মিলি রহমান।।
শরতের নীল আকাশ, শান্ত বাতাসের স্পর্শ আর নদীর তীর ঘেঁষে ভেসে থাকা কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য। তাতেই যেন নতুন রূপ পেয়েছে খুলনার শহরতলীর ময়ূর আবাসিক এলাকা। দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্রতায় পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রকৃতির এই নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী শত শত দর্শনার্থী।

শরতের প্রতিটি পড়ন্ত বিকেলে ময়ূর আবাসিক ও তৎসংলগ্ন খালের ধারের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ জুড়ে ফুটে থাকা সারি সারি সাদা কাশফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। মৃদু রোদে সাদা কাশফুলের এমন শুভ্র দৃশ্য আরও বেশি আকর্ষনীয় হয়ে উঠছে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ফ্রেমবন্দি করতে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ছবি ও ভিডিও তোলায়। কেউ কেউ পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘাসের ওপর বসে উপভোগ করছেন শরতের শান্ত বাতাস ও নদীর সৌন্দর্য।
বিশেষ করে ময়ূর আবাসিক এলাকার উন্মুক্ত সড়ক প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণী, শিশু ও পরিবার-পরিজনের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে ময়ূর আবাসিকের এই কাশবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে পুরো খুলনা নগরী ও আশপাশের এলাকায়।

দর্শনার্থীদের বাড়তি সমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছোটখাটো বিক্রেতা ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কেনাবেচাও জমে উঠেছে। ফুচকা, চটপটি, চা-জলখাবার ও শিশুদের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকে। এতে এলাকাটিতে সাময়িক হলেও আয়ের এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শহরের ব্যস্ততা ও ইট-কাঠের যান্ত্রিকতা থেকে একটু স্বস্তি পেতে ময়ূর আবাসিকের এই কাশবন এখন খুলনা নগরবাসীর পছন্দের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শুভ্র কাশফুলের মায়াবী রূপ ও মানুষের কোলাহলে যেন সেখানে প্রতিদিন বিকেলেই বসছে শরতের এক নান্দনিক মিলনমেলা।











































