Home আঞ্চলিক খুলনায় স্ত্রী হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

খুলনায় স্ত্রী হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

58


স্টাফ রির্পোটার
খুলনা জেলার রূপসা থানার পুটিমারি এলাকায় নিজ স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল লিটন কুমার দেবনাথকে (ক:নং ৫৯৬) কে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. কেরামত আলী এ রায় ঘোষণা করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য খাগড়াছড়ি জেলার রামপুর পৌরসভার বাসিন্দা। তার বাবার নাম অভিলাশ দেবনাথ। এ সময় আসামি লিটন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আলমগীর হোসেন নথরি বরাত দিয়ে জানান, প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব ও পরে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আসামি লিটন কুমার দেবনাথ কৌশলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিড়িংগা কোচপাড়ার সামসুল আলমের মেয়ে আরজু আক্তারকে বিয়ে করে। লিটন দুইজকের বাবা ও ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় প্রথমে বিয়ে বা সর্ম্পক স্থাপনে আরজু রাজি ছিলেন না। এক পর্যায়ে লিটন ধর্মান্তরিত হয়ে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বিয়ে করে। একই বছর তারা বদলী হয়ে খুলনার রূপসায় চলে আসেন। সেখানে পুটিমারীতে তারা ভাড়া বাসায় থাকতো। কিন্তু তাদের দাম্পত্য কলহে বাড়িওয়ালারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। এজন্য তারা একাধিক বার বাসা বদল করেন। এরমধ্যে তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ২০২০ সালে এই দ্বন্দ্বের জেরে ২৭ ফেব্রুয়ারি লিটন আরজুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে শরীরে লোহার পাত বেঁধে আঠারবেকী নদীতে ফেলে দেয়। অথচ লিটন কুমার বাচ্চা ফেলে তাঁর স্ত্রী পালিয়ে গেছে বলে অপ্রচার করে। ২ মার্চ রূপসার শিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক মো. ফিরোজ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পুলিশের তদন্তে আরজুর পরিচয় ও হত্যাকারী সনাক্ত হলে লিটন দেবনাথ গ্রেপ্তার হন। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক লুৎফর রহমান আরজুর স্বামী লিটন কুমারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। আদালত বিভিন্ন কার্যদিবসের সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালা করেন এডভোকেট আলফাজ হোসেন শেখ।