স্টাফ রিপোর্টার।।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) তিনি উপজেলার ১নং জলমা ইউনিয়ন, ২নং বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন ও ৩নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য, পুরোহিত, ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে এবং একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াবে। শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জীবনে আনন্দ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে আনন্দ, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। উৎসবের আনন্দ কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পারস্পরিক অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে তা সর্বজনীন আনন্দে পরিণত হয়। তাই সব ধর্মের মানুষের উচিত একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখা।

আমীর এজাজ খান আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো মানুষ যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে আনন্দ ও উৎসাহ তৈরি হয়, তা সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। এ ধরনের উৎসব সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিবেশ, পূজার আয়োজন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মন্দির পরিচালনা কমিটি ও পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি তাঁদের বিভিন্ন বিষয় ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পাশাপাশি বসবাস এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। এই ঐতিহ্য ধরে রাখা সবার দায়িত্ব। ধর্মীয় পরিচয় মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার কারণ হতে পারে না; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা সমাজকে আরও শক্তিশালী করে।
তিনি দুর্গোৎসব সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান। এসময় বিএনপি ও সনাতন ধর্মালম্বী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











































