Home আন্তর্জাতিক ৮০ বছর পরও দুর্ভোগে কোরিয়ানরা

৮০ বছর পরও দুর্ভোগে কোরিয়ানরা

15


অনলাইন ডেস্ক।।
৮০ বছর পার হলেও এখনও দুর্ভোগে আছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর সময় পারমাণবিক বোমা থেকে বেঁচে যাওয়া কোরিয়ানরা। এমনই একজন হলেন বে কিউং মি (৮৫)। তার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন জাপানের হিরোসিমাতে পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় হিরোশিমাতে কাজ করতেন হাজার হাজার কোরিয়ান। বে কিউংয়ের পরিবারও তখন হিরোশিমাতে কাজ করতো। ওই দিনের কথা স্মরণ করে বে বলেন, সে ওই সময় খেলছিলো। কয়েক মিনিটের মধ্যে সে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার ওপর তার ঘর ভেঙে পড়ে। তবে তার ওপর পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে তিনি বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যান। এরপর পরই স্বপরিবারে কোরিয়াতে ফিরে যান।

তবে বে কোরিয়াতে এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীকে কখনো বলিনি যে, আমি হিরোশিমাতে ছিলাম এবং বোমা হামলার শিকার হয়েছি। কারণ ওই সময় মানুষের মধ্যে এমন ধারণা ছিলো, পারমাণবিক বোমা হামলার শিকার কাউকে বিয়ে করা মানে আপনি ভুল মানুষকে বিয়ে করেছেন। তিনি যখন বোমা হামলার শিকারদের জন্য স্থাপিত একটি বিশেষ কেন্দ্রে রেজিস্টার করেন তখনই তার দুই ছেলে এ বিষয়ে প্রথম জানতে পারেন। বে বলেন, তিনি আশঙ্কা করেন, তার দুই ছেলে তেজস্ক্রিয়তাজনিত সমস্যায় ভুগবে।

তিনি জানেন, কেন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তবুও নিজের পরিবারকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা বিস্ফোরণে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত ও আহত হন। এর মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি ভুক্তভোগী কোরিয়ার। বেঁচে ফেরা মানুষরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক বোমা হামলার শিকার হওয়াতে তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। আরও এক ভুক্তভোগী হলেন কুওন জুন ওহ। তার পিতা-মাতা দুইজনই পারমাণবিক বোমার ভুক্তভোগী। তবে পারমাণবিক হামলার শিকার হওয়ার কারণে জাপানে তাদেরকে অন্যদের তুলনায় নোংরা ও বিপজ্জনক কাজ করতে হয়। এছাড়া কোরিয়ান ভুক্তভোগীদের কয়েক দশক ধরে একটি সরকারি স্মৃতিস্তম্ভ দেয়া হয়নি। শুধু ১৯৯০ সালের শেষের দিকে হিরোশিমার পিস পার্কে একটি স্মৃতিসম্ভ তৈরি করা হয়।