলা সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে’ চলে পূজা-অর্চনা। এভাবেই গত ৪১ বছর মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।
চিত্রা নদীর কুলঘেঁষা পাকা সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতেই চোখে পড়ে একটি বড় আঙিনা। আঙিনার এক পাশে মসজিদ অন্য পাশে মন্দির। পাশে রয়েছে সান বাঁধানে নদীর ঘাট, সেখানে কেউ অজু করছেন, আবার কেউ পূজার সামগ্রী পানিতে পরিষ্কার করছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে স্ব-মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে এই দুটি স্থাপনা।
এ বছর নড়াইল জেলায় ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ২৪৯টি, কালিয়ায় ১৪৪টি এবং লোহাগড়ায় ১৫০টি। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সহনশীলতার মধ্য দিয়ে পাশাপাশি বসবাসের এই চিত্র নড়াইলের সামাজিক জীবনে সম্প্রীতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা যার যার ধর্ম পালন করি। নামাজের সময় পূজার গান-বাজনা বন্ধ থাকে। নামাজ শেষে আবার শুরু হয়। এ নিয়ে কখনও সমস্যা হয়নি।’
পূজা মণ্ডপে বেড়াতে আসা প্রদীপ চৌধরী বলেন, ‘পাশাপাশি জায়গায় মসজিদে নামাজ আর মন্দিরে পূজা হতে দেখে ভালো লাগছে। এখানকার মানুষ একে অপরের ধর্মকে সম্মান করেন। এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’
মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা এনামুল হক বলেন, ‘আমরা আমাদের ধর্ম পালন করি, তারা তাদের ধর্ম পালন করেন। এতে কোনো সমস্যা হয় না। ইসলাম অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে শেখায় না, বরং সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাতে শেখায়।’
মহিষখোলা সর্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শুভংকর সরকার বলেন, ‘দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে আমাদের মহিষখোলা সর্বজনীন পূজা মন্দির এবং পাশেই পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ। আমরা দুই ধর্মের মানুষ এখানে অসাম্প্রদায়িকভাবে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছি। আমরা একে অপরকে সাহায্য করি।’











































