Home আঞ্চলিক মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা কয়েকশ পরিবার

মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা কয়েকশ পরিবার

43


নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নে মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। তীব্র ভাঙনে এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে আবাদি জমি, ভিটেমাটিসহ নানা স্থাপনা। বাদ যায়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের খুঁটিও। ভাঙন কবলিত এসব এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সোমবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় মধুমতি নদী ভাঙনের এই ভয়াবহ চিত্র।

স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার মধুমতি নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছেন এখানকার মানুষ। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড শালনগর ইউনিয়নের শিয়রবর গ্রামের ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও এবার ভাঙনে ভেসে যাচ্ছে সেগুলো। ফলে আবারো ভাঙনের মুখে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। তাই ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী।

শালনগর ইউপির রামকান্তপুর গ্রামের তোতা মিয়া জানান, তাদের ৫ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত তিনবার ভাঙনের শিকার হয়েছেন তিনি। এবারো ভাঙনের আশঙ্কায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিনি ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় তোতা মিয়া, সাদ্দাম, আলাউদ্দিন, বালাম, চুন্নু মিয়া, হুমায়ুন কবীর, আরফিন মোল্যা, ওসমান মুন্সী জানান, মধুমতি নদীর ভাঙনে তাদের বাড়ি বারবার ভেঙে গেছে নদীতে। বারবার ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তারা। ভাঙতে ভাঙতে আবারো নদী এখন তাদের বসতভিটার খুব কাছে চলে এসেছে। যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে করে বসতভিটা যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এবার বাড়ি ভাঙলে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না তাদের।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিকুল আলম জানান, মধুমতি নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, স্কুল, মাদরাসা ও মসজিদ ভাঙনের শিকার হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নদীতে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে।

বৃদ্ধ আরফিন মোল্যা জানান, বসতভিটা ছাড়াও তাদের আবাদি জমি, সুপারি বাগান, পুকুরসহ ভাঙনে ৫ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অন্যের জমিতে বসতঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। সেটিও ভাঙনের মুখে রয়েছে। এরপর স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবেন সে ঠিকানাও নেই তাদের। এ কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন এই বৃদ্ধ।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, লোহাগড়া উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের ভাঙন রোধে আপাদত কোনো বরাদ্দ নেই, এ কারণে কোনো ধরনের কাজ করতে পারছি না। তবে বরাদ্দ পেলে আগামীতে ওই এলাকার ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।