যশোর অফিস।।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার আগেই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে যশোর-খুলনা ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে, তেমনি বিকল হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। তবে আসন্ন ঈদযাত্রার আগে এই ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো সমাধানের আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
যশোর থেকে খুলনা এবং যশোর থেকে ঝিনাইদহগামী প্রায় ৮৫ কিলোমিটার সড়কের চিত্র এখন এমনই বিধ্বস্ত। পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে তৈরি হওয়া খানাখন্দে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। ভাঙাচোরার কারণে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে আড়াই ঘণ্টারও বেশি। ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ করছেন। তাদের আশঙ্কা, সড়কের এই বেহাল দশা অব্যাহত থাকলে এবারের ঈদযাত্রা চরম ভোগান্তির কারণ হবে।
বাসচালক শাহ আলম বলেন, ‘রাস্তা খুবই ভাঙাচোরা। যশোর-খুলনা সড়কের রূপদিয়া ও প্রেমবাগ গেটসহ চার-পাঁচটা পয়েন্টে অবস্থা খুব খারাপ। আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে যাত্রীরা যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তেমনি আমরাও চরম দুর্ভোগে আছি।’
আরিফ হোসেন নামের আরেক বাসচালক বলেন, ‘খুলনা থেকে সকাল সাড়ে সাতটায় রওনা দিয়ে যশোর পৌঁছাতে আড়াই ঘণ্টা লেগেছে; অথচ এটি এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের রাস্তা। গাড়ির প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। সামনে ঈদের সময়, কিন্তু রাস্তার কারণে গাড়িতে যাত্রীও কম হচ্ছে।’
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের দুরবস্থার কথা জানিয়ে মইন হোসেন নামের এক চালক বলেন, ‘রাস্তায় চলাচলে খুবই কষ্ট হচ্ছে। গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং যাত্রীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দ্রুত এই রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন।’
খুলনা থেকে আসা লাভলী খাতুন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘সকাল ৭টায় খুলনা থেকে বাসে উঠে যশোর পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা লেগেছে। রমজান মাসে রোজা রেখে ভাঙাচোরা রাস্তায় যাতায়াত করা খুবই কষ্টের। কুষ্টিয়ায় পৌঁছাতে আরও অনেক সময় লাগবে।’
ইলিয়াস হোসেন নামের অপর এক যাত্রী বলেন, ‘খুলনার রাস্তার যে অবস্থা দেখলাম, এই রোজায় মানুষ প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে। ঈদের আগেই খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ রাস্তা সংস্কার করা না হলে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।’
সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যশোর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, যশোর-খুলনা মহাসড়কের প্রায় আট কিলোমিটার অংশে রিজিড প্যাভমেন্টের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে দুই কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে এবং আগামী আট মাসের মধ্যে বাকি ছয় কিলোমিটারের কাজ শেষ হবে।
তিনি বলেন, ‘ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় ইটের সলিং ও এইচবিবি করে সড়ক মেরামত করা হচ্ছে। আশা করছি, ঈদের আগেই এই কাজ শেষ হবে এবং যশোর-খুলনা রুটে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।’
তবে যশোর-ঝিনাইদহ সড়ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই সড়কে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি প্রকল্প চলমান আছে এবং আমরা প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি হস্তান্তর করেছি। তাই ওই সড়কের ঈদযাত্রা কেমন হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর (উইকেয়ার, ফেজ-১) প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী নকিবুল বারী জানান, যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সংস্কারকাজ আপাতত হচ্ছে না। তবে বর্ষা মৌসুমকে মাথায় রেখে কিছু সংস্কারকাজের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সওজকে দিয়ে কাজটি করানো হবে।
এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, আসন্ন ঈদের আগে সড়ক মেরামতের জন্য দুই কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে।











































